পর্যটন জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে শীতলক্ষ্যাকে বাঁচানোর তাগিদ আইভীর
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২২, ০৮:১৯ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, আমরা কিন্তু নারায়ণগঞ্জ স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছি এটা সবাই জানে যে কোনো এক সময় বাংলার রাজধানী ছিল এই নারায়ণগঞ্জ এর সোনারগাঁ । এবং প্রত্যেকটা থানায় আমাদের ৭ টা থানা তাদের বিশেষ ঐতিহ্যে আছে।
আপনি যেখানের এমপি (নজরুল ইসলাম বাবু) সে আড়াইহাজারের ঐতিহ্যে আছে সোনারগাঁয়ের ও আছে রূপগঞ্জের ও আছে আমরা মসলিনের জন্য বিখ্যাত ,ভাটিকের জন্য বিখ্যাত,জামদানীর জন্য বিখ্যাত আমাদের সাংস্কৃতি ইতিহাস ঐতিহ্যে পলেটিক্স আদমজী সব কিছু এটা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু নারায়ণগঞ্জকে আমরা প্রজেটিভলি কোনো সময় তুলে ধরি না।
আমরা পলেটিশিয়ানরাই কথা বলতে গেলে বলে ফেলি বর্তমান সময়কে। আমার বিগত ২০/৩০ বছরটাকে টেনে আসি সামনে আমার ১০০ বছরের কথা বুলে যাই। কিন্তু আমার মনে হয় পজিটিভলি নারায়ণগঞ্জকে উপস্থাপন করা উচিত। আমাদেরতো কোনো দায়বদ্ধতা আছেই। আমাদের কিছুতো সমস্যা এখানে আছেই সেটা দেশবাসী পুরোটা যানে।
যেটা জানুক ওইটার পাশাপশি চলতে থাকবে আমাদের নিজস্ব ইতিহাস ঐতিহ্যেকে তুলে দেওয়ার কথা আমি বলতে চাচ্ছি। আমাদের ৭টি নদীর সাথে শীতলক্ষ্যা নদী সন্নিবেশিত যেমন : শীতলক্ষ্যা, তুরাগ,বালি,ব্রহ্মপুত্র, ধলেশ্বর,মেঘনা, আমি বাবুকে অনুরোধ করবো উনি যেন একটা পর্যটন ব্যবস্থ্যা গড়ে তোলা যায় কিনা
যেনো নারায়ণগঞ্জ থেকে সকালে নৌকা হোক, ছোট ট্রিপ হোক যেভাবেই হোক ওয়াটার বাসই হোক আমরা রূপগঞ্জ আড়াইহাজার হয়ে কলাপাহারিয়া ঘুরে এসে সারাদিনের জন্য আবার এসে নারায়ণগঞ্জ নামিয়ে দেবে অথবা ঢাকা থেকে কেউ আসলো সেটা যেমন আমাদের হাজীগঞ্জ কেল্লা আছে সে হাজীগঞ্জ কেল্লাটাকে আমাদের রক্ষনাবেক্ষণ করার চেষ্টা করতেছি আমাদের দীর্ঘদিনের মামলা চলছে।
সেখান থেকেই হয়তো আপনি একটা নৌকা ভ্রমণে ঢাকার লোকজন হয়তো আসলো সারাদিন ঘুরে সেই সোনারগাঁ ঘুরে আপনার এলাকা ঘুরে নারায়ণগঞ্জ আসলো এটা আপনি চিন্তা করে দেখবেন প্রস্তাব দেওয়া যায় কিনা সেটা যে কোনো মন্ত্রী মহাদয়ের সাথে আলাপ করে দেখবেন।
সোমবার সন্ধ্যায় জেলা গ্রন্থাগারে নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের (এনইউজে) আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গঠিত সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাষ্ট্রের প্রাপ্ত থেকে অসুস্থ পাঁচ সাংবাদিককে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইভী বলেন, আরেকটি অনুরোধ হলো যে শীতলক্ষ্যার দুই পাড়ে প্রচুর শিল্প কল কারখানা গড়ে উঠেছে। যে ডিটেল ড্যাপ তৈরি হচ্ছে সেখানেও নারায়ণগঞ্জের দুই পাশে বাড়ি শিল্প কারখানা করা হয়েছে। শীতলক্ষ্যার দুই পাড়ে সাংবাদিক ভাইদের বলবো আপনারা দেখবেন একটু লেখালেখি করতে পারেন কিনা। একতো শীতলক্ষ্যা মরে গিয়েছে।
ডাইংয়ের পানি ,সার,আমাদের সিটি কর্পোরেশনের পানি সব কিছু মিলিয়ে। এখন যদি এমন হেভি ইন্ড্যান্টিজগুলো আবার নতুন করে গড়ে তোলা হয়। তাহলে শীতলক্ষ্যাকে বাঁচানো যাবে না। শীতলক্ষ্যা যদি না বাঁেচ আমরা ও বাঁচাবো না। যে শহরে পানি নাই। যে নদী নাই খাল নাই সে শহর বাঁেচ না।আজকে থেকে ১০ বছর ১৫ বছর ২০ বছর পরে কিন্তু আমাদের শহরে প্রচুর ধরনের সমস্যা দেখা দিবে।
তাই আপনার কাছে অনুরোধ আপনি সংসদে তুলবেন আমি কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় লেখালেখি করি আমি ড্যাব এ লেখেছি অভজেকষন দিয়েছি লিখিত বিভিন্ন ফোরামে বলি আমাদের মন্ত্রীকে বলেছি। আমার পরিবেশ মন্ত্রীকে ও বলেছি। আপনি যখন নরায়ণগঞ্জের হয়ে আপনার এলাকা জুরে নারায়ণগঞ্জসহ বলবেন যে ড্যাব যেন এটা নিষিদ্ধ করা হয়।
হে কিছু একটা অংশ কিছু একটা জায়গাতে দিতে পারে সেটা অল্প বিস্তার জায়গা নিয়ে।২/৪/৫ কিলোমিটার কিন্তু পুরো শীতলক্ষ্যা,ধলেশ্বর ,ব্রহ্মপুত্র, তুরাগ,বালি জুরে এটা হবে এটা কিন্তু। একটা ধ্বংসের মুখে নিয়ে যাবে। এই দুইটা আমার প্রস্তাব ছিলো আপনার কাছে। আমি যে অনুষ্ঠানে এসেছি তার জন্য সাধুবাদ আগেই জানাই।
আপনাদের কষ্টের কথা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন বলে তিনি এমন একটা পদক্ষেপ নিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুধু সাংবাদিক ভাইদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তা না। এমন কেনো সেক্টর নাই। এমন কোনো জায়গা নাই। যেখানে শুধু মুক্তিযোদ্ধা না অসহায় মায়েদের পাশে। বয়স্কবাতা থেকে শুরু করে প্রতিবন্ধীবাতানসহ সব ধরনের অসহায় মানুষের পাশে এসে এই সরকার দাঁড়িয়েছে।
এটা সরকারের একটা গ্রেডএচিপমেন্ট আমরা হয়তো অনেক কিছুই জানি না। যে কাজগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে ডেকে অনেক সময় সেক্রেটারী সাহেবদের বলে দেয় একটি প্রস্তাব দেওয়ার জন্য। একটি প্রকল্প গ্রহণ করার জন্য।
আইভী বলেন, যখন পদ্মা সেতু সবাই বললো হবে না। কেন হবে না। কারণ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সেকেন্ড হাই খরচবিহীন সেতু হলো পদ্মা । আমাজন প্রথম তার পরে পদ্মা সেখান থেকে কিন্তু উনার বিনোচেতা মনোভাবের কারণে আমাদের এই উপহার। এই বিনোচেতা নেতীত্বকে আমরা দীর্ঘজীবী চাই যে উনি আরো নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের দেশকে আরো দূর এগিয়ে নিয়ে যায়।
শুধু সাংবাদিক না উনি সকলের পাশে দাড়ান আমাদের ও কষ্ট আছে জনপ্রতিনিধিদের বেতনও কিন্তু অনেক সামান্য আপনে জানেন যে একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাউন্সিলরদের ও খুবই সামন্য বেতন দেওয়া হয়। এটাও আমি মনে করি যে বৃদ্ধি করা উচিত। যদি প্রায় এতো পারসেন্টিস হান্ডের মধ্যে যদি আমলাদের বৃদ্ধি করা হয়।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ওখানকার কর্মচারীদের বেতন যদি বৃদ্ধি করা হয়। প্রত্যেকটা প্রাইভেট সেক্টরে কিন্তু বাড়ানো হয়েছে। একটা বন্যা হোক একটা দুর্যোগ হোক। আপনি ওই গ্রামের চেয়ারম্যানকে আগে খুজবেন। এলাকার মেম্বারদের সবার আগে খুঁজবেন। তাদের জীবন যাত্রার মানের কথা চিন্তা করে না। অথচ এই পর্যন্ত শুনে আসছি যে তারা ভালো কাজ করে না খারাপ কাজ করে। এই করে সেই করে।
স্থানীয় সরকারকেও শক্তিশালী করার প্রয়োজন আছে। আমরা আপনাদের পাশে দাড়াতে চাই। আপনাদের সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমি একটু বলি গঠনমূলক সমালোচনা করুন কারণ নির্দেশনি হয়ে অযথা মানুষকে হয়রানি করবেন না। প্লিজ আপনারা যখন হয়রানি করা শুরু করেন তখন আমার ও বাধ্য অনেক সময় সহ্য করি একটা সময় গিয়ে মামল মোকাদ্দমা করি কারণ আর ধৈর্য্যে কুলায় না।
এতটা মিথ্যা এতো নোংরা কথাবার্তা সহ্য হয় না অনেক সময়। তবে আমি বলবো আগের থেকে অনেক ভালো আছে নারায়ণগঞ্জ সে ২০০৪ বা ২০০৫ এর যে অবস্থা ২০১১ এর যে অবস্থা ২০২২ এ অনেক ভালো সকলই সীমাবদ্ধ হোক আমার আপনাদের শত্রু না। আমরা আপনাদেরকে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমরা আপনাদের পাশে থাকতে চাই। পাশে থেকেই কাজ করতে চাই।
সমালোচনা সৌজ্য করার ক্ষমতা আমার এতোটাই হয়ে গেছে। আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই সব সময়। সব সময় বলি কি যে ধৈর্য্য বানিয়ে দিয়েছেন। আনবিলিভেবল ধৈর্য্য আমার। এই জন্য আমি আমাদের সাংবাদিক ভাইদের ধন্যবাদ জানাই। আরেক জনকে জানাই তিনি আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই। সারা বাংলাদেশে ও পৃথিবীতে আমি পরিচিত হয়েছি।
সে আমার অনেক ধৈর্য্য বাড়াই দিছে মাটির থেকে বেশি ধৈর্য্য আমার। যখন আমার পরিবারকে নিয়ে একেক মিথ্যা বলেন কেমন সেন্টিমেন্টের এটা আমি জানি এটা ক্ষমা করার মতো না। আপনাদের কলমের জোর আছে ভালো কিছু লেখেন ভালো কিছু করে দেখান আমাদের সমাজকে পরিবর্তন করুন।
সেই পরিবর্তনের সাথে আমাদের জড়ান। কলম আছে বলেই দুই কলম লেখেই টেবিলে চাপ দিয়ে বলেন আজকে আইভীকে দেখিয়ে দিলাম আজকে বাবুকে দেখিয়ে দিলাম। এগুলো অপেশা দারি লোকের কাজ। এটার জন্য ট্রেনিং দরকার এটার জন্য আপনাদের কোর্স দরকার ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল সালামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আমির হুসাইন স্মিথের সঞ্চালনায় উক্ত চেক বিতরণ অনুষ্ঠান ও মৌসুমী ফল উৎসবে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক আনোয়ার হোসেন,
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজ, নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি নাফিজ আশরাফ ও জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি প্রমূখ।এসএম/জেসি


