চেষ্টা করেও মাকে বাঁচাতে পারেননি প্রীতি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২২, ০৬:২০ পিএম
# পূজা দেয়া হলোনা মনি রানী ঘোষের
# বাচাঁতে গিয়ে কয়েকবার ছিটকে পরে প্রীতি রানী ঘোষ
টানা সপ্তাহ খানিক তীব্র তাবদাহের পর বৃহস্পতিবার স্বস্তির মুষলধারে বৃষ্টি। টানা আড়াই ঘণ্টার বৃষ্টিতে নারায়ণগঞ্জ নগর শান্ত হলেও আগুন জ্বালিয়ে গেল প্রীতি রানীর জীবনে। এই বৃষ্টি অনেকের জন্য আশীর্বাদ হলেও শহরের একটি পরিবারের জন্য ঝর হয়ে আসেন। সেই ঝর এই পরিবারকে তছনছ করে দিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার দেওভোগের আখড়া এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের তিন গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। একে অপরকে বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই তিন নারী। একই পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে শুধু ওই পরিবারের সদস্যরাই নন, শোকের মাতম পুরো দেওভোগ এলাকায়।
এদিকে নিহত পরিবারের বৃন্দাবনের ছোট ছেলে রূপক ঘোষের স্ত্রী মনি রানী ঘোষের মেয়ে প্রীতি রানীর সাথে কথা হয়। আলাপকালের এক পর্যায় তিনি জানান, ঘটনার সময় আমি ঘরের ভেতরে পড়তেছিলাম। বাইরে চিৎকারের শব্দ শুনে বের হয়ে দেখি আমার মা ও জেঠিরা বাড়ির গেটের সঙ্গে বিদ্যুতায়িত অবস্থায় পড়ে আছেন। তখন মাকে হারানোর ভয়ে কোনো কিছু না ভেবে দ্রুত তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যাই আমি।
মাকে ধরে টানার চেষ্টা করে কয়েকবার ছিটকে পরি। উঠে দাঁড়িয়ে আবারও যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিবেশীরা তাকে আগলে ধরে। প্রীতি রানীর আক্ষেপ, সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও সে তার মাকে বাঁচাতে পারেনি, সেই সাথে বাঁচাতে পারেনি জেঠিদেরও। মাকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পরছে প্রীতি রানী। মাকে ছাড়া কিভাবে থাকবে তাও বুঝে উঠতে পারছেন না। চোখের সামনে প্রাণ হারাতে দেখে মা ও জেঠিদের। আত্মার আত্মীয়দের হারিয়ে যেন কথা বলার শক্তিই হারিয়ে ফেলেছে প্রীতি।
অন্যদিকে বৃন্দাবনের ছোট ছেলে রূপক ঘোষের স্ত্রী মনি রানী ঘোষ (৩৮) পূজার ফুল নিয়ে ঘরে ঢুকছিলেন। দুই জাল কে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনিও কিছু বুঝে উঠার আগে তাদের স্পর্শ করলে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান মনি রানী ঘোষ। তিনি পূজার জন্য ফুল কিনে আনলেও সর্বশেষ পর্যন্ত তার পূজা আরে দেয়া হলোনা। বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তাকে প্রাণ হারাতে হয়। অনাকাঙ্খিত এই মৃত্যুর জন্য কে দায়ী তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন এলাকাবাসীরা। এই মৃত্যুর জন্য কাকে দায়ী করবেন তারা, দুর্ভাগ্য নাকি অব্যবস্থাপনা সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার তদন্ত ওসি সাইদুজ্জামান বলেন, ওই এলাকার বৈদ্যুতিক সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। কারো গাফলতি পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।এমই/জেসি


