ইউনিয়ন পরিচালনায় ব্যর্থতার পথে ফজর আলী
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২২, ০৮:৪০ পিএম
ব্যর্থতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদ। চেয়ারম্যান ফজর আলীর অযোগ্যতা আর ব্যার্থতার বলি হতে শুরু করেছে ইউনিয়ন এলাকার সাধারন মানুষ। এলাকাবাসী জানিয়েছে গোগনগরের প্রয়াত চেয়ারম্যান নওশাদ আলীর মৃত্যুর পর এবার এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তারই ছোটো ভাই ফজর আলী।
কিন্তু ফজর আলী চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই গোটা ইউনিয়ন জুরে শুরু হয়েছে বিশৃঙ্খলা।পাড়া মহল্লায় করে গজিয়ে উঠছে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ। এরই জের ধরে শুরু হয়েছে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসা। সর্বশেষ ঘটেছে বাড়িঘরে হামলা, রক্তাক্ত জখম আর খুনের ঘটনা। সর্বশেষ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা জেলা কৃষক লীগের সাবেক সহসভাপতি দৌলত মেম্বারকে খুন করা হয়েছে।
চলছে হামলা, পাল্টা হামলার ঘটনা। ফলে পুলিশ প্রশাসন যদি কঠোর হাতে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারে তাহলে ঘটতে পারে আরো খুনের ঘটনা। তাই ইউনিয়ন জুরে সাধারন মানুষের মাঝে বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা।পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে গোগনগরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন কালে সাধারন মানুষের সাথে কথা বললে তারা চেয়ারম্যান ফজর আলীর প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন।
এ ব্যাপারে তারা বলেন ফজর আলী চেয়ারম্যান হিসাবে একেবারেই অযোগ্য একজন ব্যাক্তি। তিনিই বিভিন্ন পাড়া মহল্লার সন্ত্রাসীদের শেল্টার দিচ্ছেন। এলাকার উন্নয়নের দিকে তার কোনো নজর নেই। তিনি আছেন ক্ষমতার দাপট নিয়ে। বিভিন্ন এলাকায় গড়ে তুলেছেন স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী। ফলে এই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় খুন খারাবি শুরু হয়েছে।
তারা আরো জানান দৌলত মেম্বারকে যারা খুন করেছে তাদের মাঝে অন্যতম হলো রুবেল মেম্বার। আর এই রুবেল মেম্বারের সাথে রয়েছে রবিন, আওলাদ, আনছার আলী সহ আরো অনেকে। এই রুবেল মেম্বার আর তার বাহিনী প্রথমে একটি মার্কেটে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায়, বাড়িঘরে আগুন দেয়, কয়েক জনকে কুপিয়ে জখম করে। আর রুবেল মেম্বার ও তার বাহিনীর অন্যতম শেল্টারদাতা হলো চেয়ারম্যান ফজর আলী।
এছাড়া আরো আগে যদি নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ এই সকল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতো তাহলে হয়তো দৌলত মেম্বার খুন হতো না। তারা জানান, মূলত মার্কেটে হামলা, বাড়িঘর জ¦ালিয়ে দেয়া এবং মোটর সাইকেল পুরিয়ে দেয়ার ঘটনার পর ফজর আলী পুলিশকে টাকা দিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া থেকে বিরত রাখে। যার ফলে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে সন্ত্রাসীরা।
যার ফলে তারা সংঘবদ্ধভাবে দৌলত মেম্বারকে খুন করে। তাই পুলিশের উচিৎ এসব ঘটনার সঠিক তদন্ত করে চেয়ারম্যান ফজর আলীর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া। আর তার দ্বারা ম্যানেজ হয়ে পুলিশ সঠিক ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেনি বলেই ঘটেছে নির্মম খুনের ঘটনা।
এদিকে এ ব্যাপারে ওই এলাকার বাসিন্দারা আরো বলেন, আসলে নওশাদ চেয়ারম্যান একজন বিচক্ষন ব্যাক্তি ছিলেন। কিন্তু তার ছোটো ভাই ফজর আলী একজন চেয়ারম্যান হিসাবে মোটেও দক্ষ নন। আমরা শুনেছি তিনি নিয়মিত মদ্য পান করেন।
তাছাড়া তার টাকা পয়সা থাকলেও তিনি এলাকার জনগনকে কিভাবে পরিচালনা করতে হয় সেটা জানেন না। সন্ত্রাসীদের শেল্টার দিয়ে তিনি গোগনগর ইউনিয়নকে একটি বিশৃঙ্খল ইউনিয়নে পরিণত করছেন। তাই তারা শংকিত ফজর আলী চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ববান না হলে এলাকায় সন্ত্রাস আরো বাড়বে বলেই তাদের আশংকা। এসএম/জেসি


