নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সোনারগাঁয়ের মাহবুবুর রহমান লায়ন বাবুলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সোনারগাঁয়ের এলকায় লায়ন বাবুল নামে একজন ব্যক্তি আছে যিনি বারদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। কিছু দিন আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়েছেন। তখন আমরা তার মন্তব্যের জন্য প্রতিবাদ করেছি। আমি ব্যক্তিগত ভাবে সেদিন প্রতিবাদ করেছি। আমার সাথে আরও অনেকে করেছে।
আমি বিভিন্ন পত্রিকায় দেখলাম এই লায়ন বাবুলকে নাকি জেলা আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতা তাকে ক্ষমা করেছে। কিন্তু আইন কাউকে ক্ষমা করে না। এই লায়ন বাবুল শেখ হাসিানকে নিয়ে কটুক্তি করে মন্তব্য করেছে। তাকে আবার জেলা আওয়ামীলীগের নেতারা ক্ষমা করে কি করে। যারা বলতাছেন আপনারা ক্ষমা করে দিয়েছেন তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়া আসা হবে।
পুলিশ প্রশাসন ডিবি এবং গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে। সেই তদন্তে লায়ন বাবুল দোষি প্রমানিত হয়েছে। যা ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখেছি। লায়ন বাবুলের বিরুদ্ধে বিচার হবে। তার সাথে যারা জরিত রয়েছে আমি তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবী জানাই।
এদিকে গত বছর নভেম্বর মাসে ২য় ধাপের ৩য় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সোনারগাঁ উপজেলার বারদি ইউনিয়ন থেকে মাহবুবুর রহমান লায়ন বাবুল ওরফে চুম্মা বাবুল বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বারদী ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা যে মানহানিকর মন্তব্য করেছেন সেটাকে জেলার নেতারা ক্ষমা করলেও একজনের দায়েরকৃত মামলার তদন্তে প্রমাণ পেয়েছে তন্তকারী সংস্থা ডিবি। ইতোমধ্যে ওই ঘটনায় আদালতে প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে।
জানা যায় এই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারী বারদি পাইকপাড়া ইসলামীয়া মাদ্রাসায় ২দিন ব্যাপী ওয়াজ মাহফিলে বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লায়ন বাবুল প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, আমি বারদী ইউনিয়নের ম্যাজিস্ট্রেট, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এখানে আসতে হলে আমার অনুমতি নিয়ে বারদীতে আসতে হবে, এখন থেকে প্রশাসনকে অবশ্যই আমার পক্ষে কাজ করতে হবে কারো ফোনে প্রশাসন আসবে না, আমি যদি বলি সুইচ অফ দিজ ইজ অফ। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়।
এ ঘটনায় ফারুক নামের এক আওয়ামীলীগ নেতা লায়ন বাবুলের এ বক্তব্যের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন যার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ডিবি পুলিশকে। দীর্ঘদিন মামলাটি তদন্ত করে ডিবি পুলিশের এসআই সৈয়দ রুহুল আমিন লায়ন বাবুলের বক্তব্যের বিরুদ্ধে পেনাল কোড আইনের ৫০০ ধারার অপরাধে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পেয়ে তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
অন্যদিকে তখন বাবুলের এই বক্তব্যের পরপরই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী উঠে। একই সাথে ইতোমধ্যে সোনারগাঁয়ের বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বাবুলকে আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে স্থায়ীভাবে বহিস্কারের জন্য কেন্দ্রে চিঠি পাঠিয়েছিলেন।
পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতারা নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।তবে এর কিছুদিন পরেই বাবুলকে ক্ষমা করে আওয়ামী লীগ। ৮ মার্চ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে এই ক্ষমার কথা জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি সোনারগাঁওয়ের বারদী ইউপিতে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সম্পর্কে মনগড়া বক্তব্যের অভিযোগে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৪৭(ক) ধারা অনুযায়ী আপনাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার ও কারণ দর্শানো নোটিশের লিখিত জবাব দাখিলের মাধ্যমে আপনার বক্তব্য প্রত্যাহার পূর্বক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং দেশ ও জাতির কাছে গভীরভাবে অনুতপ্ত হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন।
তৎসঙ্গে ভবিষ্যতে সংগঠনের গঠনতন্ত্র, নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কোনো কার্যকলাপে সম্পৃক্ত হবেন না মর্মে লিখিত অঙ্গীকার করেছেন। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) মির্জা আজম এমপির নির্দেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ আপনার প্রেরিত লিখিত জবাব পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে সংগঠনের স্বার্থ পরিপন্থী কার্যক্রম ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার শর্তে আপনাকে ক্ষমা করেছে।
সেই সঙ্গে দলীয় পদে বহালের জন্য সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিক নির্দেশনা দেওয়া হলো। ভবিষ্যতে সংগঠন বিরোধী কোনো কর্মকান্ডে লিপ্ত হলে, তা ক্ষমার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। তার এই ক্ষমা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই আওয়ামীলীগ নেতা। সেই সাথে তিনি প্রশ্ন তুলেন, দলীয় নেতাদের মতামত না নিয়ে তিনি কি করে একক ভাবে তাকে ক্ষমা করেন। কেননা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মন্তব্য করে কেউ ক্ষমা পেতে পারে না। আইনের মাধ্যমে তার বিচার হবে।এসএম/জেসি


