কড়াকড়িতেও বঙ্গবন্ধু সড়কে লাগামছাড়া ব্যাটারিচালিত রিক্সা
নুরুন নাহার নিরু
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২২, ০৬:০০ পিএম
# যতই মামলা করি না কেন তারা বাধা মানছেন না : ট্রাফিক ইন্সপেক্টর
ব্যাটারি চালিত রিকশা-অটোরিকশা শহরে প্রবেশ নিষেধ থাকা সত্ত্বেও নারায়ণগঞ্জের মূল সড়কগুলোতে ধাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ ও অনুমোদনবিহীন এসকল যানবাহন। কিন্তু এসব নিয়ে যেন প্রশাসনের কোনো মাথা ব্যাথা নেই। যার ফলে চরম ভোগান্তি শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। মূল সড়কে তিন চাকার এসব ব্যাটারি চালিত রিকশা-অটোরিকশা চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শত শত ব্যাটারি চালিত অবৈধ রিকশা ও অটো-রিকশা শহরের মূল সড়কগুলোতে চলাচল করছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ এর বঙ্গবন্ধু সড়কে এসব যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের কোন বাধাই মানছেন না তারা। স্বাভাবিকভাবে চাষাঢ়া থেকে মন্ডলপারা পুল পর্যন্ত আসতে সময় লাগে ১০ মিনিট। এসকল রিকশা-অটো রিকশা শহরে চলাচলের কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এই যানজটের কারণে রাস্তায়ই অনেক সময় পার হয়ে যায়। এসব নিষিদ্ধ গাড়ি চলাচল রোধের দায়িত্ব ট্রাফিক পুলিশের উপর থাকা সত্ত্বেও তাদের সামনে দিয়েই চলাচল করছে পরিবহনগুলো। চালকদের সাথে যেন পেরে উঠতে হিমসিম খাচ্ছেন তারা। প্রায়ই অভিযোগ পাওয়া যায় এগুলো আটকানোর পরও তারা টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিচ্ছেন।
বঙ্গবন্ধু সড়কের অটোরিকশা চালক মো. আব্দুল্লাহ জানান, সকাল হতেই রিকশা নিয়ে বের হতে হয় আমাদের। মূল সড়কগুলোতে ব্যাটারি চালিত রিকশা চলাচল নিষেধ রয়েছে এটা আমরা সকলেই জানি, কিন্তু কি করবো পেটের দায়ে বের হতে হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ট্রাফিক পুলিশ ভাড়া করা লোক দিয়ে এক প্রকার ছিনতাই কারীর মতো আমাদের গাড়িগুলো ডাম্পিং এ নিয়ে যায়। তখন আমাদের বাধ্য হয়েই সেগুলো টাকা দিয়ে ছাড়াতে হয়। কত টাকা দিয়ে ছাড়াতে হয় জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ বলেন, এক হাজার টাকা করে দেওয়া লাগে। মাঝে মধ্যে আমাদেরকে রশিদ দিলেও বেশির ভাগ সময়ই তারা রশিদ ছাড়াই গাড়ি ছেড়ে দেন।
ভুক্তভোগীদের মতে, চাষাঢ়া মোর থেকে মন্ডলপারা পর্যন্ত পুরো এলাকায়ই দেখা যায় যানজটের চিত্র। নগরীর যানজট কমাতে হলে এসব অবৈধ পরিবহন চলাচল বন্ধ করতে হবে। এছাড়া ২নং রেলগেটের ফজর আলী ট্রেড সেন্টার এর সামনে অবৈধ অটো স্ট্যান্ড থেকে শুরু করে কালিবাজার এবং পুরো চারারগোপ এলাকাই এখন যানজটের কবলে।
নারায়ণগঞ্জ সদর জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (এডমিন) আব্দুল করিম বলেন, আগের তুলনায় এসব অবৈধ রিকশা-অটোরিকশা চলাচল ৮০% নিয়ন্ত্রণে আছে বলে আমি মনে করি। বিভিন্ন জায়গায় যেসব গাড়িগুলো দাঁড়ায় তার বিরুদ্ধে যতই মামলা করি না কেন তারা বাধা মানছেন না। কিন্তু আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আমাদের লোকেরা প্রতিটি চেকপোষ্টে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু যানবাহনের তুলনায় আমাদের লোকবল কম। আমরা কোনো অবৈধ স্ট্যান্ডকে অনুমোদন দেই না, আর দিব-ও না।এমই/জেসি


