# ডাক বাংলো ও পুলিশ ফাঁড়ির দেয়াল ভেঙে দেয়া হয়েছে
# সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ করবে : এডিএম
কথা রেখেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক তথা নারায়ণগঞ্জ টু পোস্তগোলা সড়কের পাশে অবস্থিত জেলা পরিষদের সদর ডাক বাংলোর দেয়াল ভেঙে ১০ ফুট ভিতরের দিকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুন) জেলা পরিষদের ডাকবাংলো ও পুলিশ ফাঁড়ির দেয়াল ভেঙে দেয়া হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক আনোয়ার হোসেন যুগের চিন্তাকে জানান, কথা অনুযায়ী জনগণের কথা বিবেচনা করে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর দেয়াল ভেঙে দেয়া হয়েছে। আমরা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করি সেখানে দুর্ঘটনা ঘটনার যে সমস্যাটি ছিল তা হ্রাস পাবে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে অবশেষ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে অবস্থিত জেলা পরিষদের ডাক বাংলো ও পুলিশ ফাঁড়ির দেয়াল ভাঙ্গা হয়েছে। এতে করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কটি আরো ১০ ফুট প্রশস্ত হবে। এতে শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় যেমন যানজট কমবে তেমনি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে।
শুক্রবার (১০ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) মোসাম্মৎ ইসমত আরার নেতৃত্বে একটি ভেকু (এক্সাভেটর) দিয়ে উচ্ছেদ অভিযানটি পরিচালিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান, সড়ক ও জনপথের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী এমদাদুল হক, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর প্রমুখ।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) মোসাম্মৎ ইসমত আরা জানান, চাষাঢ়ায় জেলা পরিষদের ডাক বাংলো ও পুলিশ ফাঁড়িটি অপসারণের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিল নারায়ণগঞ্জ শহরের বাসিন্দারা। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাতেও এই ইস্যুটি বার বার আলোচিত হয়ে আসছিল। এরই প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে আমি পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ এবং সড়ক ও জনপথের প্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করি। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় সড়কটি প্রশস্তকরণের জন্য জেলা পরিষদের ডাকবাংলো ও পুলিশ ফাঁড়ির দেয়াল ভেঙ্গে ১০ ফুট করে ছেড়ে দেয়া হবে। এতে করে এই সড়কটি প্রশস্ত হলে যানজট যেমন কমবে তেমনি দুর্ঘটনাও হ্রাস পাবে। শুক্রবার সকালে আমরা সবাই উপস্থিত থেকে একটি ভেকু দিয়ে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো ও পুলিশ ফাঁড়ির দেয়াল ভেঙ্গে দিয়েছি। শীঘ্রই সেখানে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ করবে।
বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদ উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির আহবায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম মাসিক সভায় জেলা পরিষদের ডাক বাংলোর দেয়াল ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা শেষে কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের একথা জানান।
তিনি বলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগের পর পূর্ণাঙ্গ পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত উন্নয়ন কর্মকান্ড গ্রহন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কর্তৃক জেলা পরিষদ উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ এ কমিটির প্রথম সভা আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাতে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ-পোস্তগোলা সড়কটি বেশ চিপা হওয়ায় সড়কটিতে ব্যাপক যানজট লেগে থাকাসহ বেশ কয়েকটি মারাত্মক দুর্ঘটনাও ঘটেছে। তাই জনস্বার্থে, সড়কের দিকে ডাক বাংলোর যে ওয়ালটা আছে তা ১০ ফুট সরিয়ে ভিতরের দিকে দেয়া হবে, যাতে রাস্তাটা বর্ধিত করা যায়। অন্যান্য সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, সারা বাংলাদেশের ন্যায় আমরাও জাকজমকপূর্ণভাবে ও সাড়ম্বর পরিবেশে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন পালন করতে চাই। সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন যে আয়োজন করেছে তাতে আমরাও অংশ নিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, তিনটি উপজেলার উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনজন সংসদ সদস্য বরাবরে জেলা পরিষদের নিকট আড়াই কোটি টাকার বরাদ্দ এসেছে মন্ত্রণালয় থেকে। উনারা (এমপিরা) প্রজেক্ট প্রপোজাল দিবেন, সেটি আমরা কিভাবে বাস্তবায়ন করবো সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এছাড়া, চলতি অর্থ-বছরে জেলা পরিষদের কিছু প্রকল্প ছিলো যেগুলো অনুমোদন দেয়া হয় নাই। সেই প্রকল্পগুলো কিভাবে আবার আনা যায় সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
জেলা পরিষদ উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির আজকের সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক ফাতেমা তুল জান্নাত, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত ফেরদৌস, বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বি. এম. কুদরত-এ-খুদা, আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ এলাহী, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুসরাত জাহান, আরও উপস্থিত ছিলেন তারাব পৌরসভার সচিব তাজুল ইসলাম, আড়াইহাজার পৌরসভার সচিব তাসলিমা আক্তার, গোপালদী পৌরসভার সচিব বদরুজ্জামান, কাঞ্চন পৌরসভার সচিব এটিএম নুরে আলম সিদ্দিকী, জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু আশরাফুল হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামান প্রমুখ।
গত বছরের ১০ ডিসেম্বর ডাকবাংলোর সামনের মুল সড়কে ট্রাকের নিচে চাপা পরে প্রান হাড়ায় বাবা ও মেয়ে। এর পর থেকে এই ডাকবাংলো ও পুলিশ ফাঁড়ি অপসারনের দাবি আরও বেগ পায়।এমই/জেসি


