বড় গরুর ক্রেতা কম, ছোট গরুর দাম বেশি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২২, ০৪:৫৯ পিএম
# আজ থেকে গরু বিক্রি বাড়ার আশা বেপারীদের
সিরাজগঞ্জ থেকে দুটি বড় গরু নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর চর সৈয়দপুর এলাকার ৩য় শীতলক্ষ্যা ঘাট সংলগ্ন হাটে এসেছেন শহীদুল ইসলাম। তিনি ১২ টি গরু নিয়ে এসেছেন এখানে। তার ২ টি গরুর দাম উঠেছে ১২ লাখ টাকা। দাবি করা হচ্ছে মাংস হবে দেড় টন। অনেকে আশা করে এই হাটে বড় গরু নিয়ে আসলেও কাঙ্খিত ক্রেতা মিলছে না। তবে ঈদের আগের দুদিন শুক্র ও শনিবার কাঙ্খিত ক্রেতা মিলবে বলে আশা করছেন ব্যাপারীরা। তাছাড়া বড় গরুর চাহিদা তেমন একটা নেই। কিন্তু মাঝারি এবং ছোট গরুর চাহিদায় থাকায় দাম বেশি যাচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশে আগামী সপ্তাহে হতে যাচ্ছে ঈদ-উল-আযহা। এই উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কোরবানির গরুর হাটগুলো জমে উঠেছে। কিন্তু এসব হাটে নানা জাতের গরু থাকলেও বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে কয়েকটি জাত মানুষের কাছে বেশি জনপ্রিয়। বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলছে, এবার ঈদে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৯৭ লাখ ৭৫ হাজার ।
এই চাহিদা মেটানোর জন্য ১ কোটি ২১ লাখ পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় বলছে। এর মধ্যে এক কোটির মত শুধু গরু। তবে এ ক্ষেত্রে বাড়িতে লালন-পালন করা দেশি গরুর কদর ক্রেতাদের মাঝে সব সময় থাকে। তার মাঝে পাচঁ ধরনের গরুর চাহিদা মানুষের বেশি। সেই সকল গরুর মাংস খেতেও স্বাদ বেশি। সে গুলো হলো, শাহিওয়াল জাতের গরু, হোলস্টাইন ফ্রিজিয়ান গরু, ব্রাহমা গরু, মীরকাদিম জাতের গরু এবং রেড চিটাগাং ক্যাটেল গরু।
বুধবার (৬ জুলাই) জেলার কয়েকটি অস্থায়ী পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে বড় গরুর ক্রেতা কম। যেসব ক্রেতা আসছেন তারাও আশানুরূপ দাম বলছেন না। ক্রেতারা ছোট গরুর দামই বেশি জিজ্ঞাসা করছেন। কিন্তু বড় গরুর চাহিদা কম থাকায় তাদের ধারে কাছে তেমন একটা ক্রেতা ভিড়ছে না।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থেকে গোগনগর বাড়ীরটেক হাটে একটি বড় গরু তুলেছেন আব্দুর রহিম। তার দাবি, বড় গরুর দাম আশানুরূপ বলা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ১৫ লাখ টাকা দামের গরু বলা হচ্ছে খুবই কম, যা বলার মতো নয়। তবে সামনে বড় গরুর ক্রেতা হাটে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেন গরুর বেপারি আব্দুর রহিম।
এদিকে সদর উপজেলা সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৪টি পশুর হাটের অনুমোদেন দিয়েছে প্রশাসন। হাট গুলো ঘুরে দেখা গেছে, তিন থেকে চার মণ মাংস হবে এমন (মাঝারি আকৃতির) গরু বিক্রি শুরু হয়েছে। হাটে মাঝারি গরুর চাহিদাও বেশি। তবে সেভাবে বড় গরুর ক্রেতা দেখা যায়নি।
যদিও নগরীর ক্রেতারা ঈদের এক-দুদিন আগে কোরবানির পশু ক্রয় করেন। সেই হিসেবে ধারনা করা হচ্ছে শুক্র ও শনিবার হাটগুলোতে ক্রেতা বাড়বে। তখন বড় গরুর চাহিদাও বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। সে হিসেবে বেপারীরা বড় গরুর দাম পাবে বলে আশাবাদী।
ঝিনাইদহ থেকে ১০টি বড় গরু হাটে তুলেছেন হাসমত ব্যাপারী। গরুভেদে দাম হাঁকা হচ্ছে ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা। তবে এখনো গরু বিক্রি করতে পারেননি তিনি। হাসমত বলেন, নগরীতে বড় গরু কিনে রাখা (জায়গা) সমস্যা। ঈদের আগে শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি, তখন ক্রেতা পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে নগরবাসী মনে করেন আজকের পর থেকে গরু বেচা কেনা বেড়ে যাবে। তখন দাম বুঝা যাবে। সব মিলিয়ে এখনো প্রতি বছরের ন্যায় এখনো ছোট গরুর দাম বেশি যাচ্ছে এবং গরুর ক্রেতা নেই। বড় গরুর বেপারীরা আশাবাদী ঈদের দুই দিন আগে তাদের গরু বিক্রি হয়ে যাবে। এন.এইচ/জেসি


