Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

কাউন্সিলর মনিরের লোক হওয়ায় সুব্রত’র হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২২, ০৭:৪৪ পিএম

কাউন্সিলর মনিরের লোক হওয়ায় সুব্রত’র হত্যাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে
Swapno

পনেরো দিনের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখনো গ্রেপ্তার হয় নাই নগরীর দেওভোগ এলাকার কাউন্সিলর মনিরের কিশোরগ্যাং গ্রুপের নির্যাতনের শিকার নিহত শুব্র’র হত্যাকারীরা। নিহতের পরিবারের দাবী পুলিশ কাউন্সিলর মনিরের কাছ থেকে টাকা খেয়ে আসামীদের গ্রেপ্তার করছে না।

 

 অপর দিকে পুলিশ প্রশাসনের দাবী তারা আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাসায় গিয়ে আসামীদের পাওয়া যায় না।  কিন্তু নিহত শুব্র’র পরিবারের দাবী হত্যাকারীরা এলাকায় দিব্বি ঘুরে বেরাচ্ছে। তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। আর এতে করে তারা আতঙ্কে দিন পার করছে। এমনকি তাদের বাসা পর্যন্ত ছাড়তে হয়েছে।

 

এদিকে নগরীর দেওভোগ এলাকার সুব্রত’র হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। নিহত সুব্রত মারা যাওয়ার আগে এক ভিডিও বক্তব্যে তাকে নির্যাতন কারীদের নাম বলে যান। তার পরেও আসামীরা গ্রেপ্তার হচ্ছে না। তাছাড়া আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে এলাকাবাসি মানব বন্ধন করেন।

 

 ওই মানব বন্ধনে তারা প্রশাসনকে আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য কঠোর বার্তা প্রদান করেন। সেই সাথে মানব বন্ধনে আসা নিহত শুব্র’র পরিবার অভিযোগ করে বলেন, হত্যাকারীরা নাসিক কাউন্সিলর মনিরের সন্ত্রাস বাহিনীর লোক হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। অথচ আসামীরা এলাকায় দিব্বি ঘুরে বেড়াচ্ছে।

 

 উল্টো হত্যাকারীদের ভয়ে নিহতের পরিবার দিন কাটাচ্ছে। একই সাথে আসামীরা গ্রেপ্তার না হওয়া এই হত্যার বিচার নিয়ে শঙ্কায় আছেন ভুক্তভোগি পরিবারনিহত শুভ্রতর বোন সম্পা মন্ডল কান্নারত অবস্থায় বলেন আমার ভাই মরার আগে জবানবন্দি দিয়ে তার হত্যাকারীদের নাম বলে গেছে পুলিশের কাছে সেই ভিডিও আছে। 

 

আমার ভাইয়ের সাথে তাদের কোন বিরোধ ছিলনা, নির্বাচনে কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনিরের পক্ষে কাজ না করায় কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল আমার ভাই শুভ্রত। নির্বাচনে তার পক্ষে কাজ না করার কারণে যদি আমাদের মত অসহায় পরিবারের ভাইদের হারাতে হয় তাহলে আমরা কই যাবো।

 

 পুলিশ কাউন্সিলর মনিরের কাছ থেকে টাকা খেয়ে আসামীদের গ্রেপ্তার করছে না। মনিরের লোকদের অনেক টাকা। তারা আমাদের হুমকি দিয়ে বলে এই মামলা করে তাদের কিছু করতে পারমু না। এখনতো আমার তাই দেখতাছি। পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

 

উল্লেখ্য  নিহত সুভ্রতর পরিবারের  ১২ জনের নাম উল্লেখ্য করে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় মামলা হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ্য করা হয় নিহত সুব্রতকে (২২ মে) কাউন্সিলর মনিরের লোকজন তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তার উপর নির্যাতন করে রাতের বেলায় তাকে বাসার সামনে ফেলে রেখে যায়।

 

 পরবর্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকাকালিন সুব্রত মৃত্যুবরণ করেছে। মৃত্যূর আগে শুভ্রত এক ভিডিওতে বলেন, নাসিক নির্বাচনে কাউন্সিলের মনিরের পক্ষে কাজ করার জন্য তার কাছের লোক সায়েম আমাকে কাজ করতে বলেন।

 

 কিন্তু ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সফিউদ্দিন করোনার সময় আমাদের পরিবারকে সহযোগিতা করে।তাই আমি নির্বাচনে সফিউদ্দিন কাকার পক্ষে কাজ করি। মনিরের পক্ষে কাজ না করায় সেই জের ধরে তারা আমাকে ধরে নিয়ে রাতভর নির্যাতন করে আমাকে বাসার সামনে ফেলে রেখে যায়। তখন আমি সেন্সলেস ছিলাম।

  

নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। তারা যার লোকই হোকনা কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।এসএম/জেসি 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন