বিরূপ আবহাওয়ায় নারায়ণগঞ্জ, নৌ-পথে যাত্রী সংখ্যা কম
লিমন দেওয়ান
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২২, ০৯:১৪ পিএম
#লঞ্চ দুর্ঘটনার ভয়ে এখন লঞ্চ দিয়ে চলাচল কম করি : যাত্রী
#কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কা নাই : নৌ-ট্রাফিক ইন্সপেক্টর
নারায়ণগঞ্জ নৌ পথে আগের মত যাত্রী আর হয় না। বেশ কয়েকটি লঞ্চ দূর্ঘটনার কারণে,লঞ্চ দিয়ে বেশি একটা যাতায়াত করে না যাত্রীরা। নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রতিদিন চাঁদপুর,মতলব ও মুন্সিগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি রুটে চলাচল করে লঞ্চ। গতকাল সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, আগের থেকে লঞ্চের সংখ্যা অনেকটাই কম। তার পাশাপাশি যাত্রীর সংখ্যা ও কম।
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ টু চাঁদপুর লঞ্চের একজন সুকানি জানান, আমাদের এখানে প্রতিদিন চাঁদপুরের উদেশ্যে লঞ্চ ছাড়া হয় কিন্তু লোক আর আগের মত হয় না। আমাদের ১৭০ জন যাত্রীর সিট কিন্তু প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ জন যাত্রী নিয়ে যেতে হয়। আপাতত যে আবহাওয়া সেটা আমাদের আয়ত্তের মধ্যে আছে। আর আবহাওয়া যদি খারাপ হয় বাতাসের গতি যদি বেড়ে যায় আমাদের চালানোর উপযুক্ত যদি না থাকে তাহলে আমার চলাবো না। আবহাওয়া যখন আয়ত্তের বাহিরে চলে যায় তখন চালানো ঠিক না। এখন মনে করেন আমি রুটে চলে গেছি ঘাট ত্যাগ করে ফেলেছি।
এমন সময় বাতাসের গতি বেড়ে গেছে তখন আমরা যেকোনো একটা পাশে সাইট করে রাখি। যাত্রীদের তাদের গন্তব্য স্থানে পৌছানো আমাদের লক্ষ্য। আর যদি লঞ্চ বন্ধ করে রাখি তাহলেতো আমাদের আর সংসার চলবে না। নদী বন্দর এখন অনেক সচেতন। কিছুদিন আগে লঞ্চ দূর্ঘটনার পরে আমাদের যখন ছোট লঞ্চ বন্ধ করে দেওয়া হলো তখন আমাদের সংসার নিয়ে অনেক অভাব অনাটনে পড়তে হয়েছে। ওই দূর্ঘটনার পর থেকে মানুষ আর আগের মতো লঞ্চে চলাচল করে না। আগের মতো অর্ধেক যাত্রী এখন আমরা পাই না।
এবিষয়ে হাবিবুল্লাহ নামের এক চাঁদপুরের যাত্রী জানান, এই রুটের ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ আছে কিন্তু অনেকদিন হয়েছে আমরা এই রুটে চলাচল করছি আমারা এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যার সম্মুখীন হইনি। আর ভাগ্যে যা লেখা আছে তা হবে। এটাতো আমরা আর ঘুরাতে পারবো না। আর এই আবহাওয়া বেশি খারাপ মনে হয়নি। তাই আমরা এই চাঁদপুরের উদ্যেশ্যে রওনা দিচ্ছি।
নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল ঘাটের টোল কাউন্টারের ইজারাদার জানান, আগের মত লোক সংখ্যা হয় না ,আজকে প্রায় ৩০০ টিকেট বিক্রি হয়েছে। লঞ্চ দূর্ঘটনার পর থেকে মানুষ আর লঞ্চ দিয়ে চলাচল করে না। মানুষ অনেক সতর্ক হয়ে গিয়েছে। তাই আমাদের আর আগের মতো টিকেট বিক্রি এখন নাই বললেই চলে। লঞ্চ ঘাটের এখন অনেক করুন অবস্থা চলছে।
এবিষয়ে মুন্সিগঞ্জের মালেক নামের একজন জানান, বেশ কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ যাওয়ার পথে একটি লঞ্চ দূর্ঘটনা ঘটে। সেখানে অনেকেই মারা গিয়েছেন। সেই ভয়ে এখন আর লঞ্চ দিয়ে চলাচল করি না। এ ছাড়া ও নারায়ণগঞ্জ টু মুন্সিগঞ্জগামী চলাচল লঞ্চগুলো প্রায় ছোট এবং ঝুকিপূর্ণ। এমনিতেই বর্ষাকাল, আবার নদীর প্রচুর স্রোত এই অবস্থাতে এমন ঝুকিপূর্ণ লঞ্চ দিয়ে চলাচল করা সম্ভব না। এখন আমার বেশির ভাগ সময় সড়ক পথে চলাচল করি। টাকা একটু বেশি লাগলেও ঝুঁকি এবং সময় কম লাগে।
এ বিষয়ে নৌ-ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সেলিম জানান, সিগন্যাল যদি চলার মতো হয় তবে লঞ্চ চলবে সিগন্যাল যেহেতু এক নাম্বার এতে কোনো সমস্যা হবে না লঞ্চ চলতে পারবে। বৃষ্টি, আবহাওয়া ও মেঘের উপরে এটা নির্ভর করে। আমাদের এখানে যে লঞ্চগুলো চলে সেটা মূলত আবহাওয়ার সিগন্যালের উপর নির্ভর করে চলে। দুই নাম্বার সিগন্যাল বা তিন নাম্বার সিগন্যাল হলে এরকম হওয়ার আসঙ্কা বেড়ে গেলে আমারা লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখি। যদিও সবার কাছে আকাশ অনেক খারাপ মনে হচ্ছে, কিন্তু নদী শান্ত।
এই জন্য লঞ্চ চলছে আর এই বন্যার মৌসুমে লঞ্চ চলবে এতে কোনো দূর্ঘটনার আসঙ্কা নাই। এর আগে যে ছোট ছোট লঞ্চগুলো দূর্ঘটনার কবলে পরেছে সেগুলো কিন্তু আবহাওয়ার কারণে হয় নাই। এটা হইছে সংর্ঘষের জন্য এখন পর্যন্ত আল্লাহর রহমতে নারায়ণগঞ্জে কোনো লঞ্চ আবহাওয়ার কারণে দূর্ঘটনা ঘটেনি। যতগুলো লঞ্চ দূর্ঘটনা হয়েছে সবগুলো কিন্তু সংর্ঘষের কারণে হয়েছে। আর আমাদের এখানে প্রাকৃতিক দূর্যোগ বা ওবার লোডের কারণে কোনো দূর্ঘটনা ঘটেনি। এমই/জেসি


