বিনম্র শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২২, ০৭:২৪ পিএম
# বঙ্গবন্ধু না হলে এদেশ স্বাধীন হতো না : মেয়র আইভী
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতীয় শোক দিবস পালন করছে নারায়ণগঞ্জবাসী। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধায় পুষ্পস্তবক অর্পণ, কোরআন খতম, আলোচনা সভা, খাদ্র সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ১৫ আগস্ট সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রেখে দিন শুরু হয় সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীদের। সকাল ৬ টায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়।
এরপর নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে বিনম্র শ্রদ্ধায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক (উপসচিব) ফাতেমা তুল জান্নাতসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতনরা।
এসময় বিভিন্ন সরকারি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সাড়ে ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা, পুরস্কার ও যুব ঋণের চেক বিতরণ, বেলা ১২টায় সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে লেডিস ক্লাব ও জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার আলোচনা সভা, সুবিধাজনক সময়ে জেলখানা, হাসপাতাল, ভবঘুরে কেন্দ্র, এতিমখানা, সরকারি শিশু সদস ও গরীবদের মাঝে উন্নতমানের খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
বাদ যোহর আয়োজন করা হয় মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার। বিকাল ৩টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘আগস্ট ১৯৭৫’ নামক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। এদিকে, নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়ান (৬২ বিজিবি)।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও কোরআন খতমের মধ্যদিয়ে তারাও দিনটি শুরু করেন। বেলা ১২টায় শোক দিবস উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবনীর উপর নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সবশেষে সদস্যদের রেশন থেকে বাঁচিয়ে ২০০ জন অসহায় গরিব ও দুস্তদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে বিজিবির সৈনিকরা।
এছাড়া সকালে শহরের ২নং রেল গেইট এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে (ভাস্কর্য) নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এসময় জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি এড.আসাদুজ্জামান আসাদ, আবদুল কাদির
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড.আনিসুর রহমান দিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শহরের ২নং রেলগেট সংলগ্ন আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে জেলা আওয়ামীলীগ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথকভাবে পুস্পস্তবক অর্পণ করে।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা জুড়েই কয়েক শতাধিক স্পটে দু:স্থদের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারী হাসপাতালগুলো ও এতিমখানায় রান্না করা উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
গতকাল সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কে, কেন আমরা জাতীয় শোক দিবস পালন করি তা সকলেই জানেন। নতুন করে কিছু বলার নাই। তবে এটা বলতে চাই যে, আমরা জাতি হিসেবে অকৃতজ্ঞ।
যে মানুষটি সারাটা জীবন ব্যয় করলেন বাঙালিদের জন্য, জেল খাটলেন, জীবনের শখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়েছেন স্বাধীনতার জন্য। বাঙালির মুক্তির জন্য তিনি লড়েছেন। তাকেই কিছু কুলাঙ্গার হত্যা করেছে। শুধু তাকেই নয়, তার পরিবারের অন্য সদস্যদেরও হত্যা করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবছরই এই শোক দিবস আমাদের অকৃতজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দেয়। কীভাবে আমরা আমাদের পিতাকে হত্যা করেছি, সেই কথা মনে করিয়ে দেয়।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মর্মান্তিক, জঘন্য হত্যাকান্ড চালিয়েছিল। ঢাকার মেয়র তাপসের মা অন্তঃসত্ত্বা ছিল, তাকে পেটের বা”চাসহ হত্যা করা হয়েছে। ছোট রাসেল কতবার তার মার কাছে যেতে চেয়েছে, তাকেও হত্যা করা হয়েছে। কী মর্মান্তিক ঘটনা ওই রাতে ঘটিয়েছে! সবকিছুকে সহ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবার বাংলায় ফিরে এসে দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
আইভী বলেন, ‘১৯৮১ সালে উনি যখন ফিরে আসেন তখন তাকে বাড়িতে পর্যন্ত ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বাবা-মার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে দেওয়া হয়নি। ৩২ নম্বরে তালা দিয়ে রাখা হয়েছিল। আজকে অনেকে অনেক কিছু বলে, সঠিক ইতিহাস আমাদের জানতে হবে।’
সিটি মেয়র বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু না হলে এইদেশ স্বাধীন হতো না। তাকেই আমরা হত্যা করেছি। আমাদের কৃতজ্ঞতাবোধ থাকলে শেখ মুজিব ও তার পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধু সকলের, তিনি শুধু আওয়ামী লীগের না। বঙ্গবন্ধুকে আওয়ামী লীগ কুক্ষীগত করতে পারবে না। যেমনটা জয় বাংলা স্লোগানকে পারেনি। এইটা আমাদের জাতীয় স্লোগান।
যতদিন এই বাংলা থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধুর নাম থাকবে। বাংলাকে পাকিস্তান বানানো যাবে না। যারা এইটা করতে চেষ্টা করবে তারাও ধ্বংস হবে।’ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুশিউর রহমান, নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল বাশার।এসএম/জেসি


