Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

চাঁদাবাজি করে কোটি টাকার সম্পদের মালিক আনু

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২২, ০৬:০৩ পিএম

চাঁদাবাজি করে কোটি টাকার সম্পদের মালিক আনু
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক ট্যাংকলরী ও কভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের শুধু নামেই শ্রমিক ইউনিয়ন। কাজে কর্মে শ্রমিক সংগঠনের নামে চাদাঁবাজিই মূল আয়ের উৎস। এই সংগঠনের যারা নেতৃত্বে আসে তাদের বেশির ভাগ নেতাই অল্প সময়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যান। অর্থাৎ অল্পদিনে লাখপতি থেকে কোটিপতি হয়ে যান। গতকাল দৈনিক যুগের চিন্তায় আজমেরী ওসমানের নাম ভাঙিয়ে আনু খোরশেদের চাদাঁবাজি শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই সংবাদ নিয়ে নিতাইগঞ্জসহ শহরের অলিতেগলিতে তাদের নিয়ে ব্যপক সমালোচনা হয়। সেই সাথে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তুলেন শ্রমিকরা।

 

এদিকে অভিযোগ উঠেছে জেলা ট্রাক ট্যাংকলরি কভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের বর্তমানে যারা নেতৃত্বে আছেন তাদের বিরুদ্ধে চাদাঁবাজি সহ শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ তুলেন খোদ শ্রমিকরা। দীর্ঘদিন যাবৎ জেলা ট্রাক ট্যাংকলরি কভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে খোরশেদ আলম সাব এবং ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হিসেবে আছেন আনোয়ার হোসেন আনু। তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন ক্যাশিয়ার সাইফুল ইসলাম পলাশ। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। এদের থেকে ইতোমধ্যে কয়েকজন লাখপতি থেকে কোটিপতি বনে গেছেন। তাকে আর এখন পিছনে তাকাতে হয় না।

 

নিতাইগঞ্জ শ্রমিকদের সাথে আলাপকালে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান, আনোয়ার হোসেন আনু এই সংগঠনের নেতৃত্বে এসে নামে বেনামে কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়ে গেছেন। যার মূল উৎস চাদাঁবাজির টাকা। সে এক সময় হেল্পার থেকে গাড়ি ড্রাইভার হন এখন কয়েকটি গাড়ি মালিক হয়ে গেছেন। যে গাড়ি গুলো ঢাকা-টাংগাইল রোডে চলাচল করে। তাছাড়া যাত্রাবাড়ি এলাকায় আনুর ২ টি ফ্লাট রয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তবে প্রশাসনকে তা তদন্তের দাবী জানান।

 

তার পাশেই আরেকজন গাড়ির ড্রাইভার বলেন, আনুর সহযোগী এই শ্রমিক সংগঠনের আরেক নেতা খোরশেদের নামেও অভিযোগ কম নেই। এই চাদাঁবাজির টাকার ভাগ তিনিও পান। তারও সম্পত্তি কম নেই। তিনি তেমন কোন কাজও করেন না । অথচ অর্ধ কোটির টাকার মালিক হয়ে গেছেন। তারা এত টাকার মালিক কি করে হলো তা তদন্তের দাবী জানাই। সেক্রেটারি আনুর মত একই ভাবে তিনিও তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। 


 
এদিকে অভিযোগ উঠেছে এখানে মূলত ট্রাক শ্রমিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি প্রয়াত নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরী ওসমানের নাম ব্যবহার করে এই সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোরশেদ আলম সাব এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু চাদাঁবাজি করেন। ইউনিয়নের নামে চাদাঁ তোলা এবং চাদাঁর টাকা ভাগযোগ করে খাওয়াই তাদের মূল কাজ।

 

তাছাড়া শ্রমিকদের অভিযোগ প্রায় যুগ ধরে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন হয় না। এখানে নির্বাচন না হওয়ার জন্য আনু খোরশেদকে দায়ী করেন শ্রমিকরা। তবে সংগঠনের বর্তমান শ্রমিক ইউনিয়ন নেতাদের দাবী আগে যাার নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন তারা এই সংগঠনকে জিম্মি করে রেখেছেন। তারা নির্বাচন দিতে চান নাই। কিন্তু প্রায় ১৯ বছর যাবৎ এই সংগঠনের নির্বাচন কেন হয় না তা নিয়ে শ্রমিকদের থেকে প্রশ্ন উঠেছে।

 

একাধিক শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, তাদের চাদাঁবাজি এখনো অব্যাহত রয়েছে। শহরের নিতাইগঞ্জকে কেন্দ্র করে এখান থেকে প্রতিদিন নানা নামে বেনামে লক্ষাধিক টাকা চাদাঁ তুলে তারা। এই চাদাঁর টাকা সিংহভাগ টাকা নিজেরা ভাগভাটোয়ারা করে নেন। বাকিটা তাদের উপদেষ্টার দরবারে পাঠান বলে জানান একাধিক ব্যক্তি। 

 

একটি সূত্র জানান, এখান থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলায় প্রায় দুশ’ গাড়ি ছেড়ে যায়। প্রতিটি গাড়ি থেকে ৬শ’ থেকে ৭শ টাকা চাদাঁ তুলেন। সে হিসেবে প্রতিদিন লাখ টাকার চাদাঁ উঠে এই সংগঠনের নামে। তাছাড়া বিভিন্ন ঘর থেকে মাসিক নিম্নে ১০ হাজার টাকা মাসোয়ারা পান। যার পরিমান লাখ টাকা হবে। ট্রাক ট্যাংলরী ও কভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নামে কল্যাণ তহবিল থাকলেও সেখানে শ্রমিকদের কল্যানে তেমন কোন উন্নয়ন হয় না। শ্রমিকরা অসুস্থ্য হলে কল্যাণ তহবিল থেকে সহযোগীতা করার কথা থাকলেও কোন সাহায্য সহযোগীতা করা হয় না।

 

তাছাড়া কোন শ্রমিক মারা গেলে তাদের পরিবারকে পর্যন্ত কোন টাকা দেয়া হয় না। বেশির ভাগা টাকা ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেন এবং তার সহযোগীরা লুটপাট করে খায়। তাদের পকেটেই এই চাদাঁবাজির মূল টাকা যায়। তার আগে এই টাকার মোটা অংকের অংশ হাজ¦ী রিপনের পকেটে যাইত। এখন যায় আনু এবং পলাশের পকেটে।
নগরবাসীর অভিযোগ, নিতাইগঞ্জে এই চাদাঁবাজির কারণে শহরের যানজট তৈরী হয়। আর এতে করে ভোগান্তি পোহাতে হয়। শহরের চাদাঁবাজদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবী তুলেন নগরবাসী। এই সকল চাদাঁবাজরা বেশির ভাগ লোকই নারায়ণগঞ্জের বাহিরের। কিন্তু তারা শহরের চাদাঁবাজি করে লক্ষ টাকা কামিয়ে অনত্রে বাড়িঘর বাধেন।

 

সদ্য অতিরিক্ত ডিআইজি পদন্নোতি প্রাপ্ত জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, আমাদের গোয়েন্দা পুলিশ নজরদারিতে রাখছে। তাছাড়া আমরা বিষয়টা খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

 

জেলা ট্রাক ট্যাংকলরী ও কভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোরশেদ আলম সাব বলেন, আমাদের এখানে কোন চাদাঁবাজি করা হয় না। আমরা এখানে শ্রমিকদের আপদে বিপদে কাজ করে থাকি। আমাদের নামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সেই সাথে আমাদের সংগঠনে বর্তমানে কোন বাহিরের লোক নেই। আপনি অফিসে এসে কথা বললে ভালো হয়। 

 


জেলা ট্রাক ট্যাংলরি শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনুর দাবী তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ মিথ্যা। শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডে এখনো ৩ লাখ টাকা আছে। তার বিরুদ্ধে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত ছড়ানো হচ্ছে। নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, আমি নির্বাচনের পক্ষে। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন হবে। আমার আগে যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের হাজ¦ী রিপন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই সংগঠনের নেতৃত্বে আসেন। তারা নির্বাচন করে আসেনি। নির্বাচন তারাই বন্ধ করে রেখেছে।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন