Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

গৌরবের পদ্মা সেতুর  উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২২, ০৪:৪৪ পিএম

গৌরবের পদ্মা সেতুর  উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
Swapno

 

# স্বপ্ন হল সত্যি, ঢাকার সাথে যুক্ত হল এক তৃতীয়াংশ বাংলাদেশ
# আছে শুধু ভালোবাসা, দিয়ে গেলাম তাই : প্রধানমন্ত্রী

 

 

‘পদ্মা সেতু আমাদের সক্ষমতা, আমাদের মর্যাদার শক্তি। এই সেতু জনগণের। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের আবেগ, সৃজনশীলতা, সাহসিকতা ও সহনশীলতা এবং আমাদের প্রত্যয়।’ ‘মানুষের শক্তি বড় শক্তি, সেই শক্তি নিয়েই পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলাম। জনগণই আমার সাহসের ঠিকানা। পদ্মা সেতু সফলভাবে নির্মাণের জন্য জনগণকে স্যালুট জানাই।’ মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে গতকাল শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে সুধী সমাবেশে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কথা বলেন। এই কথাগুলো যেন শুধু প্রধানমন্ত্রীর নয়, আপামর জনগণের। নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়ে সকল প্রতিবন্ধকতা জয় করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করলেন স্বপ্নের পদ্মা সেতু। বর্ণিল আয়োজনে সারা দেশে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে জেলা ও বিভাগীয় শহরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। সবার মাঝে ছিল বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা। নারায়ণগঞ্জও এর ব্যতিক্রম নয়।  

 


শনিবার (২৫ জুন) বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে সেতুর ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বহু কাঙ্খিত পদ্মা সেতুর ফলক উন্মোচন করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন প্রধানমন্ত্রী। এ অনুষ্ঠান সারা দেশে একযোগে প্রচার করা হয়। আনন্দ ও উৎসবে ভাসছে জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলো। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন শেষে বেলা ১২টা ৫৩ মিনিটে মাদারীপুরের শিবচরের সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে ওঠেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান প্রমুখ। শিবচরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নিঃস্ব আমি রিক্ত আমি দেবার কিছু নেই, আছে শুধু ভালোবাসা দিয়ে গেলাম তাই।’ শনিবার (২৫ জুন) দুপুরে মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। 

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘বাবা-মা-ভাই হারিয়ে পেয়েছি আপনাদের। আপনাদের মাঝেই আমি ফিরে পেয়েছি আমার বাবার স্নেহ, মায়ের স্নেহ, ভাইয়ের স্নেহ। আপনাদের পাশেই আমি আছি, আপনাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। আপনাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমি যেকোনও ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত, এই ওয়াদা আমি দিয়ে গেলাম।’ তিনি বলেন, ‘যারা পদ্মা সেতু নির্মাণে বাধা দিয়েছিল, তাদের একটা জবাব আমরা দিতে পেরেছি। তাদের উপযুক্ত জবাব আমরা এই পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দিতে পারলাম যে- না, বাংলাদেশ পারে। প্রধানমন্ত্রী করোনা মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। পদ্মা সেতু করতে গিয়ে নিজের পরিবারের অনেক সদস্য অপমান সহ্য করতে হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি। আর আপনাদের কষ্ট করতে হবে না। এই খরস্রোতা পদ্মা নদী পার হতে গিয়ে আর কাউকে সন্তান হারাতে হবে না, বাবা-মাকে, ভাই বোনকে হারাতে হবে না। আজকে সেখানে আপনারা নির্বিঘ্নে চলতে পারবেন। সেই ব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি।’

 


সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওপারে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ১২টা ৩৬ মিনিটে সেখানে বানানো অপর একটি ফলক মঞ্চে যান তিনি। সেখানে দ্বিতীয় দফায় মোনাজাতে অংশ নেন। সমাবেশে ভাষণ শেষে স্মারক ডাকটিকিট, স্যুভেনির শিট, উদ্বোধনী খাম, সিলমোহর ও ১০০ টাকার স্মারক নোট উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর গাড়িবহর নিয়ে ১১টা ৫৫ মিনিটে টোল প্লাজায় টোল প্রদান করেন তিনি। ১১টা ৫০ মিনিটে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১১টা ৫৯ মিনিটে সেতুর ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমেই খুললো পদ্মা সেতুর দুয়ার।

 

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন আয়োজনে করা হয়েছে। শনিবার (২৫ জুন) সকালে ইসদাইরে সামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আয়োজিত পদ্মা সেতুর আদলে নির্মিত মঞ্চে সেতুর উদ্বোধনের মুহুর্ত সরাসরি লাইভ স্কিনে দেখে নারায়ণগঞ্জবাসী ওই মুহূর্তকে উদযাপন করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। এর আগে নগরীর প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া মোড় থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের সাথে সাথেই স্টেডিয়াম জুড়ে উল্লাসে মেতে উঠে। এসময় মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ, কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে নতুন সেতু উদ্বোধনের অংশিদার হয়।


 
স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনকে উপভোগ করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ, সংসদ সদস্য, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষরা। প্রধানমন্ত্রীর এই সফলতার ভূয়সী প্রশংসা করেন তারা। এসময় সকলে হাত তালি দিয়ে উদ্বোধনের এ মুহূর্তকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রাখেন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

 

এদিকে প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উদ্বোধন হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এতে পদ্মা পাড়ি দেওয়ার ভোগান্তি নিরসনের পাশাপাশি বাঁচবে সময়। লঞ্চ-ফেরিতে আগে যেখানে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগতো, এখন সহজেই ৬-৭ মিনিটে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে চলে যাওয়া যাবে নদীর এপার থেকে ওপার। বহুল প্রতীক্ষিত সেতু উদ্বোধনে তাই দক্ষিণবঙ্গবাসীর উচ্ছ্বাস সবচেয়ে বেশি।

 

এতদিন শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও মাঝিকান্দি নৌরুটে লঞ্চ, স্পিডবোট আর ফেরিতে করে নদী পারাপার হলেও এখন সেতু হয়ে দক্ষিণবঙ্গ থেকে ঢাকা আর ঢাকা থেকে দক্ষিণবঙ্গ যাতায়াত করা যাবে। আজ রোববার (২৬ জুন) ভোর ৬টায় যান চলাচলের জন্য সেতু খুলে দেওয়া হবে।

 

২০০১ সালের ৪ জুলাই স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের নভেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হয়। দুই স্তরবিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাসের এ সেতুর ওপরের স্তরে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরে একটি একক রেলপথ রয়েছে।

 

পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ৪২টি পিলার ও ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যানের মাধ্যমে মূল অবকাঠামো তৈরি করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬.১৫০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার।

 

পদ্মা সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। এসব খরচের মধ্যে রয়েছে সেতুর অবকাঠামো তৈরি, নদী শাসন, সংযোগ সড়ক, ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ, বেতন-ভাতা ইত্যাদি।

 

বাংলাদেশের অর্থ বিভাগের সঙ্গে সেতু বিভাগের চুক্তি অনুযায়ী, সেতু নির্মাণে ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ঋণ দেয় সরকার। ১ শতাংশ সুদ হারে ৩৫ বছরের মধ্যে সেটি পরিশোধ করবে সেতু কর্তৃপক্ষ। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার স্বপ্নের কাঠামো নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড।এমই/জেসি
 


 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন