Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

‘মা বইলা গো কওয়ার সুযোগ পাইবেন না’

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২২, ০৮:১৬ পিএম

‘মা বইলা গো কওয়ার সুযোগ পাইবেন না’
Swapno

 

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ফতুল্লা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। শুক্রবার (১৯ আগষ্ট) বিকেল ফতুল্লা ডিআইটি মাঠে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেন, কিছু ক্ষয় হবে। কিছু শামীম ওসমানের মরদেহ দাফন হবে। কিছু বড় ধরনের ঘটনা ঘটবে।

 

এরপরও ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হবেন। এতটুকু খবর রেখে রাজনীতি করি। বাড়াবাড়ি কইরেন না, মা বইলা গো কওয়ার সুযোগ পাইবেন না। লেভেল ক্রস করবেন না। সবাই বুঝেন আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা শুনি। এজন্য নারায়ণগঞ্জকে ঠান্ডা রাখি। এবার কিন্তু উনার কথা শুনবো না। যে ভাষায় তুমি খেলবা, আমরা সে ভাষায় খেলবো এবং জিতবো আমরা।


 
শামীম ওসমান বলেন, জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা ১৬ আগস্ট ঢাকায়, আওয়ামী লীগের কর্মীসভায়  কিছু বক্তব্য দিয়েছেন। এ বক্তব্য দেওয়ার পরে আসলে আমরা যে চোখ উঠিয়ে কথা বলব, বা গরম কথা বলব, কিংবা তেজী কথা বলব ওই জিনিসটাই কেন জানি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। কারণ, ৪৭ বছর ধরে জাতির পিতার কন্যা, মনের ভিতর চেপে থাকা যে কষ্ট, বেদনা তার যে হিমালয়ের মতো বুকে চেপে থাকা কষ্ট তার কিছুটা বহিঃপ্রকাশ সেদিন তিনি করেছেন।

 

কিন্তু কেন করলেন হঠাৎ এতদিন পর? ৪৭ বছর ধরে করলেন না। কেন আজকে করলেন? তিনি ষড়যন্ত্র কতটা বলছেন না, এ কথাটি তিনি আগে  বলেছেন? এবার যেটা বলছেন, যে চতুরদিক থেকে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এই চতুরদিক এই শব্দের একটা মানে আছে। আমরা যারা গত ৪২ বছর ধরে তাকে খুব কাছ থেকে দেখি। একজন সন্তান হিসেবে মাকে যেমন মানুষ চিনে, আমরা যেভাবে তার কাছে থাকার সুযোগ পেয়েছি আল্লাহ রহমানুর রহিম সুযোগ দিয়েছেন তার মত এক মহীয়সী নারীর পাশে থাকার,  সে হিসেব আমরা বুঝি। এই কথাটি তিনি বিনা কারণে বলেন নাই।


 
তিনি বলেন, আমরা একটু পেছনের দিকে যাই। একটা মানুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। যিনি এদেশের মানুষের জন্য সারাটা জীবন সংগ্রাম করেছেন। আপোষ করেন নাই। ইচ্ছা করলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। প্রধানমন্ত্রীর পদ নেন নাই। ফাঁসির মঞ্চে যেও মাথানত করেন নাই। জীবন যৌবন জেলখানায় কাটিয়ে দিয়েছেন। সারা বাংলাদেশ ঘুরে ঘুরে। সংঘটিত করেছে মানুষকে। কারণ আমরা স্বাধীন হতে চাই।


 
তিনি আরও বলেন, স্বাধীন শব্দটির মানে কি? একটি বড় সোনার খাঁচা আনেন আর সেটার মধ্যে সমস্ত ফল-মূল যা আছে সব দিলাম। আপনি চারটা পাখি রেখে দেন। ওর খাওয়ার কোন সমস্যা নাই। পড়ে দেখার জন্য চারটা লোক কাজ করে। কিন্তু যখন এ খাচাটা খুলে দিবেন, তখন দেখবেন পাখিটা কিন্তু উড়ে গেছে, নাই গেছে। ও কোথায় খাবে ও জানে না কোথায় পানি পাবে তাও জানে না? কিন্তু আকাশে উড়তে চায়। কারণ ও স্বাধীন হতে চায়।


 
তিনি বলেন, এই স্বাধীনতাকে বঙ্গবন্ধু আপনাকে, আমাকে, যারা আওয়ামী লীগ করেন না তাদেরকে, যারা আওয়ামী লীগ করেন তাদেরকে, এ দেশের প্রতিটা মানুষকে দিলেন। দেয়ার পর আমরা কত ঈমানদার একটা জাতি। দেখেন পাকবাহিনী বঙ্গবন্ধুকে মারতে পারলো না,  ব্রিটিশ মারতে পারল না, কেউ মারতে পারল না, কিন্তু মারলো আমাদের বাঙালিরা।

 

যারা মেরেছে তাদের মধ্যে অনেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্ত্রী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা কে মা ডেকেছিল। মেজর ডালিম বলেছিলো আমার মা নেই, আপনি দেখতে আমার মায়ের মত। তাই বঙ্গমাতা তাকে মাতৃস্নেহ দিয়েছিলেন। মাতৃস্নেহ পেয়ে  তারা কি করলো? এক রাতে ঢুকে  ওই বাড়ির প্রতিটি মানুষের বুকে ঝাঁঝরা করে দিল এমনকি। ১০ বছরের বাচ্চা ছেলে রাসেল কে মারলো। এমন কি ঐ বাড়ির অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের পেটে গুলি করল, যার পেটে বাচ্চা ছিল।


 
ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদলের সভাপতিত্বে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন,জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, সহ-সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন,

 

মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ লিটন, থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, ওয়ালী মাহমুদ খান,  থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মো. শরীফুল হক, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়াত আলম সানি প্রমুখ।এসএম/জেসি 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন