Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

নিজের দরকারের জনসভা

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২২, ০৬:৩৯ পিএম

নিজের দরকারের জনসভা
Swapno

 

# সভায় কে কে উপস্থিত ছিলেন সেটাতো দেখা-ই গেছে : আবদুল হাই
# ইমেজ সংকট কিংবা বিপদ দেখলেই সে একটি শোডাউন করে : এড.মাসুম
# না’গঞ্জবাসীকে একদিনের দুর্ভোগ ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি : হাফিজুল ইসলাম
# আওয়ামী লীগের দুর্দিনে তারা ভারত-কানাডা পালিয়ে যায় : জাহাঙ্গীর আলম
# এমপি’র নিজস্ব জনসভা, আমাদের জানানো হয়নি : এড. আওলাদ হোসেন
# নতুন কোন তথ্য পাইলে মানুষ খুশি হতো : আলী রেজা উজ্জল

 

২৭ আগস্টে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের জনসভার ঘোষণার সময় খুব ঘটা করে বলেছিলেন, বিএনপি জামায়াত ও স্বাধীনতা বিরোধী সকল শক্তির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির এই জনসমাবেশ। নারায়ণগঞ্জের সব স্বাধীনতার স্বপক্ষের লোকদের এক মঞ্চে চাই। তিনি আরও বলেছিলেন স্বাধীনতার স্বপক্ষের সবাইকে মিছিল নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ অফিসের সামনে যাওয়ার জন্য। আমি যদি নাও থাকি তবুও এ মিটিং হবে।

 

কার্যত জনসভা হয়েছে, লোক সমাগম হয়েছে কিন্তু এতদিন ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জনগণকে নতুন কোন তথ্য বা বার্তা দিতে পারেননি এমপি শামীম ওসমান। মঞ্চে তার দেওয়া বক্তব্য এর আগে বিভিন্ন মঞ্চে, বিভিন্ন জনসভায় দেওয়া বক্তব্যেরই কপি অনেকটা রেকর্ড করা বক্তব্যের মতো বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। একই সাথে সভায় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি, আওয়ামী লীগের শরীক দলের নেতাকর্মী কিংবা আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও খাঁটি নেতাদের সেখানে উপস্থিত করাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বোদ্ধারা।


 
এই বিষয় জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, নারায়ণগঞ্জে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা (পুলিশ সুপার) এসেছে। তাই প্রশাসনের লোকজনকে শোডাউন করে উনি দেখালো। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে একত্রিত করবে, তার দলের নেতা কর্মীরা-ই-তো আসেনি। দলীয় নেতা কর্মীরাই বলেছেন এটা আওয়ামী লীগের সভা না, এমপির ব্যক্তিগত সভা।

 

সেখানে সে কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোককে একত্রিত করবে! আসল কথা হলো, সে মিথ্যার রাজা, সে নতুন কথা শোনাবে! আসলে সে যখনি ইমেজ সংকটে পড়ে, যখন চারদিকে বিপদ দেখে, তখনি সে একটি শোডাউন করে। এটা তার ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অবস্থান। সবচেয়ে বড় কথা এরমধ্য দিয়ে সে নারায়ণগঞ্জকে জিম্মি রাখার জন্য প্রশাসনের লোকজনকে দেখালো যে, ‘আমি ছাড়া কেউ নাই’।




ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)’র নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন বলেন, আমরা ১৪ দলের শরীক। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অন্যতম দল হলো ন্যাপ। জেলা ১৪ দলীয় কমিটির সদস্যও আমি। এই সমাবেশের বিষয়ে আমাদের কোন জানানো হয়নি। আসলে এটা এমপি সাহেবের জনসভা। জেলা বা মহানগরের জনসভা হলে আবদুল হাই বা আনোয়ার ভাইদেরতো সেখানে অনুপস্থিত দেখলাম। এটা এমপি সাহেবের বিষয়, জনসভা করেছেন। ওনি এখানে যে ম্যাসেজ দিতে চাইছেন সেটা ওনার নিজের ম্যাসেজ। এটা চৌদ্দ দলের ম্যাসেজ কি না আমি তা জানি না। এ জাতীয় ম্যাসেজের বিষয়ে আমাদের কেন্দ্রীয় কোন নির্দেশনা নাই।


 
নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমাদের আমন্ত্রণ জানানোর তার কোন সুযোগ নাই। সে ব্যক্তিগতভাবে আওয়ামী লীগ করে। তার দলের লোকই-তো সাড়া দেয়নি। সে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দলের একজন সংসদ সদস্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো সে হেফজতীদের বিরানীও খাওয়ায়, আবার স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির জন্য তার প্রেম ভালবাসাও হয়। আমি মুখে বলব মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আর হেফাজতীদের বিরানী খাওয়াবো। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের অন্যতম দল কমিউনিস্ট পার্টিকে দাওয়াত দেওয়ার কোন সুযোগ তার নাই। আর আমাদের সেখানে যাওয়ার-তো প্রশ্নই উঠে না।

 

তিনি বলেন, এই সমাবেশে তার নিজের গুনকীর্তনই করেছেন তিনি। এখানে নতুন করে নেতাকর্মীদের জন্য ম্যাসেজ, বা নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য কোন প্রাপ্তি ছিল না। শুধু একদিনের জন্য নারায়ণগঞ্জবাসীকে দুর্ভোগ ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেনি। আমার জানামতে লোকদেরকে একশত দুইশত অর্থাৎ যাকে যা দিয়ে পারে এভাবে লোক জমায়েত করার চেষ্টা করেছে। তবে অনেক লোকজন আনছে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।


 
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই বলেন, সভায় কে কে উপস্থিত ছিলেন সেটাতো দেখাই গেছে। আমাকেও বলা হয়েছিল। তবে নারায়ণগঞ্জবাসী এই জনসমাবেশ থেকে নতুন কোন বার্তা পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না।



নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যখনি নারায়ণগঞ্জে কোন ডিসি বা এসপি নতুন আসে, তখনি সে তাদেরকে জানান দেয় যে, ‘আমি কিন্তু আছি’। তার নেতা কর্মীদের অনেক মাদক ব্যবসায়ী অনেক আছে যারা অবৈধ কাজ করবে, প্রশাসন যেন তা চোখে দেখেও না দেখে সেই জন্য একটি হুংকার দেওয়া। এই আয়োজনে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর গাজী একজন মুক্তিযোদ্ধা, বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত, তিনি উপস্থিত ছিলেন না।

 

প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী উপস্থিত ছিলেন না। আড়াইহাজারের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু উপস্থিত ছিলেন না। আওয়ামী লীগের যারা খাটি প্রেমিক, সেসব মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নেতা কর্মীদেরও দাওয়াত দেওয়া হয়নি। ১৪ দলের শরীক দলগুলোও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, তারাও কেউ ছিলেন না। বরং মঞ্চে আমরা অনেক পরিচিত রাজাকার পরিবারে সন্তান ও নাতিদের দেখেছি। বিএনপি, জাতীয় পার্টির লোকজন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, সমাবেশে শামীম ওসমান নতুন কিছু বলেননি বলে শুনেছি।

 

সেই পুরাতন ঢোলই বাজিয়েছেন তিনি। ঘন্টা বাজবে, খেলা হবে, এগুলো সব পুরোনো কাহিনী। এগুলো শুনে এখন মানুষ হাসে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের দূর্দিনে আমরাই কিন্তু জেল খাটি, মামলা খাই, মাইর খাই, আর তারা সব নেতা কর্মীদের ছেড়ে ভারত, কানাডা পালিয়ে যায়। তারা আওয়ামী লীগে কর্ণধার কি করে হয়। তিনি বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও হেফাজত কর্মীদের এনে চেয়ারম্যান, নেতা ও মেম্বার বানাচ্ছেন।




নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জল বলেন, এই সমাবেশটি উনার ব্যক্তিগত সমাবেশ, দলীয় হলে আমাদের সবাইকে জানানো হতো। এই জনসমাবেশে শামীম ওসমানের বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা একই রেকর্ডিং। নতুন কোন কিছু নাই। হুমকি ধামকি যা দিয়েছেন সেসব আগের পুরানো কথা-ই। নতুন কোন তথ্য পাইলে মানুষ খুশি হতো। বক্তব্যে আমাদের নেত্রী যে এত উন্নয়ন করতেছে সে বিষয়ে কোন কথা-ই নেই। উনি এখানে শুধু ব্যক্তিগত কথাই বলেছেন।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন