অস্ত্র হাতে মেহেদি হত্যা মামলার আসামিদের ছবি ভাইরাল
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২২, ০৪:২৫ পিএম
# এলাকাবাসী রাজুর কিশোরগ্যাং বাহিনী থেকে রক্ষা চান
# আর কোন মায়ের বুক যেন খালি না হয়
# হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবী নিহতের পরিবারের
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের দেওভোগ মাদরাসা রোডের শেষ মাথায় মিয়াবাড়ি এলাকায় মেহেদি নামের এক হোসিয়ারি শ্রমিককে ডেকে নিয়ে দিবালোকে হত্যা করা হয়েছে বলে, অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। পরিবারের অভিযোগ দেওভোগের শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজু-সাজুর শেল্টারে এই হত্যার প্রধান আসমাী ওমর ফারুকের কিশোরগ্যাং গ্রুপের হাতে নিহত হন মেহেদি।
স্থানীয়রা জানান, কাশিপুর দেওভোগ এলাকায় এমন কোন অপকর্ম নেই যা রাজু-সাজুর গ্যাংবাহিনী করে না। তারা মাদককারবারি থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, নারীদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করান এই কিশোরগ্যাংবাহিনী।
অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন তেমন কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় দিনের পর দিন তদের অপকর্ম বেড়েই চলছে। সেই অপকর্মের ধারাবাহিকতায় দেওভোগের নিরীহ পরিবারের মেহেদিকে জীবন দিতে হয়। তাই সচেতন মহল মনে করেন তাদের যদি এখনি লাগাম টেনে ধরা না হয় তাহলে ওই এলাকায় আরও হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে।
এলাকাবাসী জানান, মেহেদি হত্যার প্রধান আসামী ওমর ফারুকের নেতৃত্বে তাকে হত্যা করা হয়। তাকে হত্যার করার জন্য ওমর ফারুক কয়েক দফায় তার কিশোরগ্যাং গ্রুপ সদস্যদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করে। এই ওমর ফারুককে শেল্টার দেন কাশিপুর এলাকার একাধিক মামলা আসামী রাজু-সাজু। এই রাজু-সাজুর প্রভাবশালী মহলের সাথে সখ্যতা রয়েছে। প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে তারা এখন বেপোরায় হয়ে গেছে। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২১ সালে কাশিপুর দেওভোগ এলাকায় ওমর ফারুকের ভাই ইমনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তখন ওই হত্যায় মেহেদিকেও আসামী করা হয়। কিন্তু মেহেদি জামিনে বের হয়ে আসায় তাকে হত্যার জন্য মিশনে নামে ফারুকের কিশোরগ্যাং গ্রুপ। বিভিন্ন অস্ত্র হাতে নিয়ে তারা সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছবি ছাড়ে।
তাদের অস্ত্র হাতে ছবি দেখে স্থানীয় মানুষজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কেননা তারা যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। তাছাড়া নিহত মেহেদির পরিবারও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাদের উপর যে কোন ধরনের হামলা চালাতে পারে তারা।
অন্যদিকে এই মেহেদি হত্যার ঘটনায় নিহতের বড় বোন মৌসুমী (২৯) বাদী হয়ে রোববার (৩১ জুলাই) আট জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জনকে আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে। এই হত্যায় জড়িত সোহগকে ধরে স্থানীয় জনগণ পুলিশে সোপর্দ করে।
গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ ফতুল্লা মডেল থানার দেওভোগ শেষ মাথার দুলাল খার পুত্র ও স্থানীয় হোসিয়ারি কারখানার শ্রমিক। জানা যায়, মেহেদী হাসান ২০২১ সালের ১৭ জুলাই পশ্চিম দেওভোগস্থ নিহত ইমন হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ও চার্জশিটভুক্ত আসামী।
মেহেদী হত্যাকান্ড মামলায় আসামী করা হয় ওমর ফারুক (২৭), সবুজ (৩০), আরেক আসামী রাসেল ওরফে ভাগিনা রাসেল (২১), মাইকেল (২১), সীমান্ত (২২), শান্ত ওরফে কসাই শান্ত (২১), জুব্বা (২৩), সঞ্চয় (২১) সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন। আসামীদের মধ্যে সবুজ ইমন হত্যা মামলার বাদী ছিল।
মামলায় সূত্রে জানা যায়, মেহেদী হাসান পশ্চিম দেওভোগ মাদ্রাসার স্বপরিবারে বর্ণিত ঠিকানায় বসবাস করে আসছে। মেহেদী হাসান (২১) পশ্চিম দেওভোগ মাদ্রাসার শেষ মাথায় মিয়া পাড়াস্থ একটি হোসিয়ারী কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। গত ৩০ জুলাই প্রতিদিনের ন্যায় হোসিয়ারী কারখানায় কাজ শেষে বাড়ী ফেরার পথে অত্র থানাধীন পশ্চিম দেওভোগ মাদ্রাসার শেষ মাথায় মিয়া পাড়াস্থ রাকিব এর চায়ের দোকানের সামনে পৌছালে রাত অনুমানিক সাড়ে ১০টায় তাকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আমার ছোট ভাই মেহেদী হাসানকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম অবস্থায় চিকিৎসার জন্য দ্রুত জেনারেল হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া) নারায়ণগঞ্জ এর জরুরী বিভাগে নিয়া গেলে ৩০ জুলাই রাত্র ১১টা ২০ মিনিটের দিকে সময় জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার মেহেদী হাসানকে মৃত ঘোষণা করে।
নিহতের বোন মৌসুমী জানান, আমার ভাই নিহত হওয়ার পরদিন এলাকাবাসী কয়েকজন আসামীকে আটক করে কিন্তু বাকিরা পালিয়ে যায় পরবর্তীতে সোহাগকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। ২০২১ সালের ১৭ জুলাই ইমন হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ও চার্জশিটভুক্ত আসামী থাকার ব্যাপারে মেহেদীর বোন বলেন, ‘আমার ভাইকে যারা মেরে ফেলছে শত্রুতার কারণে তারাই আমার ভাইকে ইমন হত্যা মামলায় ফাসিয়েছে। এই মামলায় আমার ভাইকে কোর্টে সেলেন্ডার করে জামিনে বের করে নিয়ে এসেছিলাম আর এই মামলায় আমার ভাইয়ের সম্পৃক্ততা প্রমাণ পায়নি।’
আমার ভাইকে কারা পিছন থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে সব সিসি ক্যামেরা ফুটেজে আছে এই সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পুলিশসহ গণমাধ্যম সবার কাছে আছে। এদিকে মামলার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নিহতের বোন বলছেন, মামলা করার পরও পুলিশ তেমন কোন তদারকি করছে না, আসামীরাও গ্রেপ্তার হচ্ছে না এদিকে এলাকাবাসীও আমাদের কাছে বলছে পুলিশ কোন রকম ব্যবস্থা নিচ্ছে না আসামীদের বিরুদ্ধে তাদের তদারকিও চোখে পড়ছে না।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ রিজাউল হক দিপু জানায়, মেহেদী হত্যাকান্ডের ঘটনায় আসামীদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে বলেন, ‘আমরা আসামীদের গ্রেপ্তার করার জন্য কৌশলে তদারকি করছি। ইমন হত্যা মামলায় মেহেদী এজহারভুক্ত আসামী ছিলেন তিনি নিশ্চত করেন। তিনি জানান ঘাতকদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে দ্রুত গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।’ জেসি/এন.এইচ


