Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বেড়েছে ধর্ষণের ঘটনা

Icon

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২২, ০৭:০১ পিএম

বেড়েছে ধর্ষণের ঘটনা
Swapno


 

# ১৪ দিনে ৬ ধর্ষণের ঘটনা
# বেশিরভাগ ঘটনাই প্রেমঘটিত
# অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে : এসপি

 

গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বাদ যায়নি প্রতিবন্ধী কিংবা ছয় বছরের শিশুও। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়েছে এসব নারী ও শিশুকে। বিচার না হওয়ায় এই পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন দুষছেন মানবাধিকারকর্মীরা। দেশব্যাপী হঠাৎ বেড়ে গেছে ধর্ষণের ঘটনা। ধর্ষকের লোলুপ দৃষ্টি থেকে বাদ যাচ্ছে না শিশু ও বৃদ্ধরাও। এমনকি রেহাই পাচ্ছেন না বাক-প্রতিবন্ধী বা ভবঘুরে পাগলও। বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে চরম নৈতিক অবক্ষয়, আকাশ সংস্কৃতি, মাদকের বিস্তার, বিচারহীনতা, বিচার প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা ও বিচারের দীর্ঘসূত্রতা।

 

১ জুন বন্দরে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইলিং করে ধর্ষণ চেষ্টা ও অশ্লীল ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামী করে বন্দর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলো, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বালিয়া এলাকার রিনা, চুনাভুড়া এলাকার আজিজ মিঞার ছেলে পাভেল (৩০), চুন্নু মিয়ার ছেলে আলী (৪৫) ও বালিয়া এলাকার মৃত বাছেদের ছেলে জনি (২৫)।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আসামী জনি ভুক্তভোগিকে ফোন করে বন্দর চুনাভুরা এলাকায় বিবাদী পাভেলের বাড়িতে বিভিন্ন ভাবে ব্ল্যাকমেইল করে ডেকে নিয়ে যায়। ২নং বিবাদী পাভেল ভিকটিমের পরনের পোশাক খুলে স্পর্শ কাতর জায়গায় হাত দেয় এবং জড়িয়ে ধরে। জনি এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে এবং ছবি তুলে রাখে। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলে মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে।

 

বন্দরের এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ৩ জুন বন্দরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে (২১) বছরের যুবতীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে লম্পট নুরুল আমিনকে আসামী করে বৃহস্পতিবার সকালে বন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ৫(৬)২২। ভু’ক্তভোগী যুবতীর পিতা ও মাতা কাজে যাওয়ার সুবাদে লম্পট নুরুল আমিন ওই যুবতী বসত বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে লম্পট নুরুল আমিন উল্লেখিত যুবতীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষন করে।

 

ফতুল্লা ৪ জুন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নিজের কর্মস্থলেই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন পোশাক কারখানার এক নারী শ্রমিক। (৪ জুন) ফতুল্লার রঘুনাথপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের পিছনে একটি পোশাক কারখানায় ওই নারীকে দু’জন মিলে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা হয়। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ রিজাউল হক।
এদিকে (৬ জুন) সিদ্ধিরগঞ্জে ১৪ বছরের এক মাদরাসা ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় শাহীন (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ পুলিশ। সোমবার (৬ জুন) দুপুরে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শাহীনের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

 

১১ জুন বন্দরে বিয়ের প্রলোভনে (২০) বছরের এক তরুনীকে ধর্ষনের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ভুক্তভোগী তরুনীর মা বাদী হয়ে ধর্ষক মেহেদী হাসান সম্রাটসহ ৩ জনের নাম উল্লেখ্য করে বন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা দায়ের করেন। বন্দর থানা পুলিশ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। ১১ জুন বেলা সাড়ে ১১টায় বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চাঁনপুর এলাকায় ওই ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে।

 

১৩ জুন আড়াইহাজারের মনোহরদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী (কিশোরী) কে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা করেছে এক বাবা। দীর্ঘদিন থেকে ক্ষুদে ওই শিক্ষার্থীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর স্কুলের ছাদে তাকে ধর্ষণ করে আসছিল। সোমবার (১৩ জুন) এই ঘটনায় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলাটি দায়ের করলে পুলিশ আইনের সাথে সংঘতে জড়িত কিশোরকে ধৃত করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আড়াইহাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুল হক হাওলাদার। তিনি জানিয়েছেন, ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করার পর ওই কিশোরকে হেফাজতে নিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

১৫ জুন ফতুল্লায় তৃষ্ণার্ত যুবককে পানি পান করাতে গিয়ে এক কিশোরী (১৫) ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৫ জুন) ঘটনার পাঁচ দিন পর ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত যুবকের নাম রিয়াজ হোসেন (২০)। সে জামালপুরের ইসলামপুর বেপারী পাড়ার রফিক আলী সরদারের ছেলে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন জানান, অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মামলা হিসেবে গ্রহন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আসামী পলাতক রয়েছে।

 

সদ্য অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, ধর্ষণের ঘটনার ক্ষেত্রে তাদের সহমত রয়েছে। পরে ঝামেলা হলে তারা ধর্ষণের মামলা করেন। এই ধর্ষণ রোধে প্রতিটি সন্তানের পিতা মাতাকে সচেতন থাকতে হবে। সেই সাথে ছেলে-মেয়েরা কোথায় যাচ্ছে কি করছে তার খোজ খবর নিতে হবে।এমই/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন