নির্মাণাধীন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে চলছে পুরোদমে কাজ। ইতোমধ্যে এর লেক, ড্রেনেজ আর অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো করা হয়েছে পাকা। আবার প্লটের আকার, ভবনের অনুমোদন নিয়ে দাড়ানো অট্টালিকা আর বিশেষ বিশেষ দফতর সেজে আছে দৃষ্টিনন্দনভাবে। ফলে এ অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ দর্শনার্থীদের রয়েছে আনাগোনা। তাই স্থানীয় শতাধিক তরুণরা বিভিন্ন পয়েন্টে ওই দর্শনার্থীদের খাবার সুবিধায় গড়ে তুলেছে অস্থায়ী রেস্টুরেন্ট। এসব রেস্টুরেন্টে কোথাও সম্মিলিত কোথাও এককভাবে বিনিয়োগ করা হয়েছে লাখ লাখ টাকা।
করোনা পূর্ববর্তি এ অঞ্চলের অস্থায়ী খাবার হোটেল ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে লাভবান হলেও গত ২ বছরে করোনার ধাক্কায় বন্ধ হয়ে যায় এসব রেস্টুরেন্ট। কারন ক্রমেই কমতে শুরু করে দর্শনার্থীদের যাতায়াত। তবে দুএকটি স্থানে এখনো চাঙ্গাভাব দেখা গেছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়,পূর্বাচলের ১নং সেক্টর এলাকা দিয়ে বয়ে চলেছে বালু নদী।
এখানেই নির্মান হচ্ছে শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম। এ সেক্টরটি রাজধানীর অতি কাছের হওয়াতে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থী আসেন এখানে। আর তাই সবচেয়ে বেশি রেস্টুরেন্ট আর দেশীয় সবজি ও ফলের বাজার এখানেই। নদী পাড়ে বসে চাপটি,মলকা,হাঁসের মাংস আর তান্দুরী চা পানে ব্যস্ত থাকে দর্শনার্থীরা। এখানেই রয়েছে প্রায় শতাধিক অস্থায়ী রেস্টুরেন্ট।
এরপর রয়েছে জয়বাংলা চত্ত্বর, শহীদ ময়েজউদ্দিন চত্ত্বর, হেলিপ্যাড চত্ত্বর,মধুখালী সমু মার্কেট, ২১ নং সেক্টরের লেকপাড়, ১৩ নং সেক্টরের ইকো পার্ক, শীতলক্ষ্যা পাড়, পূর্বাচল রাজউক ভবনসহ অর্ধশতাধিক স্পট। যেখানে প্রতি স্পটে রয়েছে এমন শতাধিক অস্থায়ী রেস্টুরেন্ট।
পূর্বাচলের আলমপুরের বাসিন্দা শরীফ মিয়া বলেন, করোনার পূর্বে পূর্বাচলের প্রতিটি স্পটে হাজারো দর্শনার্থীর আনাগোনা ছিলো। করোনার পর প্লট দেখার কাজ ছাড়া সাধারণ দর্শনার্থী কমে গেছে। এর কারন হিসেবে তিনি আরো বলেন, ৩শ ফুট সড়কের কাজ বা অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আস্থাশীল নয় ভেবে দর্শনার্থী কমে গেছে।
তরুণ উদ্যোক্তা সুলপিনা এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম মাস্টার বলেন, করোনা পূর্ববর্তীতে আমাদের ৩ জনের করা হ্যালিপ্যাড রেস্টুরেন্ট থেকে ভালো আয় হয়েছিলো। কিন্তু ২০২০ সালের মার্চের পর করোনার কারনে রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দেই।এরপর যে টাকা খরচ করেছি তা আর ওঠাতে পারিনি। বরং অস্থায়ীভাবে বাঁশ, ছন দিয়ে করা ঘর নষ্ট হয়ে সব শেষ হয়ে গেছে। এতে আমরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী গোয়ালপাড়া এলাকার মাসুম মিয়া বলেন, ২নং সেক্টর এলাকায় লেকপাড়ে ১০ লাখ টাকা খরচ করে অস্থায়ী রেস্টুরেন্ট গড়ে তুলেছিলাম। সে রেস্টুরেন্টের পাশে সড়কের কাজ চলায় আর চালু করতে পারিনি। তাছাড়া পূর্বাচলে দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে আসায় আর নতুন করে রেস্টুরেন্ট করিনি। এতে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
একই চিত্র মধুখালী সমু মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া বলেন, আমরা ৬ জন মিলে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করে একটি রেস্টুরেন্ট গড়ে তুলেছিলাম। করোনার পর আর তা চালু করতে পারিনি। এতোদিনে সব নষ্ট হয়ে গেছে।
একই অবস্থা স্কুল ছাত্রদের করা তারুন্যের বিজ্ঞান নামীয় সংগঠনের করা রেস্টুরেন্টেরও। তাদের নকশা আর গ্রামীণ নানা কুঁড়েঘর করতে গিয়ে ১৩ লাখের অধিক বিনিয়োগ করা হয়েছিলো। সময়ের ব্যবধানে এসব এখন ধ্বংসাবশেষে রূপান্তরিত হয়েছে। এদিকে তরুণ উদ্যোক্তাদের দাবী, পূর্বাচলের বিভিন্ন স্পষ্টে নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীন যোগাযোগে বেশ কিছু সড়কে কাজ চলমান। তাই দর্শনার্থীরা বাঁধাগ্রস্ত হয়।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, পুরো থানার পাশাপাশি পূর্বাচলেও আমাদের নিয়মিত টিম কাজ করছে। দর্শনার্থীসহ প্লট, ঠিকাদার সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তায় পুলিশ ক্যাম্প করা হয়েছে। ফলে সার্বিক নিরাপত্তা রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই।


