Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

জ্বালানি তেল নিয়ে তেলবাজি

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২২, ০৪:৩৯ পিএম

জ্বালানি তেল নিয়ে তেলবাজি
Swapno


 
# আমরা ভীষণভাবে হতাশ : মো. হাতেম

# এসি রুমে বসে আমাদের সমস্যা বুঝবে কি করে : ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী


 
পূর্ব কোন ঘোষণা ছাড়া-ই ১ ঘন্টার নোটিশ দিয়ে রাত ১২ টা থেকে হুট করেই জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। সে সময় হোন্ডা থেকে শুরু করে যাদের কোন প্রকার যানবাহন আছে তাদের কেউ আছেন ঘুমিয়ে, কেউ বা ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন আবার কেউ বা কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার জন্য রওয়ানা দিয়েছেন। 

 

এমতবস্থায় আচমকা এই মূল্য বৃদ্ধির সংবাদ শুনে তাও অবার দু’চার-পাঁচ টাকা নয়, তেলভেদে একেবারে ৪৬ টাকা বৃদ্ধির সংবাদ শুনে যেন হতচকিত হয়ে যান সকলে। তখন অনেকটা যে যে-অবস্থায় আছেন সেই অবস্থায়ই যেন তার শখের বাহনটি নিয়ে ছুটে চলেন তেলের পাম্পে। উদ্দেশ্য পূর্বের মূল্যে যদি কিছু তেল সংগ্রহ করা যায়। 

 

এর মধ্যে অনেকেই আবার চেষ্টা করেন যদি ফুল ট্যাংক তেল নিয়ে অন্তত আরও কিছুদিন বাড়তি মূল্যের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এতে করে শুক্রবার রাতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে যানবাহনের জ্বালানি তেল কেনার ধুম পড়ে যায়। অনেককেই আবার খিস্তি ছেড়ে বলতে শোনা যায় আমাদের দেশীয় কালচারে মুল্য বৃদ্ধিটা অনেকটা ওয়ানওয়ের মতো।

 

যেখানে মূল্য বৃদ্ধির সিস্টেম থাকলেও মূল্য হ্রাসের কোন প্রচলন নেই। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে কোন কিছুর মূল্য বৃদ্ধির হয় ঠিক-ই কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তালমিলিয়ে মূল্য হ্রাস হয়েছে এমন সংবাদ কারও স্মরণে আছে বলে শোনা যায় না।


 
শুক্রবার রাতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একই দিন রাত ১২টার পর থেকে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটার প্রতি ১১৪ টাকা এবং পেট্রোল ও অকটেনের দাম যথাক্রমে ১৩০ ও ১৩৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


 
এই বিষয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আহসান বলেন, দেখেন আমরা কোন রাষ্ট্রে বাস করি। বলা নাই, কওয়া নাই হঠাৎ করে ৮৯ টাকার অকটেন এখন ১৩৫ টাকা। দাম বাড়ালে ১০টাকা কিংবা ২০টাকা বাড়ানো যেতো। কিন্তু একেবারেই ৪৬ টাকা বৃদ্ধি, তা-ও ১ ঘন্টার নোটিশে। আমরা ছোট ব্যবসা করি। 


মোটর সাইকেলে করে বিভিন্ন জায়গায় মাল সাপ্লাই দেই। এখনতো আমাদেরও মূল্য বাড়াতে হবে। এভাবে প্রত্যেকটি পণ্যের দাম বাড়বে। আমাদের ব্যবসা একেবারে লাটে উঠে যাবে। তারাতো এসি রুমে বসে দাম বাড়ায় তারা আমাদের সমস্যা বুঝবে কি করে।


 
বাংলাদেশ নিটওয়্যারস মেনুফ্যাকচার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এই বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘অস্বাভাবিক এই মূল্যবৃদ্ধিতে আমরা ভীষণভাবে হতাশ। এই মূল্য বৃদ্ধির কারণে আমাদের উৎপাদনের প্রতিটি বিভাগেই মূল্য বৃদ্ধি পাবে। এটা কোন যুক্তিতে কিভাবে, কেন বাড়ানো হলো, সেটা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। 

 

যদি ভর্তুকির কথাই বলা হয়, যদি সরকার মনে করে ভর্তুকি দিবে না, তাহলে অন্য কোথাও কিভাবে ভর্তুকি দেওয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা করা দরকার। মূল্যের যে বৃদ্ধি হয়েছে আমরা বলব এটা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।’ 

 

মাননীয় মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘মূল্যবৃদ্ধিটা যাতে সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায় সেভাবে বাড়াবেন।’ সহনীয় পর্যায়ে বৃদ্ধির যদি এইরূপ হয, তাহলে অসহনীয় পর্যায়ের বাড়ানোটা কত? ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি, ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি যদি সহনীয় পর্যায়ে হয়, তাহলে অসহনীয় পর্যায়ে তা কত হবে! এই বিষয়টা আসলে আমাদের কোনো অবস্থাতে বোধগম্য নয়। 

 

তিনি আরও বলেন, ‘রপ্তানিমুখী শিল্প এবং কৃষিখাতে কোনো অ্যাডভান্টেজ দেওয়া যায় কিনা বিষয়টা ভেবে দেখতে হবে। ভর্তুকিসহ কম মূল্যে এদের সরবরাহ করার কোন ব্যবস্থা করা যায় কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। তাছাড়া একসাথে এত টাকা না বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর যেত কি না। 

 

এখন যদি নাও কমানো হয়, তাহলে ছয় মাস পর আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে কমানো হবে কিনা এটাও একটা প্রশ্ন। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম যতই কম হোক বাংলাদেশের বাজারে তা আর কমে না। 

 

এর ফলে আমদানি রপ্তানির জন্য প্রতিদিন যে জাহাজ, কার্গো ও  ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করা হয় তার ভাড়াও বৃদ্ধি পাবে। সবকিছু মিলেই উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে। এরপর হয়তো বিদ্যুতের দামও বেড়ে যেতে পারে। আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এমনিতেই অনেক ছোট ছোট কারখানায় বকেয়া বিদ্যুত বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। বিদ্যুতের মূল্য বেড়ে গেলে তারা আরও বিপদে পড়বে। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন