Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

গোগনগরে ফের হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২২, ১০:৩৬ পিএম

গোগনগরে ফের হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা
Swapno


# ফজর আলী দুই বিচ্ছু বাহিনী নিয়ে মানুষের ভয়

 

 

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নটি শহর থেকে দক্ষিনে মুন্সিগঞ্জের সাথে অবস্থিত। এই ইউনিয়নের দক্ষিন-পশ্চিমে ধলেশ^রী নদী এবং পূর্বে শীতলক্ষ্যা নদী অবস্থিত। স্থানীয়দের অভিযোগ গত বছর নভেম্বর মাসে ইউনিয়ন নির্বাচনে গোগনগরে ফজর আলী চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে এখানে একের পর এক মারামারি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, মাদককারবারি, টেন্ডার বানিজ্য বেরে গেছে। সেই সাথে সিমেন্ট ফ্যাক্টরী এবং ডকইয়ার্ড গুলোর ওয়েস্টেজ মালামালের আদিপত্য নিয়ে হত্যার ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। সচেতন মহলের মতে গোগনগর এখন অপরাধ জগতের অন্যতম এলাকা হিসেবে গড়ে উঠেছে। অপরাধীরা তেমন কোন শাস্তির আওতায় না আসায় দিনকে দিন অপরাধ বেরেই চলছে। অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরার জন্য প্রশাসনের তেমন কোন পদক্ষেপ নেই। আবার অনেক অপরাধী হত্যা মামলার আসামী হয়েও জামিন পেয়ে যাচ্ছে।  একই সাথে হত্যা চেষ্টাকারী মামলার আসামী হয়েও আইনের আওতায় না আসায় মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরী হয়ে আছে।

 

এদিকে সম্প্রতি মাস দুয়েক আগে গোগনগরে প্রিমিয়ার, ক্রাউন সিমেন্ট ফ্যাক্টরী সহ কয়েকটি ডাইং কারখানার ওয়েস্টেজ মালামালের আদিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের মাঝে মারামারি ঘটনা ঘটেছে। ্্এই আদিপত্য বিস্তার নিয়ে হত্যার ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। এই দুই বাহিনীই গোগনগরের চেয়ারম্যান ফজর আলীর বিচ্ছুবাহিনী হিসেবে সারা নারায়ণগঞ্জে পরিচিতি। তাদেরকে সয়ং ফজর আলী নিজেও এখন নিয়ন্ত্রন করতে পারছে না। প্রত্যেকে যে যার মত করে গোগনগরে আদিপত্য বিস্তারে প্রভাব তৈরী করে ওই এলাকাকে অপরাধের স্বর্গরাজ্য বানাচ্ছে।

 

খোজ নিয়ে জানাযায়, এই মার্চ মাসে রানা, কাসেম বাহিনীর মাঝে গোগনগর ইউনিয়নের নারী সদস্য নিলুফা মেম্বার এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর হোসেনের সাথে জমি সংক্রান্ত ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ লাগে। তখন রানা তার অস্ত্র দিয়ে গুলি করে। তার গুলিতে নিলুফা মেম্বার আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।


 
পরবর্তিতে খোঁজ নিয়ে জানাাযায়, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুরান সৈয়দপুর এলাকায় ফজর আলী বিচ্ছু বাহিনীর দুই গ্রুপের মধ্যে গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং প্যানেল চেয়ারম্যান, মেম্বার রুবেল ও রানা বাহিনীর মাঝে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সোমবার (২০জুন) রাত ১০টার দিকে প্রথমে চর সৈয়দপুর এলাকায় সংঘর্ষ হয় যা রাত ২ টা পর্যন্ত চলে। এই ঘটনায় উভয় গ্রুপের ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়। পরে এই মারামারির ঘটনায় মেম্বার রুবেলের লোকজন রানার বাড়ি পুরাতন সৈয়দপুর গিয়ে দুইটি মটর সাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই সাথে বাড়ি ঘড়ে ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনায় নারায়নগঞ্জ সদর থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়। ২১ জুন রানা বাহিনীর বিপক্ষে ১৫ জনের নাম উল্লেখ্য করে লুৎফর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন। যার মামলা নম্বর ২৩। অপর দিকে একই দিনে রুবেল বাহিনীর বিরুদ্ধে ১৪ জনের নাম উল্লেখ্য করে হাসি বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন। যার মামলা নম্বর ২৪।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গোগনগর ফজর আলী চেয়ারম্যান হওয়ার পর গোগনগরে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বেড়েই চলছে। তার ইন্ধনে সন্ত্রাসী কার্যক্রম হওয়ায় তা আর থামছে না। যা এখন হত্যা পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। ওই এলাকা যেন এখন সন্ত্রাসীদের আস্তানা গড়ে উঠেছে। কিছুদিন আগেও ফজর আলী বিচ্ছু বাহিনীর লোকজন প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে গোগনগরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যার নুর হোসেনের উপরে গুলি চালান। এই ঘটনায় নুর হোসেন বেঁচে গেলেও গোগনগর ইউনিয়নের নারী সদস্য আহত হন। তখন ওই ঘটনায় ৮ জন গ্রেপ্তার হলেও পরে তারা জামিনে ছাড়া পেয়ে ফজর আলী বিচ্ছু বাহিনী সিমেন্ট ফ্যাক্টরী, শীতলক্ষ্যা ৩য় সেতুর ওয়েস্টেজ মালামাল বিক্রির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে কয়েক দফায় মারামারির ঘটনা ঘটে।

 

সর্বশেষ ২৬ জুন রাতে গোগনগর ইউনিয়নের দৌলত মেম্বারকে রুবেল মেম্বারের লোকজন পিটিয়ে হত্যা করে। অপর দিকে এলাকাই মাইকিং করা হয় রুবেল মেম্বারের ভাই এবং ফজর আলীর সেকেন্ড ইন কমান্ড রবিনও থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তবে তার লাশ এখনো আসে নাই। এই ঘটনার পিছনে গোগনগরবাসী স্থানীয় চেয়ারম্যানকে দায়ী করছেন। কেননা তিনি চাইলে আরও আগে থেকে সমাধান দিতে পারতেন। কিন্তু তাতে তিনি ব্যর্থতার পরিচয় দেন। ফজর আলীর বিরুদ্ধে এত অপকর্মের অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা নিয়ে সচেতন নাগরিক প্রশ্ন তুলেন। সেই সাথে সচেতন মহল বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি যদি এই ধরনের কর্মকান্ড করেন তাহলে মানুষ কি করবে। তাদের এখনি লাগাম টেনে ধরতে হবে। অন্যথায় ওই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হবে পারে। যা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আর এনিয়ে পুরো গোগনগর জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

দৌলত মেম্বার হত্যায় ২২ জনকে উল্লেখ্য করে তার স্ত্রী সমতাজ বেগম থানায় মামলা করেন। ওই মামলার প্রধান আসামী রুবেল মেম্বার সহ ৪ জন জামিনে আছেন। তাদেরকে এলাকাবাসি ইতোমধ্যে ফুল দিয়ে বরন করে নিয়েছেন। আর এই নিয়ে মানুষের মাঝে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। অন্য দিকে দৌলত মেম্বারের বিরুদ্ধেও হত্যা মামলা রয়েছে। তার ছেলে কাসেমও হত্যা মামলার আসামি। তারা হত্যা করে পার পেয়ে যাওয়ায় গোগনগরে একের পর এক তাদের মাধ্যমে হত্যার ঘটনা ঘটছে। তাই গোনগরবাসির মাঝে এখন ফের আতঙ্ক তৈরী হয়েছে। এখানে আবার যে কোন মুহর্তে হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। কেননা হত্যাকারীরা আইনের ফাক ফোকর দিয়ে জামিনে বের হয়ে পার পেয়ে যান। সচেতন মহল মনে করেন তাদের যদি আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেয়া না যায় তাহলে গোগনগর ত্রাসে পরিনত হবে।

 

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আনিচুর রহমান জানান, কোন ধরনের অপ্রিতিকর পরিবেশ হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। তার পরেও আমাদের পুলিশের নিয়মিত টহল চালু আছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে।এমই/জেসি


 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন