ক্ষমতাসীন দলের নেতা মালিক হওয়ায় ব্যবস্থা নেই
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২২, ০৭:০৭ পিএম
# নীরব জেলা স্বাস্থ্য শাখা
গত মাসে সারা দেশের সব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মাসে সারা দেশের সব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৬ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। ২৬ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। তবে নারায়ণগঞ্জে ব্যতিক্রম চিত্র দেথা যায়।
এখানে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ৯৯ টি ক্লিনিক বৈধ এবং ৫৫টি ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার বৈধ রয়েছে। আর বাকি সব গুলোই অবৈধ তালিকায় রয়েছে। তালিকার বাহিরেও অনেক ক্লিনিক, ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অবৈধ তালিকা শহরের ডিআইটি রিজিয়া জেনারেল হাসপতালের নাম রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার কথা। কিন্তু তা না হয়ে তারা দেদারছে তাদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। নগরবাসীর অভিযোগ এই হাসপাতালের মালিক জেলা আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. নিজাম আলী ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জেলা স্বাস্থ্য শাখা ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
ভুক্তভোগিদের অভিযোগ রয়েছে ক্লিনিক গুলো যেন কসাই খানা খুলে বসেছে। তাদের কাছে বিভিন্ন রোগের পরীক্ষা করাতে গেলে অতিরিক্ত টাকা নেন। তাছাড়া গর্ভবতী মায়েদের নরমাল ডেলিভারি না করে তাদের ছিজার করার পরামর্শ দেয়া হয়। ছিজারের মাধ্যমে রোগির থেকে তারা বেশি টাকা পান। অনেক সময় ভুল রিপোর্টের কারণে চিকিৎসার ব্যাঘাত ঘটছে। অনেকের ভূল চিকিৎসার কারনে রোগি পর্যন্ত মারা যান।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ডিজি হেলথ ছাড়পত্র কাগজ নেই। সেই সাথে ফায়ার সার্ভিস অনুমোদন কাগজ আবেদন করলেও এখনো তা পান নাই। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের কাগজও নেই। তার পরেও তারা দিব্বি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ডিআইটি রিজিয়া হাসপাতালও অবৈধ তালিকায় রয়েছেন। এই হাসপাতালটি জেলা আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. নিজাম আলী পরিচালনা করেন।
কয়েকজন ব্যক্তি জানান তারা ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় প্রভাব দেখিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ডা. নিজাম আলী দাবী করেন তারা ২২ বছর যাবৎ চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সকল ধরনে কাগজপত্র রয়েছে। তবে কোন কাগজ তারা দেখাতে পারেন নাই। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী এই সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু সেই নির্দেশনা মানার কোন তোয়াক্কাই তারা করছেন না।
এবিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মশিউর রহমান জানান, অনেকে লাইসেন্স এর আবেদন করে রেখেছে। তাছাড়া যাদের অনুমোদন নেই তাদের বিষয়ে আমরা সপ্তাহে একদিন অভিযান পরিচালনা করে সিলগালা করছি। ইতিমধ্যে কয়েকটি অবৈধ ক্লিনিক ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার সিলগালা করেছি।


