Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

কারাগার হচ্ছে সংশোধনাগার

Icon

আরিফ হোসেন

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২২, ০৮:৪০ পিএম

কারাগার হচ্ছে সংশোধনাগার
Swapno

 

# বর্তমানে  ১৪০০ কারাবন্দী, ৫৭ জন মহিলা আসামী ।
# কারাগারেই বন্দীরা কাজের ট্রেনিং নিচ্ছে : জেল সুপার

 

যদি মনে হয় কারাগারে কয়েদিরা কষ্টে থাকে তাহলে আপনার ধারনাটা ভূল। হয়ত বা জানেনই না বিশ্বের বিভিন্ন  দেশে জেলে আসামীরা স্বাচ্ছন্দ্যেই দিন কাটাচ্ছে। বলছি পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর কারাগার ব্যবস্থার কথা কমলা রঙের জ্যাম্পসুটের আড়ালে তারা স্বাধীনভাবে বাচঁতে না পারলেওতাদের জীবনধারণ পদ্বতিও ইর্ষা করার মতো। পশ্চিমা বিশ্বের কারাগারে আসামীদের সংঙ্গে এমন ব্যবহার করা হয় যেটা হয়ত আপনি আপনার বাড়ির বাচ্চাদের সঙ্গেও করেন না। জেলখানা একটা সংশোধানাগার আসামীদের অপরাধ থেকে বিরত রাখতে কারাগারে প্রেরণ করা । বর্তমানে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের কারাগারগুলোতেও কারাবন্দীদের নিরাপদ রাখতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিচ্ছেন কারা কর্তৃপক্ষরা।

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দীদের সংশোধন ও পুর্নবাসনের জন্য নবনির্মিত গার্মেন্টস ইন্ড্রাস্ট্রি এবং জামদানি উৎপাদন কেন্দ্র ‘রিজিলিয়ান্স’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পরিদর্শনে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলে গিয়েচিলেন, দেশের প্রত্যেকটি কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কারাবন্দীদের মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলাসহ বিনোদনের ব্যবস্থা করা হবে। তারা যাতে স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন মনে না করেন, সে কারণে মোবাইল ফোনে কথা বলারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেভাবেই ঢেলে সাজানো হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ কারাগারকে।


এক সময় দেশে জেল কারাগার নিয়ে একটা প্রবাদ জেলখানার সম্বল থালা বাটি কম্বল। যা এখন শুধু প্রবাদেই শোনা যায় বাস্তব চিত্রে তার কোনটির সাথেই মিল নেই। নারায়ণগঞ্জের জেলা কারাগারে গিয়ে খোজঁ নিয়ে জানা যায় এই কারাগারটিতে বর্তমানে  ১৪০০ উপরে কারাবন্দী রয়েছে যাদের মধ্যে ৫৭ জন মহিলা এর মধ্যে ১৩ জন ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী ।আর এই সকল কারাবন্দীদের নিরাপত্তা দিতে ১১৯ জন দায়িত্ব পালন করছেন যাদের মধ্যে ৭ জন মহিলা ।তবে জেল কারাগারের আয়তন হিসেবে কারাবন্দীদের সংখ্যা অনেকটা বেশি হলেও তেমনটা সমস্যা হচ্ছে না। বন্দীদের কঠোর নিরাপত্তা দিয়ে নিবাপদ রাখছেন কারা কতৃপক্ষ।


কারাবন্দীরা নারায়ণগঞ্জ জেলকারাগারে কেমন কাটছে তাদের জীবন এ বিষয়ে নারায়নগঞ্জ জেল সুপার মাহাবুব হোসেন দৈনিক যুগের চিন্তাকে জানান,জেলখানা নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন চিন্তা ভাবনা যে জেল কারাগারের মধ্যে কারাবন্দীরা কতটা নিরাপদ আমি শুধু তাদের উদ্দেশ্যে বলবো জেলখানাতে আসলেই গেটের উপর দিকে তাকালে দেখতে পারবেন বড় করে একটি লেখা রয়েছে সেটি হচ্ছে রাখিব নিবাপদ দেখাব আলোর পথ আর শ্লোগান আমরা বাস্তবে করে দেখিয়েছি।

 

এর প্রথম কারণ যদি বলতে চাই দেখা যাবে আমরা সকল বন্দীদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি ।জেল থেকে শুধু বন্দিদের সংশোধিয় না করা পর্যন্ত পরিবর্তন সম্ভব নয় । তাদের সংশোধন শুধু জনসাধারণ ও কারাকর্তৃপক্ষের নয় নীতি নির্ধারকদের চিন্তা ধারনার পরিবর্তন প্রয়োজন ।আমাদের এখানে কারাবন্দীদের আলোর পথ দেখানোর জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে থাকি । দেশ এখন অনেক এগিয়ে গেছে বন্দীরা এখন টিভি দেখতে পারছে ফ্যান আছে ,বন্দীদের জন্য ট্রেনিং এর ব্যবস্থা রয়েছে  সেলাই মেশিনের কাজ সহ বিভিন্ন কাজ শেখানো হয়।আমাদের এই কারাগারের অনেক কারাবন্দীরা এখান থেকেই কাজ শিখে জেল থেকে বের হওয়ার পর তারা তাদের কর্মস্থলের ব্যবস্থা করতে পেরেছে।

 

আর আমরা কারাবন্দীদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষনীক সিসিটিভির মাধ্যমে পর্যবেক্ষন করা হয়।করোনা কালীন সময়ে  স্বজনদের সাথে বন্দীদের  সরাসরি দেখার অনুমতি ছিল না বর্তমানে স্বজনরা ১৫ দিন পরপর সরাসরি দেখা করতে পারে এবং ১ সপ্তাহ পরপর সবোর্চ্চ ১০ মিনিট পর্যন্ত কথা বলতে পারবে, শুধু তাই নয় কারাগারে বন্দীদের জন্য বছরের দুইটি ঈদে ও জাতীয় বিশেষ দিনগুলোতে উন্নতমানের খাবার দেওয়া হয়।কারাগারের ভিতরে ফুলের বাগান, খেলার মাঠ সহ বিভন্ন সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে বন্দীদের নিরাপদ রেখে সেবা প্রদান করা হয়।


এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের কারাবন্দী এক স্বজনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আগে জেলখানাতে আসলে অনেক ধরনের সমস্যার পরতে হতো এমনকি টাকা ছাড়া কোন সুবিধা নেওয়া যেত না তবে এখন তা অনেকটাই পাল্টে গেছে ।আমরা খুব ভাল ভাবেই কোন রকম টাকা ছাড়াই বন্দীদের সাথে দেখা করতে পারছি, এমনকি ফোনেও কথা বলতে পারছি।যা বিগত দিনগুলোতে বন্দীদের জন্য এই সুযোগ সুবিধা গুলো ছিল না।শুধু তাই নয় এই নারায়ণগঞ্জ কারাগারে বন্দীদের দেখতে আমরা যারা স্বজনরা দেখতে আসি বাহিরে আমাদের জন্য বসার জন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছে শুধু তাই নয় বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানের জন্য মাতৃদুগ্ধ স্থান করে দেওয়া হয়েছে।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন