Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১১২ মাসে আলোক প্রজ্বলন অনুষ্ঠান

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২২, ০৪:১৯ এএম

ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১১২ মাসে আলোক প্রজ্বলন অনুষ্ঠান
Swapno

# নারায়ণগঞ্জে নিহত আশিক, চঞ্চল, বুলু, মিঠু হত্যায় জড়িত ওসমান পরিবার

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক ও নিহত ত্বকীর পিতা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেছেন, কিভাবে, কখন, কারা কারা, কোথায়, কিভাবে  ত্বকীকে হত্যা করেছে আর সংসদে যখন প্রধানমন্ত্রী সেই অভিযুক্ত পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দেয় তখন সংগত কারনে আমরা বুঝি কোন সংস্থার পক্ষে কারো পক্ষে এই প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকা পরিবারের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহন করা সম্ভব না।

 

আর ঘোষণা পরে এই ত্বকী হত্যার তদন্তের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একটি সরকার যখন ঘাতকদের পক্ষ অবলম্বন করে তখন সেই দেশে কখনোই সুবিচার আশা করা যায় না । বিষয়টি এমন নয় সরকার জানতো এমনকি জানে না ত্বকীকে কারা হত্যা করেছে ।

 

২০১৬ সালে এই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন নারায়ণগঞ্জের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা হয়েছে এবং বলেছেন ত্বকীকে কারা হত্যা করেছে, আমি জানি আর এই হত্যাকারীদের দেশ থেকেন পালাতে কারা সহযোগিতা করেছে তাও আমরা জানি। যা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং জানার পরে তিনি সেই ঘোষনার পরেও ৬ বছর অতিবাহিত হচ্ছে কিন্তু সেই বিচার হচ্ছে না ।

 

যারা ঘাতক তারা প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সরকার প্রশাসন তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে।আমরা সরকারের এই অবস্থানে তীব্র নিন্দা জানাই স্বাধীন দেশে এটা কাম্য ছিল না। যেই পরিস্থিতি তৈরী করা হয়েছে স্বাধীনতার যুদ্ধে এবং পরে কখনো এমনি পরিস্থিতির মুখোমুখী আমাদের জনগন পায়না।

 

আমরা আজকে এই আলোক প্রজ্জলন আয়োজনে আমরা ত্বকী হত্যার বিচার যেমন চাই তেমনি সারগ-রুনির হত্যা বিচার চাই এবং এই নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষায় অসংখ্য হত্যাকান্ড করে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।আসিফকে হত্যা করা হয়েছে , চঞ্চলকে হত্যা করা হয়েছে, মিঠুকে হত্যা করা হয়েছে, বুলুকে হত্যা করা হয়েছে আমরা সকল হত্যার বিচার চাই । আর সকল হত্যার অভিযোগ এই ত্বকী হত্যার সাথে জড়িত এই ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে।

 

সরকার পিছনে থাকাতে এই ওসমান পরিরার এখনো সরকারের সাথে রয়েছে এবং তাদের এই ঘাতকরা শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই এভাবে যেমন দেশ চলবেনা এক মাঘে শীত ও যায়না। এই সরকার কতদিন ঘাতক হত্যাকারীদের নিরাপত্তা বিধান করবে আমরা সেটিই দেখতে চাই 


তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১১২ মাস উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তন প্রাঙ্গণে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আলোক প্রজ¦ালন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সংগঠনের সহ সভাপতি মুহাম্মদ সেলিমের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ,

 

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি এড. প্রদীপ ঘোষ বাবু, সিপিবি জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদ জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাস, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. আওলাদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়ক তরিকুল সুজন, সামাজিক সংগঠন সমমনার সাবেক সভাপতি দুলাল সাহা, খেলাঘরের জেলা সাধারণ সম্পাদক ফারুক মহসিন প্রমূখ।

 

রফিউর রাব্বি আরো বলেন, ত্বকী হত্যার সাড়ে নয় বছর হলেও সরকার অঘোষিত এক ইন্ডেমনিটির মাধ্যমে এর বিচার বন্ধ করে রেখেছে। র‌্যাবের তৈরী করে রাখা অভিযোগপত্র আটকে রাখা হয়েছে। র‌্যাব সংবাদ সম্মেলন করে যাদেরকে অভিযুক্ত বলে জানিয়েছে, সরকার-প্রশাসন তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছে। সে ঘাতকরা এখন বীরদর্পে ঘুড়েবেড়াচ্ছে। দেশে বিচারহীনতার এইটি একটি নগ্ন উদাহরণ। সরকার প্রতিনিয়ত মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকারকে ক্ষণ্ন করছে, কথা বলার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে,

 

সংবিধানে উল্লেখিত মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোকে ক্ষুণ্ন করে চলেছে। স্বাধীনতার পূর্ব ও পরে কখনো মানুষ এমনি বিপন্ন বোধ করেনি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ সালে বলেছেন ত্বকীকে কারা হত্যা করেছে তিনি জানেন, ত্বকীর ঘাতকদের কারা দেশ থেকে পালাতে সাহায্য করেছে তিনি জানেন- কিন্তু তবু আজো সে বিচার হচ্ছে না। সাড়ে আটবছর আগে ত্বকী হত্যার তদন্ত শেষ হয়ে অভিযোগপত্র তৈরী করে রাখার পরেও তা আদালতে পেশ করা হয় নাই। তিনি সাগর-রুনী, তনু সহ নারায়ণগঞ্জে নিহত আসিক, চঞ্চল, বুলু, মিঠু হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন।

 

হালিম আজাদ বলেন, ত্বকীর ঘাতক ওসমান পরিবার চিহ্নিত হলেও তারা বিচারের আওতায় আসছে না। তারা এখনো ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন আপনি কোন একটি পরিবারের প্রধানমন্ত্রী নন, ষোল কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী, আপনি নারায়ণগঞ্জের মানুষের পাশে দাঁড়ান, নারায়ণগঞ্জের সকল হত্যার বিচার করেন।


উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুদিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী শাখা খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে

 

জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। এর পর থেকে ত্বকীর হত্যার বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন