Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ভেজাল মিষ্টিতে শরীর তিতা

Icon

ইফতি মাহমুদ

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২২, ০৮:১৫ পিএম

ভেজাল মিষ্টিতে শরীর তিতা
Swapno


 
# মিষ্টি তৈরির কারখানা ও দোকান মনিটরিংয়ে তদারকি নেই
 

 

নারায়াণগঞ্জ শহরে মিষ্টির চাহিদা পূরণ করতে বহু নামী-দামী মিষ্টির দোকান গড়ে ওঠেছে। শহরে অনেক মিষ্টির ব্যবসায়ীরা যুগ যুগ ধরে শুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসলেও তার অন্তরালে সাধারণ মানুষের সাথে তারা প্রতারণা করে আসছে মিষ্টি ব্যবসায়ীরা । কিন্তু মানুষের এই প্রিয় খাবার প্রিয় থাকবে তো এই মিষ্টি তৈরীর দৃশ্য দেখলে গা শিউরে উঠবে। নারায়াণঞ্জ শহরে ঠিক এভাবেই বেশীরভাগ মিষ্টি ব্যবসায়ীরাই এই প্রতারণা করে আসছে।

 

সূত্র বলছে,  অসাধু মিষ্টি ব্যবসায়ীরা কম দামে ভেজাল ছানা কিনে মিষ্টি তৈরি করে বাজারজাত করেন। নিম্নমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ গুঁড়া দুধ, আটা-ময়দা মিশিয়ে তৈরি হয় ভেজাল ছানা। এই ছানার সঙ্গে ক্ষতিকর সোডিয়াম সাইক্লামেট বা ঘন চিনি মিশিয়ে তৈরি করা হয় নানা রকমের মিষ্টি। সাধারণ চিনির চেয়ে ৫০ গুণ বেশি মিষ্টি হয় ঘন চিনি। এক কেজি চিনি যতটা মিষ্টি স্বাদ আনতে পারে, মাত্র ২০ গ্রাম ঘন চিনি খাবারকে ততখানি মিষ্টি করে তুলতে পারে। উপরন্তু ঘন চিনি কম দামে বিক্রি করার জন্য ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সারের সঙ্গে মেশানো হচ্ছে। 

 

ম্যাগনেসিয়াম সালফেট দেখতে চিনির মতো দানাদার, যা মূলত এক ধরনের রাসায়নিক সার, যার দাম প্রতি কেজি সাধারণ চিনির তুলনায় অর্ধেকের চেয়ে অনেক কম। সারাদেশেই মিষ্টির দোকানে এসব ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে নারায়ণগঞ্জের মিষ্টির দোকানগুলোতে মিষ্টি তৈরির বিষয়টি তদারকি করার মতো কেউ নেই। ভেজাল মিষ্টির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত, ‘ভেজাল মিষ্টি খেলে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে পেটের পীড়া ও ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। লিভার ও কিডনি ফেইলিওর হতে পারে। অনেক সময় তাৎক্ষণিক ক্ষতি করে না, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এই ভেজাল মিষ্টি খাওয়ায় একসময় ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।’


নারায়ণগঞ্জ শহরে ব্রান্ড খ্যাত কিছু মিষ্টির দোকান রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে যাদের নাম না বললেই নয় সুগন্ধা সুইমিট, সুইট নেশন,  ফুড ল্যান্ড সুইট, আদি আদর্শ মিষ্টান্ন ভান্ডারে অরগানিক সুইট, প্যারিস বাগেত। কিন্তু তাদের তৈরী মিষ্টি স্বাদে অনন্য মুখরোচক তাদের চাকচিক্যতা কাঁচের ঘরে সাজিয়ে রাখা রংবেরংয়ের মিষ্টি, পরিবেশনা দেখলে যে কেউ মনে করবে বেশ স্বুসাধু। এইসব দোকানের রাখা মিষ্টিগুলো সুস্বাদু ভাল মানের মিষ্টি বলে তারা তাদের মনগড়া ভাবে তারা কাঁচের ঘরে রাখা মিষ্টিগুলোতে দাম লাগিয়ে রাখে মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। মিষ্টির দোকানগুলো  ভাল মানের মিষ্টি পাওয়া যাচ্ছে বলে আমাদের বোকা বানিয়ে বেশি দাম নিয়ে বাক্সের এর নামে ওজনে কম দিয়ে এমনকি মাঝে মাঝে দু’চার দিনের বাসি মিষ্টিও বিক্রি করে প্রতারণা করে আসছে। ভোক্তা অধিকার মাঝে মধ্যে খাদ্যদ্রব্য ও ফলমূল ভেজাল বিরোধী অভিযান চালানো হলেও বরাবর আড়ালে থেকে যাচ্ছে নারায়াণগঞ্জ শহরের মিষ্টির দোকান ও কারখানাগুলো।


 
লক্ষ্য করা যায়, ২নং শহীদ সোহ্রাওয়াদী রোডে, রাস্তার পাশেই লক্ষী নারায়ণ সুইটমিট এবং খাজা সুইটমিট রাস্তার ফুট দখল করে নোংরা অবস্থায় রুটি বানাচ্ছে মিষ্টি ভাজছে এতে পথচারীরা চরম দূরভোগ পড়ছে। ২নং শহীদ সোহ্রাওয়াদী রোডে ব্রাক্ষ মন্দির মার্কেটে অবস্থিত হারুন মিষ্টান্ন ভান্ডার ও ঢাকা সুইটমিট তাদের দুই প্রতিষ্ঠানের ঠিক পিছনেই মিষ্টি বানানোর কারখানা রয়েছে। তারা দুই প্রতিষ্ঠানই অস্বাস্থ্যকর দূরগন্ধযুক্ত পরিবেশে মিষ্টি বানিয়ে পরিবেশন করে আসছে দেখা যায় ঘর্মাক্ত খোলা হাতে কারিগর বানাচ্ছে মিষ্টি এবং আশেপাশে নোংরা আর্বজনায় ভরপুর। হারুন মিষ্টান্ন ভান্ডারে লক্ষ্য করা যায় তাদের কাঁচের ঘরে মিষ্টিতে মাছি বসে আছে সে মিষ্টি এক ক্রেতার কাছে বিক্রি করছে। ২নং গেইটে বঙ্গবন্ধু রোডে, আশীবাদ মিষ্টান্ন ভান্ডারে নামে মিষ্টির দোকানে গিয়ে দেখা যায় ভাল মিষ্টির দিবে বলে দোকানের পিছনে থাকা পঁচা বাশি মিষ্টিগুলো ভাল মিষ্টির সাথে মিশিয়ে মানুষকে দিয়ে দিচ্ছে।


 
নাম প্রকাশে অনচ্ছিুৃক এক মিষ্টি কর্মচারী জানান, আমরা দুধের সাথে অনেক কিছইু মিশ্রন করি এটা সত্য আসলে আমরা মিষ্টির স্বাদ বাড়াতে করতে হয়। পোশাক পরিচ্ছেদ নিয়ে বলেন আমরা সবসময় ঘমান্ত অবস্থায় থাকি তাই অর্ধপোশাকে থাকতে হয়। আর মিষ্টি বানানোর পরিবেশ আমাদের এইরকমই মালিক পরিবেশ না ঠিক করলে আমরা কি করব।


 
 মিষ্টি ক্রয় করতে আসা এক ক্রেতা জানায়, শহরের প্রায়ই মিষ্টির দোকানগুলো আমাদের সাথে প্রতারণা করছে তাদের মিষ্টিগুলো  দেখতে ভাল মনে হলেও প্রায়ই লক্ষ্য করা যায় বাসায় নেওয়ার পর দেখি পঁচা বাশি। একেক দিন একেক দোকান থেকে মিষ্টি কেনা হলেও আজকে ভাল হলে কাল আবার খারাপ পাচ্ছি।


 
এ ব্যাপারে নারায়াণগঞ্জ ভোক্তা অধিকারে উপ-পরিচালক সেলিমুজ্জামান জানান, আমরা এ ব্যাপারে মনিটরিং করছি সবসময় আর নিয়মিত মনিটরিং চলবে এসব দোকানের বিরুদ্ধে। তাদের এইসব কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন