# আমাদের স্বপ্নের সেতু : আনোয়ার হোসেন
# প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী সাফল্য: আরজু ভূইয়া
# শেখ হাসিনার মাধ্যমেই বাংলাদেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে: এড. দিপু
আজ ২৫ জুন। বহুল আকাঙ্খিত পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধন হবে আজ। বহুল আকাঙ্খিত এবং বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতু উদ্বোধনের অপেক্ষায় পুরো দেশ। আজ পদ্মার পাড়ে কয়েক লাখ মানুষ উন্মুখ হয়ে ঐতিহাসিক এই দিনের স্বাক্ষী হবেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা বহুমুখী সেতুর উদ্বোধন করবেন। মানুষের মাঝে এনিয়ে প্রতিক্রিয়া পদ্মা সেতু আমাদের অহংকার, আমাদের গর্ব। পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজের গুণগত মানে কোনো আপস করা হয়নি। এই সেতু নির্মিত হয়েছে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও উপকরণ দিয়ে। নির্মাণপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে। পদ্মা সেতুর পাইল বা মাটির গভীরে বসানো ভিত্তি এখন পর্যন্ত বিশ্বের গভীরতম। পদ্মা সেতু নিয়ে সারদেশে উন্মাদনার মতোই নারায়ণগঞ্জবাসীও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এই সেতুর উদ্বোধনের জন্য।
পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের স্বপ্নের সেতু। এই সেতু উদ্বোধন হতে যাচ্ছে এতে আমরা আনন্দিত ও উদ্বেলিত। পুরো দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এই সেতুর সুবিধা ভোগ করবে। আমরা নারায়ণগঞ্জ শহরের মানুষও অনেক উপকৃত হবো। যাতায়াতে অনেক সুবিধা হবে। সর্বাদিক থেকে এই সেতু করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা। আমরা তার দীর্ঘায়ু কামনা করি। নারায়ণগঞ্জ জেলাসহ পুরো দেশের মানুষ যোগাযোগ মাধ্যমে বৃহৎ পরিবর্তন আসবে। আমরা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উদ্যাপনে জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করছি। জেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রায় ৩০ লাখ টাকার টি-শার্ট সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে জেলা পরিষদের আয়োজনে আতোসবাজির মাধ্যমে স্বাগত জানানো হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া বলেন, কালকে (আজ) যে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হচ্ছে, তা বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী সাফল্য। বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে দেশ স্বাধীন করে বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন, তার সুযোগ্য কন্যা এই জাতিকে একটি বৃহত্তম সেতু উপহার দিচ্ছেন। এই উপহারটা আমাদের নেত্রীর একটি বিরাট সাফল্য। বঙ্গবন্ধুর মতো তিনিও যে কথা দিয়ে কথা রাখেন তা এই সেতু তৈরি এবং উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রমাণ করতে পেরেছেন। এই দেশকে তিনি যে আগামীতে আরও অনেক উঁচুতে নিয়ে যেতে পারবেন তার প্রমাণ তিনি দিতে পেরেছেন।
এই বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু বলেন, একটি স্বপ্ন যখন বাস্তবে রূপ নেয় হয় তখন মনের আবেগ প্রকাশ করার মতো কোন ভাষা থাকে না। পদ্মা সেতু আমাদের স্বপ্ন ছিল, জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বের কারণে অনেক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিয়েছেন তিনি। আগামী কাল (আজ) উদ্বোধন হবে। সারা বিশ্ব তাকিয়ে দেখবে আমাদের স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এটা প্রমাণিত হচ্ছে যে, আমরা ইচ্ছে করলেই অনেক কিছু করতে পারি। জাতির জনকের এই দেশের মানুষ বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সেনাবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিল। তারই সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে আজ পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন হয়েছে। আমি সারা বাংলাদেশের মানুষের উদ্দেশ্যে বলব, আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার জন্য যেন সবাই দোয়া করেন। তিনি বেঁচে থাকলেই বাংলাদেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
এই বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের সেতু। আগামী কালের (আজকের) স্বপ্নের এই সেতু উদ্বোধন সারা বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত উৎসাহ উদ্দীপনার সহিত উদ্যাপন করবে বলে আমার মনে হয়। এই উৎসব আমাদের দেশের ঈদের যে আনন্দ উৎসব তার চেয়েও বড় উৎসবে পরিণত হবে বলে আমি আশাকরি। কারণ ঈদ একটি ধর্মীয় উৎসব। যা শুধু মাত্র মুসলমানকে কেন্দ্র করে বা একটি ধর্মকে কেন্দ্র করে উৎসব হয়। কিন্তু এই উৎসবটি হবে সকল ধর্মের, সকল বর্ণের সমষ্টিগত উৎসব, বাঙালি জাতির উৎসব। তিনি বলেন, এই পদ্মা সেতু এশিয়ার একটি বৃহত্তম সেতু, যা আমারে নিজস্ব অর্থায়ণে, বাংলাদেশের মানুষের টাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। এই জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ূ ও সু-স্বাস্থ্য কামনা করি। তিনি যেন এই বাংলাদেশকে এর চেয়ে আরও বড় এবং ভাল কাজ উপহার দিতে পারেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামটা যেন সারা বিশ্বে উজ্জ্বল হয়ে থাকে। সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে যে, পদ্মা সেতু আজ উদ্বোধন হবে।
মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূইয়া (সাজনু) বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন, সারা বিশ্বে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে বাংলাদেশের সামর্থ্য দেখাতে সমর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ যে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে আমরাও নিজের সামথ্যে বড় কিছু করতে পারি এই সেতুর মাধ্যমে বিশ্বকে তিনি আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলার জনগণ সেটা পেরেছে। তিনি বলেন ’৭১ নিয়ে যেমন গর্ব করি। ’৭১-এ যেমন ত্রিশ লাখ লোকের প্রাণের বিনিময়ে ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা এই দেশকে স্বাধীন করেছি, তেমনি তার কন্যার নেতৃত্বে এই পদ্মা সেতুর নির্মাণ এবং উদ্বোধন সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে আমাদেরও যোগ্যতা আছে। ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আরও বড় বড় উন্নয়ন দেখতে পারবো বলে আমি মনে করি।
মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জল এই বিষয়ে বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের যে আনন্দ তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। জননেত্রী শেখ হাসিনার এই দুঃসাহসী কর্মের জন্য তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণাঞ্চলের সাথে সারা বাংলাদেশের যে সেতু বন্ধন তৈরি করতে পেরেছেন, এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ঝুঁকি নিয়ে সফল হয়েছেন তার জন্য আমরা জননেত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই এবং দীর্ঘায়ু কামনা করি। নদীর পারের মানুষের মধ্যে যে সেতু বন্ধন তৈরি করেছেন তা নজিরবিহীন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যেমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রাখেন, তেমনি তার সুযোগ্য কন্যাও যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি পুরণ করেন এই পদ্মা সেতুই তার উদাহরণ। তিনি এখন শুধু বাংলাদেশের নেত্রী না, তিনি বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত হয়ে থাকবেন।এমই/জেসি


