গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে স্বপন
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২২, ০৯:৩০ পিএম
ফ্ল্যাট বিক্রির কথা বলে গ্রাহকদের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা রয়েছে প্রতারক আলী আজগর স্বপন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ২৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেছেন নারায়ণগঞ্জ যুগ্ম দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক এস এম মাসুদ জামান। প্রতারক স্বপন শহরের মিশনপাড়া মোড়ের ২১ নবাব সলিমুল্লাহ রোডস্থ স্বপ্ন আউটলেট ভবনের মালিক হাজী আব্দুর রশিদের পুত্র এবং সাদপন্থী তাবলীগের নেতা আসাদের ছোট ভাই। এর আগেও প্রতারক স্বপনের বিরুদ্ধে আরো বেশ কয়েকটি মামলা ও সাজার রায় হয়েছে বলে জানা গেছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রতারক আলী আজগর স্বপনের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে ২৫ লাখ টাকা নিয়ে সেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন জান্নাতুল আইরিন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, প্রতারক স্বপন রাজধানীতে একটি নির্মিতব্য ভবনের ফ্ল্যাট বিক্রির কথা বলে তাদের কাছ থেকে ২০১৩ সালে ২৫ লাখ টাকা নেয়।
কিন্তু স্বপন সেই ভবন নির্মাণ করেনি এবং তাদেরকে ফ্ল্যাটও বুঝিয়ে দেয়নি। পরে বিচার শালিসে ২০১৯ সালের ৭ জুলাই আসামী আলী আজগর স্বপন ইস্টার্ন ব্যাংক শাখায় নিজের একাউন্টের ২৫ লাখ টাকার একটি চেক বাদিনীকে প্রদান করেন। ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই চেকটি ডিজঅনার হয়। পরে ২৩ জুলাই লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করলেও আসামী কোন টাকা দেননি।
পরে আদালতে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ যুগ্ম দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক এস এম মাসুদ জামান আসামী আলী আজগর স্বপনকে এনআই এ্যাক্ট এর ১৩৮ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্তপূর্বক ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং চেকে বর্ণিত টাকা অর্থাৎ ২৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন।
অর্থদন্ডের টাকা অর্থাৎ চেকে বর্ণিত ২৫ লাখ টাকা অভিযোগকারী প্রাপ্ত হবেন। রায় ঘোষণার পর থেকে ৬০ দিনের মধ্যে উল্লেখিত অর্থদন্ডের সমূদয় টাকা দাখিলের জন্য আসামীকে নির্দেশ প্রদান করা হলো। ব্যর্থতায় উক্ত অর্থদন্ডের টাকার ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৮৬ ধারার বিধান মোতাবেক আদায়যোগ্য হবে। আসামী পলাতক থাকায় আসামী পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার কিংবা সেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণের তারিখ হতে সাজার মেয়াদ শুরু হবে।
সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়া ইস্যু করেছে আদালত। এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট বিক্রির কথা বলে বেশ কয়েকজন গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি টাকার উপরে হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক স্বপন। তার বিরুদ্ধে আদালতে আরো বেশ কিছু মামলার কার্যক্রম চলছে।
যার মধ্যে ইতিমধ্যে দু’টি মামলায় প্রতারক স্বপনের সাজার রায়ও হয়েছে। রায় ঘোষণার আগে থেকেই প্রতারক স্বপন লাপাত্তা রয়েছে। জানা গেছে, ধর্মীয় লেবাস এবং শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশনপাড়া মোড়ে স্বপনদের মালিকানাধীন বহুতল ভবনের কারণে অনেকেই সরল বিশ^াসে স্বপনের প্রতারণার ফাঁদে পা দেয়।
২০১৩ সালেই রাজধানীর ঢাকায় একটি জমিতে মদিনা ডেভেলপার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল স্বপন। স্বপনের সেই পাতা ফাঁদে নারায়ণগঞ্জের জান্নাতুল আইরিনের মতো আরো অনেকেই পা দিয়েছিল। বর্তমানে প্রতারণ স্বপনকে খুঁজছে পুলিশ। তাকে গ্রেফতারে স্বপনদের মিশনপাড়াস্থ বাসভবনেও একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে।
তবে স্বপন লাপাত্তা হওয়ায় তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ভুক্তভোগীদের দাবি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবিলম্বে প্রতারক স্বপনকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক। তাহলে স্বপনদের মতো প্রতারকরা আর ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রতারণা করার সাহস করবেনা।


