পাগলের ভান করে নিরীহ মানুষের উপর একের পর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়েও পার পেয়ে যাচ্ছে জিয়া নামের এক ভয়ংকর সস্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করেও বিচার পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ফতুল্লা থানার পূর্ব ইসদাইর বুড়ির দোকান সংলগ্ন শাহী মসজিদ রোড এলাকার মৃত আনিছের পুত্র মো. জিয়া বেশ কয়েক মাস যাবত পাগলের ভান করে নিরীহ মানুষের উপর ধ্বংসাত্মক ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১২ জুলাই) রাত পৌনে দশটার দিকে ধ্বংসাত্মক কাজ করতে নিষেধ করায় উক্ত এলাকার কেরামত হোসেন জীবনকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করার এক পর্যায়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে । এরপর পকেট থেকে ছুরি বের করে তার গলায় আঘাত করার চেষ্টা করলে জীবন ডান হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার ডান হতের কয়েক জায়গা কেটে যায় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার চীৎকারে লোকজন ছুটে এলে সন্ত্রাসী জিয়া তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় জীবনকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মাথা ও ডান হাতে সর্বমোট ৮টি সেলাই দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে জীবনের মেয়ের জামাতা মোসাব্বির হোসেন বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু ৭দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ আসামী ধরতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি জানতে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মো. গিয়াস উদ্দিনের সাথে মোবাইলে (০১৭১২৫৬৭৫৪৪) যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আসামী পলাতক। কয়েকবার অভিযান চালিয়েও তাকে ধরা যায়নি। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, আসামী জিয়া এবং সন্ত্রাসের শিকার জীবনের বাড়ি পাশাপাশি। জীবনের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়, আসামী মহল্লাতেই প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও পুলিশ তাকে ধরছে না। পুলিশের সামনে দিয়েই আসামী দৌড়ে পালিয়ে যায়। আসামী জিয়া তাদের বাসার সামনেই ঘুরাফেরা করে তাদেরকে ভয় দেখাচ্ছে। তাকে কিছু বলতে গেলেই সে পাগলের ভান ধরে।
এ ঘটনার কয়েক মাস আগে সন্ত্রাসী জিয়া এলাকার মনির নামের এক ব্যক্তিকে একই কায়দায় হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছিলো। পূর্ব ইসদাইর পঞ্চায়েত কমিটি এর বিচার করতে গেলে জিয়া পাগলের ভান ধরে বিচারকদের সামনেই বাদীকে পিটাতে গিয়েছিলো বলে এলাকাবাসী জানান।এমই/জেসি


