#গোডাউনে থাকা ক্যামিকেল সম্পর্কে ধারণা থাকলে ভাল হত : সহকারী পরিচালক
নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ব্যবসা কেন্দ্র। তবে নানা রকম কেমিক্যালের একমাত্র মার্কেট টানবাজার। সেখানে ঝুঁকি নিয়ে চলছে রাসায়নিক ব্যবসা। বানিজ্যিক এলাকা হলেও সেখানে রয়েছে আবাসিক ভবন। মূলত কেমিক্যাল মার্কেটের উপরেই ঝুকিপূর্ণ ভাবে থাকছে সাধারণ জনগণ। তবে কিছুদিন আগেই চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ‘হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড’ নামের একটি রাসায়নিক পদার্থের বিস্ফোরণে চট্টগ্রামবাসীসহ পুরো দেশের মানুষ আতঙ্কিত হয়। প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিস্ফোরণের কম্পন অনুভূত হয়। আতঙ্ক থেকে বাদ পড়েনি নারায়ণগঞ্জবাসীও। কেমিক্যালের কারণে বড় কোনো দূর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে নারায়ণগঞ্জের টানবাজারবাসী। ঐতিহ্যবাহী টানবাজারে পাইকারি ও খুচরা দরে কেমিক্যাল বিক্রি করা হয়।
২২ জুন সরেজমিনে টানবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মার্কেটে রয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক কেমিক্যালের দোকান , মার্কেটে দোকানগুলোয় ডাইস কেমিক্যাল, প্রিন্টিং কেমিক্যালসহ আরো কয়েক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ সিটি কর্পোরেশনের অনুমতিতে বিক্রি করা হয়। তবে এসিড, পার-অক্সাইড, নাইট্রেট জাতীয় দাহ্য পদার্থ সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি ছাড়াই বিক্রি করা হয়। মার্কেটের সামনে ক্যামিকেল ও রঙ এর ড্রাম থাকলেও তারা অস্বীকার করেন যে তারা কেমিক্যাল বিক্রি করেন না। তবে দেখা গেছে মার্কেটের নিচতলায় রয়েছে কেমিক্যালের গোডাউন।
মার্কেটের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জানা যায়, নারায়ণঞ্জের টানবাজার, নিতাইগঞ্জ সহ শিবু মার্কেট এলাকায় রয়েছে জেলা প্রশাসকের অনুমতি প্রাপ্ত কেমিক্যালের গোডাউন। তিনি আরও জানান, এসব কেমিক্যাল কোনো দাহ্য পদার্থ নয়। সিটি কর্পোরেশন থেকে যে যে কেমিক্যাল বিক্রির অনুমতি রয়েছে এখানে শুধু ওই কেমিক্যালই বিক্রি করা হয়।
বেশির ভাগ দোকান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন থেকে বরাদ্দ দেওয়া ভবনগুলোর নিচ তলায়। নিচ তলা বাদে পুরো ভবনেই বাস করে অনেক পরিবার। তবে পদ্মা সিটি প্লাজা ১ ও পদ্মা সিটি প্লাজা ৪ এই দুটি ভবনে কোনো পরিবার বসবাস করেন না। তবে শুধু সিটি কর্পোরেশন থেকে দেওয়া ভবনেই নয়, বাদ পড়েনি সাহাপাড়া, মিনাবাজার, করিম মার্কেট, নিমতলা ও নিতাইগঞ্জের বিভিন্ন আবাসিক ভবনের নিচ তলায় রয়েছে কেমিক্যালের দোকান। নিতাইগঞ্জে দোকান না থাকলেও রয়েছে গোডাউন। যেখানে কেমিক্যাল মজুদ করে রাখা হয়।
এসব এলাকা ব্যবসায়িক এলাকা হলেও সময়ের সঙ্গে এই এলাকায় গড়ে উঠেছে আবাসিক ভবন। যেখানে মানুষ সপরিবারে বসবাস করে। আশে পাশে এলাকার মানুষ রয়েছে দুশ্চিন্তায়। বানিজ্যিক এলাকা হওয়ার কারণে এখানে তারা কেমিক্যাল বিক্রিতে বাধা দিতে পারেন না। তাই আতঙ্ক থেকেই যায়।
সেখানকার এক বাসিন্দা জানান, ঝুঁকি থাকলেও কিছু করার নেই, ব্যবসাকেন্দ্র হওয়ায় আমরা তেমন কিছু বলতে পারি না। আর অনেক দিন ধরেই ব্যবসায়ীরা এই কেমিক্যালের ব্যবসা করেন, তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। এসব কেমিক্যালের দোকান ও গোডাউন নিয়ন্ত্রণ তদারকির আহ্বান জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিটি কর্পোরেশনকে। আমরা চাই চট্টগ্রাম এর মতো ভয়াবহ দূর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে এ শহরে।
সেখানের একজন রঙ ব্যবসায়ী জানান, এখানে এখনো কেমিক্যারেল গোডাউন আছে । কিন্তু আগুন লাগার মতো কোনো কিছু বিক্রি করা হয় না। এখানে একবার সুতার গোডাউনে আগুন লাগলেও কেমিক্যালের কারণে কোনো ক্ষতি হয়নি। এই মার্কেটে কোনো দাহ্য পদার্থ পাওয়া যায় না। এবং আমরা এখানে যে ব্যবসা করি তার জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি রয়েছে।
একজন কেমিক্যাল ব্যাসায়ীর সাথে কথা হলে তিনি যুগের চিন্তাকে জানান, নিতাইগঞ্জ থেকে টানবাজার পর্যন্ত একটা ব্যবসায়ের এলাকা, এতোটুকু জায়গা দিয়ে যে আয় হয় তা দিয়ে পুরো বাংলাদেশ চালানো যায়। বর্তমানে এখানে কিছু উচু ভবন হওয়ায় এখন আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বলে, তাহলে কিভাবে চলবে?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টানবাজার এর এক ব্যবসায়ী জানান, টানবাজার, মিনাবাজার, সাহাপাড়া, নিতাইগঞ্জ, এলাকায় কেমিক্যাল গোডাউন রয়েছে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো এখানে রয়েছে আবাসিক ভবন। আবাসিক এলাকায় কেমিক্যাল গোডাউন থাকা যে বিরাট ঝুকিঁপূর্ণ তা তিনি পুর্নব্যক্ত করেন। তিনি আরোও বলেন এখানে যদি কোনো দূর্ঘটনা ঘটে তাহলে তা মারাত্মক আকার ধারণ করবে। জান ও মাল নিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হবে ব্যাপক। এ নিয়ে তার দুশ্চিন্তার শেষ নেই।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক জানান, টানবাজার ও নিতাইগঞ্জে কিছু ছড়ানো ছিটানো কেমিক্যালের গোডাউন আছে। কিছু গোডাউন সম্পর্কে তারা জানেন এবং বাকিগুলোর বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। যদি জানতেন, তাহলে তারা আরো সতর্ক থাকতে পারতো। এই ছড়ানো ছিটানো গোডাউনগুলো যদি একটা নির্দিষ্ট স্থানে থাকতো তাহলে আমরা ওই ব্যাপারে আরো সর্তক থাকতাম।এমই/জেসি


