# সরকারি কর্মকর্তাদের ম্যানেজে মাঠে মালিকরা
# প্রলোভনের ফুলঝুঁড়ি দিয়ে প্রতারণার কৌশল
# ৯৯ বৈধ ক্লিনিক, ৫৫ টি ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার : সিভিল সার্জন
জেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ এসব সেন্টারে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন রোগীরা। অনেক সময় ভুল রিপোর্টের কারণে চিকিৎসার ব্যাঘাত ঘটছে। আর এজন্য যখনই অভিযানের কথা ওঠে তখনই তারা প্রতিষ্ঠান তালা মেরে কিছু দিন ঘাপটি মেরে থাকেন।
ইতিমধ্যে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করে ৫টি ক্লিনিক সিলগালা করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান জেলা সিভিল সার্জন। গতকাল যুগের চিন্তায় অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনষ্টিক হাসপাতালের তালিকা দিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নড়চড়ে বসেছে বিভিন্ন দপ্তর। এদিকে অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এবং হাসপাতালের মালিকরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে দফারফা করতে ধর্না দিচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, বড় ধরণের প্রস্তাব ও সুবিধার ফুলঝুড়ি নিয়ে তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ম্যানেজের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কাগজপত্রে ৫ উপজেলায় ১৫৪ টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য থাকলেও বাস্তবে এর সংখ্যা দ্বিগুণ। এর মধ্যে নিবন্ধন আছে ১৫৪ টির। আবার নিবন্ধন থাকলেও নবায়ন করা হয়নি অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা অবৈধ ক্লিনিক এবং ডায়াগনিষ্টিক হওয়ায় তারা ভিতরে খোলা রেখে বাইরের গেইট তালা মেরে রেখেছে। কেউ প্রবেশের চেষ্টা করলে বলা হয় বন্ধ আছে।
আবার অনেক প্রতিষ্ঠান ১০ শয্যার অনুমতি নিয়ে কিছু ক্লিনিক খোলা হলেও অতিরিক্ত শয্যা বসিয়ে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে ব্যবসা করছে অনেক ক্লিনিক। আর এসব চলছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক অবকাঠামো ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই। এসব চিকিৎসাকেন্দ্রে নোংরা পরিবেশ, অদক্ষ নার্স ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই চলছে মনগড়া চিকিৎসাব্যবস্থা। এতে চরম ভোগান্তি, অর্থনৈতিকভাবে প্রতারিত ও স্বাস্থ্য শঙ্কায় পড়েছে জেলার প্রায় ৪০ লাখ মানুষ
সরেজমিনে দেখা যায়, একটি ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের যেসব নিয়মকানুন মেনে চলা দরকার, তা যেন শুধু কাগজ-কলমেই রয়েছে। বেশির ভাগ হাসপাতালে নেই প্রসূতি বিশেষজ্ঞ, অ্যানেসথেসিয়া ডাক্তার ও সার্বক্ষণিক ডাক্তার। আবার সার্জারি বিশেষজ্ঞ না হয়েও অনভিজ্ঞ ডাক্তার কিংবা আয়া-বুয়া দিয়ে করা হচ্ছে নানা ধরণের অপারেশন এবং দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসাব্যবস্থা। কোন কোন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মেডিকেলে পড়ুয়া ছাত্র চিকিৎসা চালাচ্ছেন।
এদিকে ঘুরে দেখা যায় নারায়ণগঞ্জ শহরের ভূইয়াপাড়া শাহ সুজারোড সূর্যের হাসি ক্লিনিক ভিতরে খোলা রেখে বাহিরে তালা মেরে রেখেছে। নগরীর খানপুর মেইনরোড ইমন ডায়াগনিস্টিক অভিযানের ভয়ে তালা মেরে মালিক কর্তৃপক্ষ পলাতক রয়েছেন।
এছাড়া স্টার লাইফ হসপিটাল সামনে তালা মেরে ভিতরে কার্যক্রম চলে। তাছাড়া খানপুর এলাকার গ্যাস্ট্রোলিভ ডায়াগনিস্টিক সেন্টার, মেডি এইড ডায়াগনিস্টিক সেন্টার, নবাব সলিমুল্লাহ রোড মেডিস্টার হসপিটাল এন্ড রেনেসা ল্যাব অবৈধ ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তাদের স্বাস্থ্য হেলথ ডিজি অনুমোদন ছাড় পত্র নেই, এছাড়া ফায়াস সার্ভিস অনুমোদন কাগজ এখনো পান নাই। তার পরেও কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
সূত্র জানিয়েছে, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসেবে অনুমোদনহীন ভাবে ২৭টি ক্লিনিক রয়েছে এগুলো হলো, মেট্রোহল চত্বরের সোহেল জেনারেল হাসপাতাল, নবাব সলিমূল্লা রোড মেডিস্টার হসপিটাল এন্ড রেনেসা ল্যাব, নবাব সলিমূল্লাহ রোড মেডিভিশন আই হসপিটাল, নারায়ণগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতাল ইউনিট ২ , নারায়ণগঞ্জ প্রেসিডেন্ট রোড স্টার লাইফ হাসপাতাল, পশ্চিম দেওভোগ নাগবারি ডায়াবেটিক হাসপাতাল, নগরীর বঙ্গবন্ধু রোড মুক্তি জেনারেল হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু রোড রিজিয়া জেনারেল হাসপাতাল,সিদ্ধিরগঞ্জ এসও রোড মা সুফিয়া হাসপাতাল, সিদ্ধিরগঞ্জ মোজাফ্ফর টাওয়ার মেডিস্ক্যান হসপিটাল এন্ড ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার, খানপুর ইমন ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার, চাষাঢ়া মমতাজ ভবন মেডিকেল প্যাথলজি এন্ড ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার, ফতুল্লা সস্তাপুর বিশ্বরোড মাইক্রো প্যাথলজি, চিটাগাংরোড পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল, সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজি কদমতলি জেনারেল হাসপাতাল, মাদানি নগর মাদারাসার বিপরীতে শাহ আলম ভবন ট্রাষ্ট হসপিটাল এন্ড ডায়াগনিষ্টিক,সিদ্ধিরগঞ্জ হিরাজিল সূর্যের হাসি ক্লিনিক হিরাঝিল,ভূইয়াপাড়া শাহ সুজা রোড সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক, ফতুল্লা শাহী বাজার সুফিয়া ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার, সিদ্ধিরগঞ্জ নিমাই কাশারি পাইওনিয়ার ডিজিাটাল ডায়াগনিষ্টিক, সিদ্ধিরগঞ্জ মৌচাক ডায়াবেটিক সেন্টার,কতুবপুর লামাপাড়া সূর্যের হাসি নেটওয়ার্ক, ফতুল্লা আয়েশা জেনারেল হাসপাতাল, ফতুল্লা পঞ্চবপি মোড় মেরী স্টার হাসপাতাল।
এছাড়া জেলার আড়াইহাজার উপজেলায় ৫টি ক্লিনিক অবৈধ রয়েছে। অবৈধ ক্লিনিক গুলো হল আড়াইহাজার ফলপট্রি কানন প্লাজা আড়াইহাজার মা ও শিশুহাসপাতাল,গোপালদি রামচন্দ্রি পল্লি বিদ্যুৎ অফিস গোপালদি জেনারেল হাসপাতাল,গোপালদি বাজার সিএনজি স্টেশন ফ্যামিলি কেয়ার ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার,আড়াইহাজার গোপালদি বাজার সিনেমা হলের সামনে শারদা মেডিকেল সেন্টার, আড়াইহাজার বাসস্ট্যান্ড চনপাড়া মোরশেদ টাওয়ার নুরজাহান হসপিটাল, জেলার বন্দর উপজেলায় ২ টি অবৈধ ক্লিনিক রয়েছে সে গুলো হলো বন্দর বারপাড়া হেল্প হাসপাতাল, বন্দর ১২ নম্বর এইচ এম সেন রোড বন্দরে সিটি ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার, রুপগঞ্জ উপজেলায় ৮ টি অবৈধ ক্লিনিক রয়েছে তা হলো, ভূলতা রুপগঞ্জ পারফেক্ট হাসপাতাল এন্ড ডায়গানস্টিক সেন্টার, রুপগঞ্জ ভূলতা হাবিবুল্লাহ মোতালেব সুপার প্লাজা, গাউসিয়া ডায়বেটিক সেন্টার, রুপগঞ্জ তারাবো বাজার, ২৩ হাজী মানিক ভূইয়া মার্কেট সিটি ল্যাব মেডিকেল সার্ভিসেস, রুপগঞ্জ পুটিনা বেলদী হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ,রুপগঞ্জ পূর্বগ্রাম, চনপাড়া সেফ লাইফ ল্যাব এন্ড কনসালটেশন সেন্টার, রুপগঞ্জ কাঞ্চন মায়ার বাড়ি এ এস এম টাওয়ার, কে পি এস জেনারেল হাসপাতাল লিঃ, রুপগঞ্জ, ব্রাক্ষ্মনখালী, হাবিব নগর, ইডেন লাইফ কেয়ার হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সার্ভিস, রুপগঞ্জ, সাহাপুর ,নিউ মডার্ণ হেলথ সেন্টার, সোনারগাঁ উপজেলায় রয়েছে, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা ডিগ্রী কলেজ রোডে বাদশা প্লাজা দি মাতৃসেবা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, সোনারগাঁ মোগরাপাড়া চৌরাস্তা, সোনারগাঁ মোগরাপাড়া চৌরাস্তা ডিগ্রী কলেজ রোডে গ্রীন লাইফ মেডিকেল সার্ভিসেস, হাজী মোস্তফা ম্যানশন, হাবিবপুর, থানা রোড ইসলামিয়া ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা দি ল্যাব এইড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা ডক্টরস হেলথ কেয়ার লিসহ সব মিলিয়ে পুরো জেলায় ৪৭ টি অবৈধ ক্লিনিক রয়েছে। যে গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্দেশ দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন আ ফ ম মশিউর রহমান জানান, জেলায় ৯৯ টি ক্লিনিক বৈধভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, একই সাথে ৫৫ টি ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার রয়েছে। যারা বৈধভাবে পরিচালনা করে আসছে। বাকি যা আছে তা সবই অবৈধ। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমি প্রতি সপ্তাহে একদিন অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ক্লিনিক বা ডায়াগনিষ্টিক পেলে তা সিলগালা করে দেই।এমই/জেসি


