তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড এর কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। অনেকে আবার তিতাসকে দুর্নীতির আখড়া হিসেবেও উল্লেখ করে থাকেন। এই দুর্নীতির অগণিত পন্থার মধ্যে একটি উল্লেখ যোগ্য পন্থা হলো তিতাস গ্যাস এর অবৈধ সংযোগ। অবৈধ সংযোগের কারণে শুধু যে সরকার রাজস্বই হারাচ্ছেন তা নয়।
তিতাসের মধ্যম ও নিম্নসারির কিছু কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ কিংবা সুবিধাবাদী ক্ষমতাবানরা সরাসরি সংযুক্ত থাকে এবং এসব অবৈধ সংযোগকারীদের কাছ থেকে সরাসরি অর্থনৈতিক সুবিধা পায় বলে অভিযোগ আছে। তাই বৈধ সংযোগকারীদের তুলনায় এসব অবৈধ সংযোগকারীরা বেশি সুবিধা ভোগ করে। তাদের সংযোগের যে কোন সমস্যার দ্রুত সমাধানও দেওয়া হয়।
কোন কোন এলাকায় বৈধ সংযোগকারীদের লাইনে বিঘ্ন সৃষ্টি করে হলেও অবৈধদের গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। অন্যদিকে অবৈধ সংযোগকারীদের সংখ্যা লাগামহীন হয়ে যাওয়ায় চাহিদার অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বিপাকে পড়েন বৈধ সংযোগকারীরা। সচেতন মহলের মতে, এসব অবৈধ সংযোগের কারণে সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছেন।
সেই সাথে এসব অবৈধ সংযোগকারীদের কারণে বিদেশ থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানী করতে হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে গচ্ছা যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। বছরের পর বছর এসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নে অভিযান নামক একটি ব্যবস্থার আশ্রয় নিলেও ফলাফল জিরো।
এক্ষেত্রে জিরো বললেও হয়তো ভুল হবে, বরং বলা চলে মাইনাস। কারণ প্রতি নিয়ত অভিযান চালানোর পরেও এই সংযোগের সংখ্যা না কমে বরং দিনদিন বাড়ছে। সুধীজনের মতে, এই সমস্যা দুরীকরণে সরকারের সামনে একটি মাত্র যে পথ খোলা আছেও তা-ও অত্যন্ত সুকৌশলে আটকিয়ে রেখেছে তিতাসেরই কিছু অসাধু কর্মকর্তা। তারা জানান, যেখানে কোন অবস্থায়ই গ্যাসের এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না এবং গ্যাসের ব্যবহার কমানো সম্ভব হচ্ছে না। সেখানে এসব সংযোগগুলো বৈধ করার মাধ্যমে সরকার তার গ্যাস বিভাগের অনেকটা ক্ষতি-ই পুষিয়ে নিতে পারেন বলে তাদের ধারণা।
এই বিষয়ে তিতাসের একটি সূত্র জানায়, গত ২০২০-২১ অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে সর্বসাকুল্যে ব্যয় ধরা হয় সাড়ে ১৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা। উচ্চমূল্যে আমদানীকৃত এই এলএনজি বিক্রি বাবদ আয় ধরা হয় ১৪ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক অর্থ বছরেই সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয় ২ হাজার ৮১২ কোটি টাকা। যা দেশের অবৈধ সংযোগগুলো বৈধ করার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেকটা-ই পুষিয়ে নেওয়া সহজ হতো।
তিতাসের এসব অবৈধ সংযোগের সাথে যারা জড়িত এবং এখান থেকে যারা অবৈধভাবে মোটা পরিমাণের অর্থ উপার্জন করে তাদের একটি সিন্ডিকেট এই বিষয়ে সরকারী নীতিনির্ধারকদের বুঝিয়েছেন যে, ‘গ্যাসের সংযোগ বাড়ানো ঠিক হবে না। এতে করে মজুদ গ্যাসের উপর চাপ বাড়বে।’ একই সাথে তারা এসব অবৈধ সংযোগ টিকিয়ে গ্যাসের মজুদ শেষ করছে ঠিকই।
অন্যদিকে তারা নিজেরা আঙ্গুর ফুলে কলাগাছ হয়ে উঠছে আর সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। এ ধরণের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দৌরাত্ম্য এতটাই বেড়েছে, এতই অভিযোগ উঠেছে যে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্তে নামতে বাধ্য হন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরইমধ্যে দুদকের তদন্তে বেশ কিছু দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে বলে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জানা গেছে। এরই মধ্যে এসব দুর্নীতির বেশ কয়েকটি উৎস চিহ্নিতসহ বেশ কিছু সুপারিশও প্রদান করেন দুদক।এসএম/জেসি


