Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

সালিশে জনসম্মুখে ধর্ষণের ভিডিও প্রদর্শন করায় তরুণীর আত্মহত্যা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২২, ০৫:৪৪ পিএম

সালিশে জনসম্মুখে ধর্ষণের ভিডিও প্রদর্শন করায় তরুণীর আত্মহত্যা
Swapno

# ইউপি মেম্বার কচিকে গ্রেফতার করা হয়েছে : ওসি
# মামলা তুলে নিতে তাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছিল আসামীরা : ভিকটিমের মা

 

বন্দরে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার পর চাপ দিয়ে সালিশে বসতে বাধ্য করে প্রভাবশালীরা। সালিশে জনসম্মুখে ধর্ষণের ভিডিও প্রদর্শন করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এতে অপমানে আত্মহত্যা করেছে ২২ বছরের এক তরুণী। গতকাল সোমবার সকালে বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বালিয়াগাও গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।

 

আত্মহত্যার ঘটনার সংবাদে বন্দর থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মহসিন ও মদনগঞ্জ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মহসিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে বেলা ১২টায় তরুণীর লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এই ঘটনায় ৯ জনকে নামীয় আসামী এবং আরও ২/৩জনকে অজ্ঞাত আসামী করে বন্দর থানায় মামলায় দায়ের করা হলে গ্রেফতার করা হয়েছে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল মোমেন কচিকে। এর আগে গত ২ জুন ধর্ষণের অভিযোগে নুরুল আমিনকে আসামী করে বন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করে।

 

গ্রেফতারকৃত ইউপি মেম্বার আব্দুল মোমেন কচি বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং একই ওয়ার্ডের সাবেক তিনবারের ইউপি সদস্য মঞ্জুর হোসেন ওরফে মঞ্জু মেম্বারের ভাতিজা এবং কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান এর খুব কাছের লোক বলে জানা গেছে।


 
স্থানীয় সালিশের বিষয়ে কথা বলার জন্য কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান এর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


 
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সর্বশেষ গত ২২ মে সকালে ধর্ষণের শিকার হয় এই তরুণী। এই ঘটনায় গত ২ জুন তরুণীর মা থানায় মামলা করলে আসামীপক্ষের লোকজন তাদের জোরপূর্বক পুনরায় সালিশে বসতে বাধ্য করে। গত ৫ জুন রাত সাড়ে আটটার দিকে কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মোমেন কচির উপস্থিতিতে সালিশে বসা হয়। সালিশ চলাকালীন সময়ে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত নুরুল আমিনের স্ত্রী শ্যামলী ও ভাগিনা স্থানীয় মসজিদের ইমাম মো. ইব্রাহীম মোবাইলের মাধ্যমে সালিশে উপস্থিত লোকজনকে ধর্ষণের ভিডিও দেখায়।

 

একই সাথে তারা ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেয়। সে সময় স্থানীয় মেম্বার আব্দুল মোমেন কচি এর কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ধর্ষিতাকে দোষারোপও করে বলেও জানা গেছে। সে সময় তরুণী অপমান সহ্য করতে না পেরে তার মাকে নিয়ে বাড়িতে চলে যায়। বাড়িতে গিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। সকালে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান পরিবারের লোকজন।


 
নিহতের মা জানান, ধর্ষণ মামলা করার পর থেকেই মামলা তুলে নিতে তাদের হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করে আসামীপক্ষ। এরপর গতরাতে জোর করে আমাদের সালিশে নিয়ে যায়। সেখানে উপস্থিত সকলকে ধর্ষণের ভিডিও দেখায় আসামীপক্ষের লোকজন। এসময় তারা ফেসবুকে ভাইরালের হুমকি দেয়। এই ঘটনার বিচার দাবি করেন নিহতের মা।


 
এই বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, ধর্ষণের বিষয়ে গ্রাম্য সালিশের কোন এখতিয়ার নাই। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রথমে ধর্ষণের বিষয়ে একটি মামলা হয়। পরে আসামীপক্ষের লোকজন চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের সালিশে বসায়। সেই সালিশে ধর্ষণের ভিডিও সকলের সামনে প্রদর্শন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এই ঘটনায় ইউপি মেম্বারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন