পোষাক মার্কেটে ক্রেতা নেই, হতাশ ব্যবসায়ীরা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২২, ০৭:১৮ পিএম
প্রতি বছরই কোরবানির ঈদের প্রায় মাসখানেক আগে হতে মার্কেট গুলোতে বিক্রিবাট্টার ধুম পড়ে যায়। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে এবারের ঈদ বাজারের অবস্থা ভিন্ন। ঈদের আর মাত্র ৪ দিন বাকি থাকলেও দোকানপাটগুলোতে সেভাবে বিক্রি নেই। নেই ক্রেতার আনাগোনা। তারপরও শেষ মূহুর্তে এ অবস্থা বদলে বিক্রিবাট্টা কিছুটা হলেও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার (৫ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ শহরের বেশ কিছু মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, দোকান খুললেও নেই বিক্রির আমেজ। বেচাকেনা না থাকায় অনেকটাই হতাশা বিক্রেতারা। শহরের সমবায় মার্কেটের ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম জানান, ঈদ উৎসবে কেনাকাটার একটা বড় অংশ জুড়ে থাকে পোশাক। যদিও পোশাক বেশি বিক্রি হয় রোজার ঈদে।
অন্যবারের থেকে এবার কোরবানিতে তুলনামূলক কম। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এ বছর চিত্রটা একেবারেই অন্যরকম। রোজার ঈদে কোনো বিক্রিবাট্টা সম্ভব হয়নি। কোরবানির ঈদ ঘিরেও এখন পর্যন্ত সেভাবে ক্রেতাদের দেখা মিলছে না। সব মিলিয়ে একটা বড় ক্ষতির মুখে পোশাক ব্যবসায়ীরা।
কোরবানিতে বেচাকিনি এমনিতেই কম। তার ওপরে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি। সব মিলিয়ে এখনও মানুষ ঈদের বাজারে সেভাবে আসেনি। ব্যবসায়ীদের ধারণা ‘দিন আনে দিন খাওয়া মানুষ পোশাকের দিকে ঝুকছে, কারণ তাদের প্রধান চাহিদাই এখন খাদ্যের যোগান দেয়া।
নগরীর মার্ক টাওয়ারের পোষাক ব্যবসায়ী তানভীর জানান, অতীতে ঈদের দিন যতো এগিয়ে আসতো ততই নগরীর মার্কেটগুলোতে ভিড় বাড়তো। এ বছর সেই চিত্র দেখা যায়নি। মার্কেটে ক্রেতারা আসছেন। তবে এখন কেনার চাইতে তারা দেখছেনই বেশি। তবে আশা করছি ঈদের ২দিন আগে বাজার কিছুটা জমে উঠবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হকার্স মার্কেটের এক ব্যবসায়ী জানান, ‘মানুষ খাইবো নাকি পড়বো, যেমনে জিনিস পত্রের দাম বাড়তাছে। মাইনষের (মানুষের) খাইয়া বাচঁলে তারপর আমাগো কাছে আইবো, কাপড় কিনবো। ঈদের বাকি আর মাত্র চার-পাঁচদিন এহন (এখন) মানুষ বাড়িতে যাইবোগা। এখন কি আর মানুষ কাপড় কিনবো? কি করুম ভাই আমাগো কপালই খারাপ। আগে তো কোরবানির ঈদে মাইনষে কেনাকাডা করতো। এখন আর করেনা। যে হারে খাওয়নের দাম বাড়তাছে। মানুষ পেট বাঁচাইবো নাকি কাপড় পিনবো (পড়বে)।
ঈদের নিজেদের জামা না কিনলেও সন্তানের জন্য কিছু না কিছু কেনাকাটা করে থাকে বাবা-মা। সেই চিত্রর সাড়া পাওয়া গেছে নারায়ণগঞ্জের বেশ কিছু মার্কেটে। বড়দের পেন্ট-শার্ট, কাপড় থ্রী-পিস থেকে ছোটদের পোষাকের চাহিদা তুলনামূলক বেশী লক্ষ্য করা যায়। তবে সেটা অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক কম।
সান্তনা মার্কেটে বাচ্চার পোষাক কিনতে আসা সাকিব হোসেন হৃদয়ের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, বছরঘুরে ঈদ আসে। বাজারের যে পরিস্থিতি আমাদের জন্য তো দূরের কথা সন্তানের জন্য ড্রেস কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে দাম শুনে। হয়তো এবার ঈদের সন্তানের আবদার পূরন করার সক্ষমতা দিয়েছে সৃষ্টিকর্তা। আগামীবার কি হবে জানা নাই।
সান্তনা মার্কেটে পাঞ্জাবী ব্যবসায়ী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ঈদ ছাড়া যেমন বেচা কেনা থাকে তেমই আছে। ঈদের কোন আমেজ নাই মার্কেট গুলোতে। এদিকে আমাদের ঈদকে কেন্দ্র করে দোকানে প্রত্যাশা করে কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছি। তাদের বেতনের টাকাও ঠিকঠাক দিতে পারবো বলে মনে হয় না। মানুষ আসলে পোষাকের দিকে ঝুঁকছে কম। কারণ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের যোগান দিতেই কষ্ট হচ্ছে।
তারপরও সার্বিক প্রেক্ষাপটে অনেকটাই হতাশ ব্যবসায়ীরা। হক প্লাজার ব্যবসায়ী ও মালিক সমিতির সভাপতি সালেহ আহমেদ সাগর বলেন, সারা বছর ধরেই ঈদ মৌসুম মাথায় রেখে আমাদের প্রস্তুতি চলে। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে এখন দিন দিন পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। কোরবানির ঈদ ঘিরে কতটুকু বিক্রি হবে তা এখনও বলা যাচ্ছে না।এসএম/জেসি


