প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে বন্ধ হল মার্কেট- দোকান
লিমন দেওয়ান
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২২, ০৭:৩৯ পিএম
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সাশ্রয়ে সোমবার রাত ৮টার পর থেকে সারাদেশের দোকান, বিপণিবিতান, শপিংমল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। করোনার কারণে ও ব্যাবসায়ীরা অনেক ক্ষতিগ্রস্থের শিকার হয়েছে। এটা কাটিয়ে উঠতে না উঠতে আবার সরকারের এই সিদ্ধান্তে অনেক ব্যবসায়ী অখুশী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়
এ বিষয়ে মার্ক টাওয়ারের ব্যবসায়ী মিঠু জানান, এর আগেও করোনার কারণে গত ২ বছর আমাদের ব্যাবসা হয়নি। আমরা অনেক বড় একটা সমস্যার মধ্যে ছিলাম ওই ২ বছর। এখন সামনে ঈদুল আজহা যা মূলত আমাদের ব্যাবসায়ীক সিজন। হাতে আছে কিছু দিন সময়। এর মধ্যে রাত আটার ভিতরে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমাদের ব্যাবসার জন্য অনেক বড় একটি ধাক্কা। এই সময়টা আমাদের একটি মূল্যবান সময়।
দেখা যায় কাস্টমার বেশির ভাগ সময় আসে রাত ৯ টায় বা ১০ টায়। এই সময় অনেকে অফিস বা বিভিন্ন কাজ সেড়ে আমাদের এখানে আসেন কিছু কিনার জন্য। আর এই দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত আমাদের ব্যাবসার একার ক্ষতি না। এটা পুরো নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য একটা খারাপ এফেক্ট পরে গেল। আমরা সরকারের উপরে কোনো অখুশী না । আমরা অখুশী কিছু কিছু মানুষের উপর। যারা এই ধরণের সিদ্ধান্তগুলো নেয় আমাদের এমন খারাপ এফেক্ট করার জন্য।
এবিষেয়ে এক ক্রেতা জানান, আমরা সারাদিন কাজ করি। সন্ধ্যার পরে আমরা পরিবার নিয়ে কেনা কাটার জন্য বেড় হতাম। কিন্তু সরকারে এই সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের একদিন কাজ বন্ধ রেখে পরিবার নিয়ে শপিং করতে আসতে হবে। এতে করে আমাদের একটা কর্মদিবস ক্ষতিগ্রস্ত হল। আর এটা শুধু আমার কথা নয় এটা পুরো দেশের মানুষের কথা।
এবিষয়ে শান্তনা মার্কেটের ব্যবসায়ী বিশ^ রঙয়ের ম্যানেজার নান্নু জানান, সরকারি সিদ্ধান্তর ব্যাপারে আমরা সবসময় আন্তরিক। সরকার যে সিদ্ধান্ত দেবে সেই সবগুলো আমরা মানি। কিন্তু আমাদের ব্যাবসায়ী কোম্পানী সব কিছু চিন্তা করলে আসলে এই সময়টায় ঈদের আগ পর্যন্ত অন্তত আমাদের দরকার ছিল যে,আগামী ১০ থেকে ১৫ দিন অন্তত আমাদের জন্য যদি ১০ টা পর্যন্ত করা হয়। তারপরে ও মনে হয় এটা আমাদের ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক ভালো হবে।
না হলে এই সময়টা মনে করেন আসলে আটটা পর্যন্ত মাত্র বললে সন্ধ্যা মানুষ আসার যে সুযোগ টা থাকা দরকার সেই সুযোগটা কিন্তু পাচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে আসলে ব্যাবসায়ীদের জন্য এটা অনেক বড় একটি লস। এই সিদ্ধান্তটা আমাদের অনেকটাই পিছনের দিকে যাওয়ার অবস্থা। যেমন বর্তমান কয়েক বছর করোনার অবস্থায় ব্যাবসা কোনোভাবেই সাভলম্বী হতে পারে নাই।
এখন এই সময়টা আমরা চাই গর্ভমেন্ট যদি চিন্তা করে। সরকার যদি চিন্তা করে ব্যাবসায়ীক এই সিজনটা ১০ টা পর্যন্ত সময় করে দেওয়া হক। তাহলে আমাদের ব্যাবসায়ীদের জন্য অনেক ভালো হতো।
এ বিষয়ে দিগু বাবুর বাজারের এক মুদি দোকানি শফিক মিয়া জানান, আমরা মনে করি এখন দুই ঘন্টা আগে বন্ধ করলে কি হবে। আমাদের ব্যাবসাতো এমনেতেই অনেক ক্ষতিগ্রস্ত কারণ করোনাকালীন সময় ছিল দুই থেকে আড়াই বছর। তার পরে করোনা শেষ না হইতে এখন দ্রব্যেমূল্যের উধ্বগতি চলছে। বাজার এর অবস্থা ও ভালো নেই আমাদের ব্যবসা এখন অনেক খারাপ।
আর এখন ব্যাবসার যে ক্ষতি হচ্ছে আমাদের এটা আমি আপনাদের বলে বুঝাতে পারবো না। আর এখন আবার এমন দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এখনতো আমাদের আমদানি আরো ৫০% কইমা যাইবো। এখন মনে করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে যাইয়া যদি আমাদের দোকান বন্ধ রাখতে হয়। তাহলে আমরাতো অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে। এর এমনেই যে ক্ষতিগ্রস্থ হইছি ওইটাইতো বরন করতে পারতেছি না।
এবিষয়ে কালির বাজারের এক পাইকারী ব্যবসায়ী শরিফ জানান, করোনার কারণে গত দুই বছর আমাদের ব্যাবসা বানিজ্য বন্ধ ছিল। বেচাকিনা করতে পারি নাই। তারপরে আবার হঠাৎ করে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার। আমরাতো সবসময় রাত দশটা সাড়ে দশটা পর্যন্ত খোলা রাখতাম। এতুটুকো সময়ের মধ্যে বেচা কিনা ভালো হয় না। আবার বৃষ্টির দিন মানুষ অনেক কম। আবার এমন সমস্যার ভিতরে এই সিদ্ধান্ত আমাদের অনেক ক্ষতিগ্রস্তর দিকে ফেলছে। এসএম/জেসি


