Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ঢাকা বাইপাস সড়ক ৮ লেনের উন্নয়ন কাজ দ্রুত এগুচ্ছে

Icon

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২২, ০৮:২৭ পিএম

ঢাকা বাইপাস সড়ক ৮ লেনের উন্নয়ন কাজ দ্রুত এগুচ্ছে
Swapno

রাজধানীর যানজট নিরসনে তৈরী করা ঢাকা বাইপাস সড়কের ৮ লেনে উন্নীতকরণ কাজ এগুচ্ছে দ্রুত গতিতে। তবে এখনো মেয়াদহীন কাঞ্চন সেতুতে টোল আদায়ের কারনে নির্মাণকাজসহ পরিবহণ চলাচলে যানজটে নাকাল পরিস্থিতি নিত্যদিনের। 

 

এতে হিমসিম খাচ্ছে স্থানীয় ট্রাফিক, হাইওয়ে ও থানা পুলিশের সদস্যরা। আর হয়রানী ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এ সড়কে যাতায়াতকারী যানবাহনসহ সংশ্লিষ্ট যাত্রী সাধারন।

 

 এদিকে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) নির্মাণাধীন গাজীপুরের ভোগরা থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা হয়ে সোনারগাঁওয়ের মদনপুর পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে এক হাজার ৭৫ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দিয়েছেন বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল)। ফলে আগের তুলনায় আরো দ্রুত গতিতে কাজ করতে দেখা গেছে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শ্রমিকদের।

 

নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠান সিচুয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ গ্রুপ কর্পোরেশন লিমিটেড (এসআরবিজি) এবং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান শামীম এন্টারপ্রাইজ ও ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে নিয়ে যৌথভাবে ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি গঠন করা হয়েছে।

 

 এটি গাজীপুরের ভোগরা থেকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের ভিত্তিতে প্রায় ৩ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা বাইপাস নির্মাণ হচ্ছে। যা ৮ লেনের সড়ক হবে। যাতে নির্মাণের পর নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পরবর্তি ২৩ বছর পর্যন্ত টোল আদায় করতে পারবে।

 

সড়ক ও জনপদ বিভাগের সচীব নজরুল ইসলামের কাছে নির্মাণ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, গত পবিত্র ঈদ উল ফিতরের আগেই ঈদযাত্রায় যেন ভোগান্তি না হয় তাই সড়কটি চলাচল উপযোগী রেখে দ্রুত কাজ করার তাগিদ দিয়েছিলাম।

 

 এ সময় তিনি আরো বলেন, যানজটের কবল থেকে রাজধানীবাসী ও আশপাশের জেলার দূর্ভোগ কমাতেই ঢাকা বাইপাস নির্মাণ করা হয়েছে। এটি আগামী ২০২৪ সালে ৮ লেনে উন্নীত হলে দেশের মানুষ বিশেষ সুবিধা ভোগ করবেন। 

 

রূপগঞ্জ সদর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মুশফিকুর রহমান রিপন বলেন, ঢাকার যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে পণ্যবাহী ট্রাক ও ট্যাংক লরিকে দায়ী করা হয়। চট্টগ্রাম থেকে আমদানিকৃত পণ্য উত্তরবঙ্গ পাঠাতে হলে রাজধানীর ওপর দিয়েই যেতে হয়। 

 

এই যানজটে প্রতিদিন নষ্ট হয় হাজার হাজার কর্মঘণ্টা। এতে চাপ পড়ে অর্থনীতির ওপর। তাই ঢাকা বাইপাসের মাধ্যমে এ সমস্যা দূর হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু কাঞ্চন ব্রিজের টোল ঘরসহ দুএকটি স্থানের কারনে যানজট সমস্যা দূর হয়নি।

 

 পূর্বাচলের বাসিন্দা রিটন প্রধান বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে এ পর্যন্ত অনেক কর্মপন্থাই নির্ধারণ করা হয়েছে। সে সবের কিছু বাস্তবায়ন হয়েছে, কিছু বাস্তবায়নের পথে। মেট্রোরেল, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) কাজ এগিয়ে চলছে দ্রুতগতিতে। 

 

পাশাপাশি রাজধানীর ফুটপাত অবমুক্তকরণ, ট্রাফিক আইন শক্তিশালীকরণ, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনকে রাজধানী থেকে অপসারণসহ নানাবিধ সমস্যা সমাধানের পরও যানবাহনের চাপ কিছুতেই কমানো যাচ্ছে না। এবারো কুরবানির পশু পরিবহনে সড়কে যানজটের সমস্যা থাকবে।


 
প্রকল্প পরিচালক (পিডি) সবুজ উদ্দীন খান জানান, নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে তাতে নির্মাণ কাজ শুরুর দিন থেকে চার বছরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। 

 

এই বাইপাস সড়ক নির্মিত হলে পণ্য নিয়ে ট্রাক এবং ট্যাংক-লরির মতো ভারি যানবাহন আর ঢাকায় ঢুকবে না। রাজধানীর পাশ দিয়ে চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে চলে যাবে এসব পণ্যবাহী যান।

 

এদিকে সওজ সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় মদনপুর থেকে কড্ডা পর্যন্ত মূল এক্সপ্রেস সড়ক হবে চার লেনের। এর বাইরে সড়কের দুই পাশে থাকবে আরো দুটি লেন। এগুলোর প্রশস্ততা হবে দেড় লেন করে। প্রকল্পের আওতায় গাজীপুরের ভোগড়া, মিরেরবাজার, বস্তুল, ধীরাশ্রম ও কাঞ্চন সেতুর আগে নির্মাণ করা হবে পাঁচটি ফ্লাইওভার। ২৫টি আন্ডারপাস।

 

 যেহেতু সড়কের একটা বড় অংশ যাবে পূর্বাচলের ওপর দিয়ে, সে কারণে আন্ডারপাসকেই অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। কাঞ্চনে শীতলক্ষ্যা নদীর চার লেনের সেতুসহ তিনটি বড় সেতু নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর একটি উলুখোলা ও অন্যটি নাগদায় এলাকায়।

 

এদিকে যানজটের মুল হেতু হিসেবে দায়ী করছেন ঢাকা বাইপাসের মধ্যে শীতলক্ষ্যা নদীতে করা কাঞ্চন ব্রিজকে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজে)র করা চট্টগ্রাম বন্দর ও সিলেটের সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের সরাসরি সংযোগ স্থাপনের জন্য কাঞ্চন সেতুটি নির্মাণ করা হয় ২০০৬ সালরে অক্টোবরে।

 

 সে সময় উদ্বোধনের পরবর্তি ১০ বছর পর্যন্ত টোল আদায় করার কথা বলা হয়েছিল । সে অনুযায়ী ২০১৬ সালে টোল আদায়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলওে গত ৬ বছর ধরে চলছে টোল আদায় ।

 

সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর থেকে গাজীপুর জয়দেবপুর চেীরাস্তা পর্যন্ত ঢাকা-বাইপাস সড়ক নামে ৪৮ কিলোমিটার রাস্তাকে কাঞ্চন সেতুর মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে। 

 

এদিকে টোল এলাকায় মাঝে মধ্যে চারটি টোলের মধ্যে দু’টি বন্ধ রাখা হয়। ফলে এক ঘণ্টার মধ্যে এ যানজট সেতুর দু’পাশে প্রায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার এলাকা ছাড়িয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী সাধারণ থেকে শুরু করে মালবাহী যানবাহনের চালকরা।

 

 

এ অঞ্চলে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (টি আই) জহিরুল ইসলাম বলেন, আমার সঙ্গেও পর্যাপ্ত জনবল নেই। ফলে সাধ্য দিয়েই যানজট মোকাবেলা করে আসছি। আরো পুলিশ সদস্য বাড়িয়ে দেয়া হলে যানজট নিরসন করা সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন।

 


এর আগে সরকারের সেতু মন্ত্রণালয় শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর রাজধানী ঢাকায় প্রবেশের জন্য চারটি সেতু নির্মাণ করে। এরমধ্যে রয়েছে কাঁচপুর সেতু, ডেমরা-তারাব সেতু , মুড়াপাড়া-ইছাখালী সেতু ও কাঞ্চন সেতু। এসব সতেুর মধ্যে শুধুমাত্র কাঞ্চন সেতুতেই মেয়াদ চলে যাওয়ার পর ও টোল আদায় করা হচ্ছে টোল।

 

 

 কাঞ্চন সেতু প্রকল্প ও টোলপ্লাজার পরিচালক মোহাম্মদ শামীমুল হক বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে দায়িত্ব পেয়েই টোল আদায় কাজে নিয়োজিত আছি। টোল আদায়ের মেয়াদকাল শেষ হয়েছে বলে জানা নাই। 

 

এর আগে ২০০৯ সালে অক্টোবরে সড়ক ও জনপথ থেকে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে তিন বছরের জন্য টোল আদায়ে ইজারা পায় মেসার্স এসইএল-ইউডিসি-জেভি নামক যৌথ মালিকানার একটি প্রতষ্ঠিান। ২০১২ সালের অক্টোবরে প্রতিষ্ঠানটি আরো ৫ বছররে জন্য টোল আদায় ইজারা করে নেন।


 
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহা. জহিরুল ইসলাম বলেন, কাঞ্চন ব্রিজের টোল আদায় আউট সোর্সের মাধ্যমে আদায় করা হচ্ছে। এটাকে পিপিপি প্রকল্পের আঁওতায় নিয়ে এ টোল আদায় অব্যাহত থাকবে। আর কাঞ্চন সেতুতে সরকাররে সিদ্ধান্তেই টোল আদায় করা হচ্ছে। আমরা তদারকি করছি মাত্র।এসএম/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন