Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

খানপুর হাসপাতালেও বিশুদ্ধ  পানির সংকট

Icon

তানজিলা তিন্নি

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২২, ০৮:২২ পিএম

খানপুর হাসপাতালেও বিশুদ্ধ  পানির সংকট
Swapno

 

#  কর্তৃপক্ষের দাবি : তাদের রিজার্ভ ট্যাংক’র পানি বিশুদ্ধ
#  ফিল্টার থাকা সত্ত্বেও রোগীদের পানির ভোগান্তি

 

নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে বিশুদ্ধ পানির সংকটের পর এবার খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালেও মিললো একই চিত্র। খানপুর হাসপাতালেও পানি বিশুদ্ধ করণ ফিল্টার থাকাবস্থায়ও সেগুলো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এতে অনেকটা বাধ্য হয়েই বাহির থেকে বোতলাজাত পানি কিনে খাচ্ছেন রোগীরা। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের রিজার্ভ ট্যাংক-এ থাকা পানি সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ। তবে রোগী ও তাদের স্বজনরা নোংরা পরিবেশে থাকা পানির কল দিয়ে সরবরাহকৃত পানিকে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ বলে মানতে নারাজ। যার ফলে হাসপাতালের পাশে থাকা মসজিদ ও আশে পাশের দোকান থেকে পানি কিনে এনে পানি পান করছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এ বিষয় বারবার জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে রোগীদের অভিযোগ। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত এই সরকারি দুটি হাসপাতালের একটিতেও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ না থাকায় বিশেষ করে পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র থাকাবস্থায়ও তার ব্যবহার না করায় স্বাস্থ্য সচেতন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মনে প্রশ্ন জাগে, তবে কী সরকার থেকে দেওয়া ফিল্টারের কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ?

 


এই বিষয়ে হাসপাতালের একজন স্বাস্থ্য সেবিকার সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি নিজেও বাসা থেকে পানি এনে ব্যবহার করি। এখানকার পানি পান করতে আমরা একটু সংকোচবোধ করি, তাই পান করি না। শুধু আমি না, এখানকার অনেকেই হাসপাতালের পানি খায় না। তবে যারা পান করে তাদের কখনও তেমন কোন সমস্যা হয়েছে বলে শুনিনি। হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালের পরিচালকসহ ডাক্তার, নার্স ও বাকি কর্মকর্তা যারা আছেন তারা সবাই এখানকার ট্যাংক এর পানি পান করছেন।

 


এই বিষয়ে হাসপাতালের রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে আলাপ করলে তারা জানায়, প্রত্যেক হাসপাতালে পানি সংরক্ষণের জন্য পানির ট্যাংক থাকাবস্থায়ও সরকার থেকে পানি ফিল্টারের জন্য যন্ত্র দিয়েছে। তার নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে। ট্যাংক’র পানি যদি পুরোপুরি বিশুদ্ধ হতো কিংবা তার উপর সম্পূর্ণ ভরসা করা যেত তাহলে সরকার এত টাকা খরচ করে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করতো না। তাই আমরা মনে করি ট্যাংক’র পানি যতই বিশুদ্ধ হোক না কেনো, তার জন্যও ফিল্টারের প্রয়োজন আছে।

 


সার্জারি ওয়ার্ডের এক রোগীর স্বজন বলেন, এখানে খাবারের জন্য পানি আনতে হয় হাসপাতালের বাথরুমের কল থেকে। বাথরুমের অবস্থা অত্যন্ত নোংরা ও দুর্গন্ধ যুক্ত হওয়ায় রোগীদের বাথরুম ব্যবহার করতেই অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এই পরিবেশে বাথরুম থেকে পানি নিয়ে পান করার মতো রুচি হয় না আমাদের। এখানে ওয়ার্ডের পাশে যদি একটি পানি ফিল্টারের ব্যবস্থা থাকতো তাহলে আমাদের সুবিধা হতো।


প্রসূতি বিভাগের এক রোগী জানান, ডাক্তাররা এখানকার পানিকে ভালো বলেন, তবে আমরা এই পানি খাওয়ার ভরসা পাই না। এখানে ট্যাংকি’র পানি বিশুদ্ধ হলেও ফিল্টার থাকলে ভালো হতো। তাহলে আমাদের কষ্ট করে বাইরে থেকে পানি কিনে কেতে হতো না।

 

এ বিষয়ে হাসপাতালের আরপি ডা. দেবরাজ মালাকার যুগের চিন্তাকে জানান, এখানকার ট্যাংক’র পানি সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ। আমরা প্রায়ই পানির ট্যাংক পরিষ্কার করি এবং এ পানি আমরা নিজেরাও পান করি। আমরা ডাক্তাররা যেখানে এই পানি নিরাপদ মনে করে পান করতে পারি সেখানে রোগীদের সংকোচ থাকলে আমাদের কিছু করার নেই।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন