Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

অবশেষে ভার্চুয়ালি গ্যাসের দাম বাড়ল

Icon

করীম রেজা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২২, ০৮:২৫ পিএম

অবশেষে ভার্চুয়ালি গ্যাসের দাম বাড়ল
Swapno

এনার্জি রেগুলেটারি কমিশন (বিইআরসি) অবশেষে আবাসিক গ্যাস ব্যবহারকারীর গ্যাসের দাম বাড়ালো। গত ৫-৬-২২ তারিখে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে, ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার করে,এক সংবাদ সম্মেলনে এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষনা দেন বি ই আর সি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু ফারুক।

 

 

ডিজিটাল ব্যবস্থার অনেক সুবিধা, যেমন বাড়িতে থেকেও মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেয়া যায় বাড়িতে নেই বলে। এখানে সশরীরে সাংবাদিকদের মোকাবেলা করাটা এড়ানো গেছে ডিজিটাল সুবিধায়। হয়তো মন্দের ভালো অথবা নেহায়েত সময়, অর্থ, শ্রম প্রভৃতির জাতীয় সাশ্রয় করা হয়েছে। 

 

রান্নার গ্যাস দুই চুলার মাসিক বিল ৯৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০৮০ টাকা অর্থাৎ ১০৫ টাকা বেড়েছে। আর এক চুলার মাসিক বিল ৬৫ টাকা বাড়িয়ে ৯৯০ টাকা করা হয়েছে,যা আগে ছিল ৯২৫ টাকা। তিন বছর আগেও একবার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। যদিও এবার পরিবহন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সিএনজির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।


 
গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় বিইআরসির কর্মপদ্ধতি চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারবে যে কেউ। যান্ত্রিক বা মেকানিক্যাল বা লোক দেখানো কিংবা ক্যাবের সহ-সভাপতির ভাষায় ‘প্রহসন’ বলেও বুঝানো যেতে পারে। কেননা, বিইআর সি-র কাজের ধরণটিই প্রায় প্রতিবার একইরকমভাবে পত্রিকায়, টিভি মাধ্যমে প্রচারিত হয়। 

 

গ্যাস, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ১০০ বা একশত ভাগের বেশি দাম বাড়াতে অনেক মনগড়া যুক্তি দিয়ে দাম বাড়ানোর দাবী জানিয়ে দরখাস্ত করে। তখনই বিইআরসি বেশ নড়েচড়ে বসে। যদিও ভোক্তার পক্ষে দাম কমানোর কোনও দরখাস্তের ইতিহাস বিইআরসির ভান্ডারে নাই। ভোক্তার পক্ষে দাম বাড়ানোর যুক্তির মোকাবেলা করাই বার বার দেখা যায়।

 

জনগণের অসুবিধা হতে পারে দাম বাড়ালে, তাই বিইআরসি কোম্পানির দরখাস্তে অনুমোদন দেয় না। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি জনগণের সামনে তুলে ধরে অতি নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে। তদুপরি সুবিধা-অসুবিধা হবে কিনা তা বিইআরসি নিজে বুঝতে পারে না। যাচাই বাছাই করতে সাড়ম্বরে একটি গণ শুনানীর আয়োজন করে।

 

 সেখানে কোম্পানি, ভোক্তা ও অত্যুৎসাহী গ্রাহক বা প্রতিনিধি দাম বাড়ানোর পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। বিশেষত: প্রতিবারের এই গণ শুনানীতে কিছু রাজনৈতিক দলের পক্ষেও কেউ কেউ থাকেন। ক্যাবের প্রতিনিধি একজন জ্বালানী বিশেষজ্ঞ প্রত্যেকটি গণ শুনানীতে সূক্ষ্ম হিসেব নিকেশের যুক্তি, ব্যাখ্যা দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে, দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব অনৈতিক, অহেতুক, অযৌক্তিক, সর্বোপরি জনস্বার্থ বিরোধী। 

 

তিনি এও বলতে চেষ্টা করেন সব সময় যে, অভ্যন্তরীণ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের দ্বারা দাম না বাড়িয়ে মূল্য সমন্বয় করা সম্ভব। এই উপায়ে কল্পিত লোকসান কমিয়ে আনা কঠিন কিছু নয়। রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও জনগণের ভোগান্তির সবদিক বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিইআরসি সবকিছু দেখে, সব কথা মন দিয়ে, কান পেতে শোনে কিন্তু দাম শেষ পর্যন্ত ঠিকই বাড়ায়।

 

 কোনও যুক্তি, কারণ, ব্যাখ্যা তাদের দাম বাড়ানো থামাতে পারে না। তবে অতি দরদি সুরে উল্লেখ করতে ভুল করে না যে, কোম্পানির উচ্চমূল্যের দাবি তারা নাকচ করেছেন জনগণের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে। যে পরিমাণ দাম না বাড়ালেই নয়, শুধু ওইটুকুই তারা বাধ্য হয়ে, সবদিক বিচার করেই বাড়িয়েছেন। এতে জনগণের তেমন একটা অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। দাম বৃদ্ধি সহনীয় পর্যায়ে রাখা হয়েছে বা হচ্ছে।

 

 

এমন ধারা কথাবার্তা গ্যাস বা বিদ্যুৎ বা জ্বালানীর দাম বৃদ্ধির আগে পরে আমাদের মন্ত্রী আমলারাও বলতে থাকেন জিকিরের সুরে। তাছাড়া মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে উল্লেখ করতে ভোলেন না; তাই এক আধটু বেশি দাম দিয়ে কিছু কিছু সেবা ত কিনতেই হবে উন্নত দেশের আদলে। যেহেতু আমরা উন্নত হওয়ার পথেই হাঁটছি।

 

 এবার এই অকাট্য (!) সব যুক্তির সঙ্গে মিলেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাত-অস্ত্রও। যেন কবি মাইকেল মধুসূদনের ভাষায়, ‘একা রামে রক্ষা নাই, সুগ্রীব দোসর ’। এর পরের দৃশ্যও খুব চেনা রকমের, সরকার পক্ষীয় লোকজন, সংগঠন দাম বৃদ্ধির পক্ষে বলবেন । বিপক্ষীয়রা কিছুদিন দাম বৃদ্ধির বিপক্ষে লাগাতার বলবেন এবং ক্লান্ত হয়ে ক্ষান্ত দেবেন। 

 

অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তা জনগণ তাদের রাগ-গোস্যা প্রচার-প্রকাশের কোনও উপায় না পেয়ে নিজের মনেই গজ গজ করবেন কিছুদিন। কারণ ছাড়াই পরিবারের সবার সঙ্গে গরম মেজাজে পরিবেশ তাতিয়ে রাখবেন। পাশাপাশি নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে করতে একসময় গা সওয়া রকমে ভুলে যাবেন। পরবর্তীকালের দাম বৃদ্ধির জন্য নীরব অপেক্ষায় থাকবেন।

 

 এই দৃশ্যের শেষ কথা ক্যাব প্রতিনিধি বলবেন, ভাঙা রেকর্ড বাজানোর মত করে যে, বিইআরসি-র গণ শুনানী একটি প্রহসন। মানতে হবে জনগণও এই প্রহসন অভিনয়ের কুশীলব। পর্দা উঠলে তাদের বিষাদ-বিরক্ত-অসহায় চেহারাই শুধু দৃশ্যমান। লেখক-কবি, সাবেক অধ্যক্ষ।এসএম/জেসি 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন