প্রেসের স্টিকার বিক্রেতাদের উৎপাতে অতিষ্ঠ অটোচালকরা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২২, ০৬:৩৩ পিএম
নারায়ণগঞ্জের শহরে ব্যাটারি চালিত অটো ও মিশুক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আইন অমান্য করে রীতিমত সংগ্রাম করে শহরের রাস্তায় চালাচ্ছে চালকরা। নবাব সলিমুল্লা রোড থেকে শুরু করে চিটাগাং রোড পর্যন্ত চলাচল করে অটো ও মিশুক। কিংবা শহরের উপর দিয়ে। তবে পুলিশের কড়াকড়ি যেমন আছে তার পাশাপাশি সাংবাদিক পরিচয়ের ব্যাক্তিদের চাপেও অটোচালকরা।
ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করেই নাম স্বর্বস্ব অনলাইন প্রেসের নানা স্টিকার ও সাংবাদিকের নাম ব্যবহার করে অটো ও মিশুক চালকদের কাছ থেকে প্রতি মাসে গাড়ি প্রতি নিচ্ছে প্রায় ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা। নামে বেনামে প্রেস পরিচয় দিয়ে লোকেরা চালাচ্ছে এই বড় চক্রটি। নানা রকমের প্রেসের নাম ও সাংবাদিকের নাম ব্যবহার করে প্রায় ৪৫০-৫০০ অটো ও মিশুক গাড়ি চলছে।
এসব গাড়ির চালকদের পুলিশের পাশাপাশি ওইসব প্রেস পরিচয়দানকারীদেরও দিতে হচ্ছে চাঁদা। দৈনিক জনতা পত্রিকার (জাকির হুসাইন), দৈনিক রুদ্র বাংলা পত্রিকার (এইচ.এম সেকেন্দার আলী), নিউজ স্বাধীন বাংলাসহ অর্ধশত প্রেস কিংবা সাংবাদিক পরিচয়দানী ব্যাক্তির মাধ্যমে এসব অটোরিক্সা চলছে। পুলিশকে ম্যানেজ কিংবা নানা রকম চাপ তৈরি করতে প্রেসের কিংবা সাংবাদিকের নাম ব্যবহার করেন তারা এমন অভিযোগ অটোচালকদের।
কিন্তু অটোচালকরা পড়েছেন দ্বৈত সমস্যায়। একদিকে পুলিশকে দিতে হচ্ছে টাকা অপরদিকে প্রেসের লোক পরিচয়দানকারী ব্যাক্তিদেরও দিতে হচ্ছে টাকা। পুলিশের কঠোরতার মধ্যেও তারা যেটুকু আয় করেন দিনশেষে তার কমই হাতে থাকে।
অটো ও মিশুক চালকরা তারা জানান, সাংবাদিকদের টাকা দেওয়ার পরেও পুলিশদের দিতে হয় ১ থেকে ২ হাজার টাকা। তাদেরকে টাকা দিতে না চাইলে তারা গাড়ির চাকা লিক করে দেন। এক অটো চালক জানান, এই কার্ড ব্যবহার করলে পুলিশ কখনো ধরে কখনো ধরে না। আবার যখন ধরে তখন তাদের কে টাকা দিতে না পারলে গাড়ির চাকা লিক করে দেয় আবার কখনো গাড়ি তাদের কাছেই রেখে দেয়। কিন্তু সাংবাদিকদের টাকা দিতে পারলেও হয় আরো নানা সমস্যা।
এক মিশুক চালক যুগের চিন্তাকে জানান, গতকাল আমাকে পুলিশ ধরে জিয়া হলের পেছনে নিয়ে যায়। গাড়ি ছাড়ানোর জন্য আমার থেকে (১০০০) টাকা চান তারা টাকা না দাওয়ায় আমার গাড়ির তিনটা চাকাই লিক করে দেয়। আমার কাছে টাকা ছিলোনা সারা দিনে পাঁচশত টাকাও রোজগার করতে পারিনা। পরে আমার গাড়িতে যে সাংবাদিকের স্টিকার ছিল সে ছাড়িয়ে দিয়েছে পুলিশকে বলে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী যুগের চিন্তাকে জানান, আমরা কি পদক্ষেপ নিতে পারি বলেন। চাষাঢ়ায় কোনো অটো আমরা ঢুকতে দেইনা। মাঝে মধ্যে দুই-এক একটা ঢুকে যায় রোগী নিয়ে। শহরে অটোরিক্সা ঢুকতে পারবেনা।এসএম/জেসি


