পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে বর্ণিল সাজে সজ্জিত নারায়ণগঞ্জ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২২, ০৭:৪৩ পিএম
অপেক্ষার পালা প্রায় শেষ। দীর্ঘ সাড়ে সাত বছর অপেক্ষার অবসান করে আর মাত্র কয়েক প্রহর পরেই বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত ধরে পদ্মার বুকে স্বপ্নের সেতুর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। সপ্ন সত্যি হওয়ার সেই ঐতিহাসিক মূহুর্তের দিকে চোখ দেশবাসী সহ গোটা বিশ্বের। এই স্বপ্নের সেতুর উদ্বোধন ঘিরে সাজ সাজ রব গোটা দেশে। শিশুদের নাম রাখা হচ্ছে পদ্মা সেতুর নামানুসারে।
এ থেকেই বোঝা যায় পদ্মা সেতু জনমনে কতটা আগ্রহ আর উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এটা পরিনত হতে যাচ্ছে জাতীয় উৎসবে। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সারা দেশে প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হবে। এই অনুষ্ঠান ঘিরে উৎসবের আমেজ লেগেছে নারায়ণগঞ্জেও।
পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উদযাপন উপলক্ষে দুই সপ্তাহ ব্যাপী জেলা প্রশাসক কর্তৃক বিভিন্ন কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে। বর্নিল সাজে সেজেছে শহর, উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে শহরজুড়ে। সেতু সম্পর্কিত ব্যানার,ফেস্টুন,পোস্টারে ছেয়ে গেছে শহরের গুরুত্বপূর্ন সব জায়গা।
এছাড়া জেলার গুরুত্বপূর্ন সরকারি ভবন,রাস্তা ও বিভিন্ন স্থাপনায় করা হয়েছে আলোকসজ্জা। শহরের চাষাড়া মোড়ের বিজয় স্তম্ভও সেজেছে আলেকামালায়। নগরীর রাসেল পার্ককে সাজানো হয়েছে বর্নিল সাজে। এ সবই উৎসবের আমেজ বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুন।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক ১৯ জুন ২০২২ থেকে ২৫ জুন ২০২২ পর্যন্ত সময়কালে গুরুত্বপূর্ন সরকারি ,আধা সরকারি,স্বায়ত্বশাসিত এবং বেসরকারি ভবন/স্থাপনাসমূহে ড্রপডাউন ব্যানার বা ফেস্টুেন সজ্জিতকরন করা হয়েছে। এবং শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ সমূহে পদ্মা সেতু সম্বলিত বিভিন্ন রঙিন ব্যানার ,ফেস্টুনে দ্বারা সাজানো হয়েছে।
এছাড়াও জেলা পরিষদ কর্তৃক সমগ্র জেলায় রিক্সাচালক,বাস চালক,হেলপার,এবং গার্মেন্টস কর্মীদের একযোগে টি শার্ট বিতরন করে শহরকে রঙিন করে দেওয়া হয়েছে। শেখ রাসেল নগর পার্ক,চাষাড়া মোড়,চিটাগাং রোড ও সকল উপজেলা পরিষদে একযোগে মনোমুগ্ধকর আতশবাজির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি মূলত একেএম শামছুজ্জোহা স্টেডিয়াম এ উদযাপিত হবে। সাজসজ্জা ছাড়াও জেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক এ সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেতু সম্পর্কিত রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতাল,জেলখানা,শিশুসদন,এতিমখানা ও সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। যা উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
সেতু উদ্বোধন পরবর্তী সময়কেও উৎসবমুখর রাখতে ২৬ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত সাত দিনব্যাপি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শহরের বাসিন্দা হোসেন মিয়া যুগের চিন্তাকে জানায়, পদ্মা সেতু আমাদের স্বপ্ন।এ উপলক্ষে শুধু সরকার ও আওয়ামী লীগ নয়,পুরো দেশ বাসী খুশি। আমরা আনন্দিত এবং গর্বিত।
মতি নামের আরেকজন জানায়, আমরা মূলত দেশের জাতীয় উৎসব তথা স্বাধীনতা দিবস,বিজয় দিবস ,ভাষা দিবস ,ঈদ,পূজায় শহর আলোকসজ্জায় সজ্জিত থাকতে দেখি। কিন্তু এবার পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে সারা শহর আলোকসজ্জা করায় আমরা খুশি। আমি আমার ছেলে মেয়ে নিয়ে বের হয়ে তাদের এত সুন্দর একটা আয়োজন দেখাই এবং আমাদের গর্বের সেতু সম্পর্কে তাদের বিভিন্ন তথ্য দেই,এটা নিয়ে গল্প করি। যেন তারা এ সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পারে।এসএম/জেসি


