Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

আজমেরী ওসমানের নাম ভাঙিয়ে আনু-খোরশেদের চাদাঁবাজি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২২, ০৫:২৬ পিএম

আজমেরী ওসমানের নাম ভাঙিয়ে আনু-খোরশেদের চাদাঁবাজি
Swapno

 

# তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও চাদাঁবাজির অভিযোগ রয়েছে 
# ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নকে জিম্মি করে রাখছে
# চাদাঁবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে: এসপি

 

জেলা ট্রাক ট্যাংকলরী ও কভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের শুধু নামেই শ্রমিক ইউনিয়ন। এখানে শ্রমিকদের উন্নয়ণের কোন কাজ হয় না। অভিযোগ উঠেছে এখানে মূলত ট্রাক শ্রমিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি প্রয়াত নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরী ওসমানের নাম ব্যবহার করে এই সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোরশেদ আলম সাব এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু চাদাঁবাজি করেন। ইউনিয়নের নামে চাদাঁ তোলা এবং চাদাঁর টাকা ভাগযোগ করে খাওয়াই তাদের মূল কাজ। তাছাড়া শ্রমিকদের অভিযোগ দেড় যুগধরে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন হয় না। এখানে যেন নির্বাচন না হওয়ার জন্য আনু খোরশেদকে দায়ী করেন শ্রমিকরা। প্রায় ১৯ বছর যাবৎ এই সংগঠনের নির্বাচন হয় না।

 

একাধিক শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, আনু এবং খোরশেদ তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে আজমেরী ওসমানের নাম ব্যবহার করে ব্যপক চাদাঁবাজি করছে। তাদের চাদাঁবাজি এখনো অব্যাহত রয়েছে। শহরের নিতাইগঞ্জকে কেন্দ্র করে এখান থেকে প্রতিদিন নানা নামে বেনাামে লক্ষাধিক টাকা চাদাঁ তুলে তারা। এই চাদাঁর টাকা সিংহভাগ ভাগভাটোয়ারা করে আনু। বাকিটা তাদের উপদেষ্টার দরবারে পাঠান বলে জানান একাধিক ব্যক্তি। 

 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক জানান, এখান থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলায় প্রায় দুশ’ গাড়ি ছেড়ে যায়। প্রতিটি গাড়ি থেকে ৬শ’ থেকে ৭শ টাকা চাদাঁ তুলেন। সে হিসেবে প্রতিদিন লাখ টাকার চাদাঁ উঠে এই সংগঠনের নামে। তাছাড়া বিভিন্ন ঘর থেকে মাসিক মাসোয়ারা পান। যার পরিমাণ কয়েক লাখ টাকা হবে। ট্রাক ট্যাংমকলরী ও কভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নামে কল্যাণ তহবিল থাকলেও সেখানে শ্রমিকদের কল্যাণে তেমন কোন উন্নয়ন হয় না।

 

আরও কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, শ্রমিকরা অসুস্থ্য হলে কল্যাণ তহবিল থেকে সহযোগীতা করার কথা থাকলেও কোন সাহায্য সহযোগীতা করা হয় না। তাছাড়া কোন শ্রমিক মারা গেলে তাদেরও পরিবারকে পর্যন্ত কোন টাকা দেয়া হয় না। বেশির ভাগা টাকা ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন এবং তার সহযোগীরা লুটপাট করে খায়। তাদের পকেটেই এই চাদাঁবাজির মূল টাকা যায়। তার আগে এই টাকার মোটা অংকের অংশ হাজী রিপনের পকেটে যাইত। এখন যায় আনুর এবং পলাশেল পকেটে।

 


নিতাইগঞ্জের একাধিক শ্রমিক জানান, আনুর সহযোগী পলাশ হলেন গাজীপুর বিএনপির নেতা হান্নান শাহার ঘনিষ্ঠ লোক ছিলেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জে এসে শ্রমিক সেজে আনুর সহযোগিতায় এখানে ঘাটি বাঁধে। তাছাড়া আনু জামাত বিএনপি সহ ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সাথে তাল মিলিয়ে চলে। সেই সাথে আওয়ামীলীগের উত্তর দক্ষিন উভয় বলয় ম্যানেজ করে চলে। দক্ষিন বলয়ের আইভী সমর্থকদের সাথে আনুর সখ্যতা রয়েছে। অন্যদিকে উত্তর বলয়ের ওসমান পরিবারের নাম ব্যবহার করে চাদাঁবাজি করে আনু বিপুল পরিমানের টাকা কামিয়ে নিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে এখনি যদি ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে তাদের চাদাঁবাজি আরও বাড়তে পারে।

 


নগরবাসীর অভিযোগ, নিতাইগঞ্জে এই চাদাঁবাজির কারণে শহরের যানজট তৈরী হয়। আর এতে করে ভোগান্তি পোহাতে হয়। শহরের চাদাঁবাজদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবী তুলেন নগরবাসী। এই সকল চাদাঁবাজরা বেশিরভাগ লোকই নারায়ণগঞ্জের বাহিরের। কিন্তু তারা শহরের চাদাঁবাজি করে লক্ষ টাকা কামিয়ে অনত্রে বাড়িঘর বাধেন।

 

সদ্য অতিরিক্ত ডিআইজি পদন্নোতি প্রাপ্ত জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, আমাদের গোয়েন্দা পুলিশ নজরদারিতে রাখছে। তাছাড়া আমরা বিষয়টা খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।


জেলা ট্রাক ট্যাংলরী ও কভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোরশেদ আলম সাব বলেন, আমাদের এখানে কোন চাদাঁবাজি করা হয় না। আমরা এখানে শ্রমিকদের আপদে বিপদে কাজ করে থাকি। এখানে কোন চাদাঁবাজি করা হয় না। সেই সাথে আমাদের সংগঠনে বর্তমানে কোন বাহিরের লোক নেই। আপনি অফিসে এসে কথা বললে ভালো হয়।

 

জেলা ট্রাক ট্যাংলরী ও কভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনুর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কল রিসিভ করেনি।এমই/জেসি


 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন