# প্রিমিয়ার সিমেন্টের ফ্লাই অ্যাশে সৈয়দপুর এলাকা ও শীতলক্ষ্যা নদী দূষিত
# বিআইডব্লিউটিএ’র সৈয়দপুর পিলার নং-১৪ প্রিমিয়ার সিমেন্ট এর দখলে
# এত বড় কারখানাটি আমি উঠিয়ে দিব এটা কি সম্ভব: মাসুদ কামাল
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার সৈয়দপুর এলাকায় প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিল্স লি. নামে একটি সিমেন্ট কারখানা রয়েছে। এই সিমেন্ট কারখানাটি নদীর তীর দখল করে জাহাজ থেকে সিমেন্ট তৈরীর কাঁচামাল লোড আনলোড করে আসছে। এখানেই তারা ক্ষান্ত হয়নি তারা বিআইডব্লিউটি এর সীমানা প্রাচীর দখল করে নদীর তীরবর্তী এলাকায় আরো একটি কারখানা নির্মাণ করছে। তাদের ফ্যাক্টরির কাঁচামাল খোলামেলাভাবে ক্রেনে করে জাহাজে লোড-আনলোড করার কারণে ক্লিংকার অ্যাশ উড়ে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি ও সৈয়দপুর এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
অনুসন্ধানে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিল্স লি. ভিতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, নদীর তীর ঘেঁষে তারা আরো একটি ফ্যাক্টরী তৈরী করছে কিন্তু সেখানে লক্ষ্য করে দেখা যায় নির্মাণ করা ফ্যাক্টরী মাঝেই বিআইডব্লিউটি এর একটি পিলার। এই পিলারটির নম্বর হল সৈয়দপুর পিলার নং-১৪ কিছুদিন অতিবাহিত হলে বিআইডব্লিউটি এর সীমানা প্রচীরটি অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।
আরও দেখা যায় লোড-আনলোড করার সময়ে সামান্য বাতাসেই সিমেন্ট ফ্যাক্টরির অ্যাশ উড়ে আশেপাশের এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। নদীতে এই ক্লিংকারের গুঁড়া পড়তে পড়তে নদী চরমভাবে দূষিত হচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে ফ্যাক্টরীর পাশের নদীর অংশের মৃত্যু ঘটতে পারে। এই ক্লিংকার অ্যাশ ধুলিকণার কারণে নদীর দুই পাড়ের পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে।
নিয়মানুসারে জানা যায়, বায়ুতে ভাসমান বস্তুর গ্রহণযোগ্য মাত্রা ২০০ পিপিএম। কিন্তু প্রিমিয়ার সিমেন্টে প্রতিদিন যে পরিমাণ ক্লিংকারের অ্যাশ ও ধূলিকণা যেভাবে বায়ুতে মিশে যাচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে নিয়মঅনুসারে বায়ুতে ভাসমান বস্তুর গ্রহণযোগ্যতার মাত্রা যদি পরীক্ষা করা হয় কয়েকগুন পিপিএম বৃদ্ধি পাবে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানায়, প্রিমিয়ারের ধূলাবালিতে প্রায়ই দেখা যায় আমাদের এলাকা অন্ধকারের মত হয়ে যায় এবং সারাদিনই দেখা যায় নদীর দিকে অন্ধকার হয়ে থাকে। আমাদের গাছপালা সহ বাড়ি ঘরের ঢেউটিন সহ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বাতাসে উড়ে আসা ধূলাবালিতে। বাতাসের সাথে উড়তে থাকা ধূলাবালি আমরা চোখে না দেখলেও অনেক সময় শরীরের চুলকানি হয় এলাকার অনেককেই দেখা যায় বিভিন্ন চর্ম রোগের সমস্যায় ভুগতে।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক মাসুদ কামাল জানান, বিআইডব্লিউটিএর পিলার দখলের ব্যাপারে আমি অবগত আছি তারা আমাদের থেকে অনুমতি নিয়েই করছে। বিআইডব্লিউটিএর পিলার দখল করে কিভাবে অনুমতি পায় এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এখন কি এত বড় কারখানাটি আমি উঠিয়ে দিব এটা কি সম্ভব।
এ ব্যাপারে মুন্সিগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান টুকু সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন কলটি রিসিভ করেনি। এ ব্যাপারে প্রিমিয়ার সিমেন্টের এডমিনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এন.এইচ/জেসি


