বিদ্যুৎ খেকো কাশিপুরের কয়েক হাজার ইজিবাইক
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২২, ০৬:৪০ পিএম
#বেশির ভাগ গ্যারেজেই অবৈধ সংযোগে চার্জ হচ্ছে ব্যাটারি
কাশিপুর এলাকায় সরকারদলীয় এক প্রভাবশালী নেতার ভগ্নিপতির শেল্টারে ২ শ’ গ্যারেজে প্রায় ২ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটো ইজিবাইক চলছে ওই এলাকায়। কাশিপুরের গ্যারেজ গুলোতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে প্রতিদিন চার্জ করা হচ্ছে এসব রিকশা। অথচ এই সকল পরিবহনের কোন বৈধতা নেই। শুধু কাশিপুর নয়, ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার অলি-গলিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা। শুধু মেইন রোডে চলবে না এমন চুক্তিতেই এগুলো দেখেও দেখছে না ট্রাফিক পুলিশ। কাশিপুর খিল মাকের্ট, বাংলাবাজার রোড, কাশিপুর মাদ্ররাসারোড, হাটখোলা ভোলাইল সড়ক, দেওভোগ মাদরাসা রোড, কাশিপুর নরসিংপুর পাশেই কয়েক শ’ গ্যারেজ থেকে অবৈধ বৈদ্যুতিক লাইন থেকে এসব ইলেকট্রিক রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে প্রকাশ্যেই। অবশ্য জেলা, উপজেলা ও গ্রামগঞ্জে এখন প্রধান বাহন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ইলেকট্রিক রিকশা ও ইজিবাইক।
খোজ নিয়ে জানাযায়, বাংলাদেশ ইজিবাইক আমদানি ও সরবরাহকারী ব্যবসায়ী সমিতির দেওয়া তথ্যানুযায়ী বিভাগীয় শহর, জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে এখন প্রায় ১৫ লাখের বেশি ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান চলাচল করছে। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় ১ লাখ অটো রিকশা, অটো ইজিবাইক রয়েছে। এসব যানবাহন চার্জ দিতে দৈনিক প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। সাধারণত একটি ইজিবাইকের জন্য চার থেকে পাঁচটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি প্রয়োজন। প্রতি সেট ব্যাটারি চার্জের জন্য গড়ে ৮০০ থেকে ১১০০ ওয়াট হিসেবে ৫ থেকে ৬ ইউনিট (দিনে বা রাতে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা) বিদ্যুৎ খরচ হয়। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা ধরে ১০ লাখ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশায় প্রতিদিন সাড়ে ৩ কোটি টাকার বেশি বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। এর মাঝে নারায়ণগঞ্জে ১ লাখ অটো ইজিবাইকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা ধরে ৭ লাখ টাকার বেশি বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। এ যেন অনেকটা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা রিকশা ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি সানাউল্লাহ সানু। তিনি ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইফ উল্লাহ বাদলের বোন জামাই হন। তাই অভিযোগ রয়েছে তাদের শেল্টারে কাশিপুরের অনেক গ্যারেজ মালিক অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে অটো ইজিবাইক চার্জারে ব্যবহার করেন। চোরাই বিদ্যুৎ সংযোগেও তাদের শেল্টার রয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। তাছাড়া বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারীদের ম্যানেজ করেই এই সকল গ্যারেজের মালিকরা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় ১০ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলছে। এসব অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। সেই সাথে এই সকল ব্যটারি চালিত অটো রিকশার কোন বৈধতা নেই। তাদের বিরুদ্ধে তেমন এটকা ব্যবস্থাও নেয়া হয় না। তবে শহরের প্রধান সড়কে ব্যটারি চালিত অটো রিকশা প্রবশে নিষেধ থাকলেও তা মানছে না কেউ। দিব্বি এই সকল অটো চলাচল করছে।
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ভ্যান রিকশা মালিক সমিতির সভাপতি সানাউল্লাহ সানু জানান, কারা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে তা আমরা জানি না। আর আমাদের শেল্টারে কোন অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ চলে না। তবে অনেকে চুরি করে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে থাকে।এমই/জেসি


