Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

আজ্ঞাবহ নয় সম্মেলনে যোগ্য নেতা চান  

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:৩২ পিএম

আজ্ঞাবহ নয় সম্মেলনে যোগ্য নেতা চান  
Swapno

 

# দুঃসময়ে পাশে থাকা নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে : কায়সার
# আমরা আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী : সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া

 

আর একদিন পর হতে যাচ্ছে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের দির্ঘদিনের প্রতিক্ষিত কাউন্সিল। ১৯৯৭ সালের পর ২৫ বছরেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই কাউন্সিল নিয়ে অনেক আশা ও প্রত্যাশা সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। এরই মধ্যে মারা গিয়েছেন পুরোনো সেই কমিটির সভাপতি আবুল হাসনাত ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই ভুঁইয়া। ২০০৪ সালে আবুল হাসনাত ও ২০১৪ সালে আব্দুল হাই ভুঁইয়া মারা যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভুঁইয়া ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন মাহফুজুর রহমান কালাম।

 

পুরোনো সেই কমিটির আরও ২১ জন সদস্য মারা গেছেন বলে আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে। এরপর দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে কমিটি চললে সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগ কমিটি সাংগঠনিকভাবে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে। এরপর ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই এড. সামসুল ইসলাম ভূইয়াকে আহবায়ক ও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমানকে যুগ্ম আহবায়ক করে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল।

 

তবে সেই আহবায়ক কমিটি গঠন নিয়ে কম জল ঘোলা করা হয়নি। জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সাথে আলাপ আলোচনা না করে, কাউকে না জানিয়ে এই আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ অধিকাংশ নেতা। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট তারা ৩৮ সদস্যের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগও পাঠায়।

 

এছাড়া এই বিষয়ে কথা বলার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথেও সাক্ষাৎ করেন তারা। এরপর এই আহবায়ক কমিটি নিয়ে সমাবেশ পাল্টা সমাবেশসহ ১৪৪ ধারা জারি করার মত ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় নেতাদের তোপ ও প্রতিরোধের মুখে পড়েন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল। এরপর অনেক নাটকীয়তার পর সেই আহবায়ক কমিটিকে বহাল রাখা হয়।

 

এরপর ২০২১ সালের ২৩ মার্চ সেই আহ্বায়ক কমিটিকে পূণর্বিন্যাস করে অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ্ আল কায়সার এবং ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুল হাই ও সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল।

 

তাই সর্বশেষ গত ২৪ আগষ্ট সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির জরুরী সভায় নেওয়া ৩ সেপ্টেম্বরের কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে অনেকটাই প্রাণ ফিরে পেয়েছে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ। প্রত্যেকেই তাদের আশা আকাঙ্খার কথা তুলে ধরছেন তাদের পছন্দের নেতাদের নিকট। তবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে সুর মিলিয়ে সোনারগাঁও আওয়মী লীগের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতাদের দাবী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে অবশ্যই যেন আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী দেওয়া হয়।


 
আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম এই বিষয়ে বলেন, প্রায় ২৫ বছর পর আবারও সোনারগাঁও আওয়ামী লীগের সম্মেলন হচ্ছে। তাই সোনারগাঁও আওয়ামী লীগের সকল শ্রেণির নেতাকর্মী স্বত:স্ফূর্তভাবে এই সম্মেলনকে গ্রহণ করছে এবং ঝাকজমকপূর্ণ করে তোলার জন্য চেষ্টায় আছে। আমরাও ব্যস্ত সময় ব্যয় করছি।

 

আমাদেরও আহবায়ক সামসুল ইসলাম ভূইয়া এবং আরেকজন যুগ্ম আহবায়ক সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সারসহ যারা আহবায়ক কমিটির সদস্য বিভিন্ন সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের সভাপতি সম্পাদক, আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ সবাইকে নিয়ে আমরা ৫টি উপকমিটি গঠন করেছি সম্মেলনকে সফল করার জন্য।আমরা আশা করছি সেদিন ব্যাপক নেতাকর্মীদের সমাবেশ ঘটবে।আমাদের আয়োজনে মন্ত্রী ও সাংসদ ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আসবেন।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা নবীন প্রবীণ ও এ্যকটিভ যারা আছেন, যাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নাই তাদেরকেই কমিটিতে রেখে একটি ব্যালেন্স কমিটি গঠন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করছি। যাতে জনগণের এই কমিটির প্রতি আস্থা থাকে। আমাদের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব ও কোন্দল নাই।


 
আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার এই বিষয়ে বলেন, সোনারগাঁয়ে আমাদের যারা তৃণমূল আওয়ামী লীগ, দীর্ঘ ২৫ বছর পর যেহেতু এই সম্মেলনটা হতে যাচ্ছে। তাই উৎসবমূখর পরিবেশে ইনশাল্লাহ এই সম্মেলনটা হবে। আমাদের আহবায়ক কমিটিসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ যারা আছেন সকলের উপস্থিতিতে একটি সুন্দর পরিবেশে আশা করি সম্মেলনটা হবে।

 

অনেকদিন যাবত যেহেতু সম্মেলন হয়নি, তাই এই সম্মেলনের পরে  আমরা আমাদের বিভিন্ন সহযোগী ও অঙ্গসসংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আমাদের প্রবীণ ও নবীনদের মিলিয়ে সোনারগাঁও আওয়ামী লীগকে একটি শক্তিশালী কমিটি হিসেবে দাঁড় করাবো এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সোনারগাঁও আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা প্রকৃত বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শকে লালন করে রাজনীতি করে তারা সবাই পরীক্ষিত, যারা মাঠে ত্যাগ শিকার করেছে, জনগণের দুঃসময়ে যারা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এ ধরণের নেতাদের এখানে মূল্যায়ন করা হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। সম্মেলনে সে ধরণের লোকদেরকেই দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং তারাই যেন দায়িত্বটা পায়।


 
এই বিষয়ে সোনারগাঁও আওয়ামী লীগের বর্তমান আহবায়ক এডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আমাদের মূল দাবী আগামী নির্বাচনে (জাতীয় সংসদ নির্বাচনে) এখান থেকে আমরা (সংসদ সদস্য পদে) আমাদের দলীয় প্রার্থী চাই। তাছাড়া যারা বিভিন্ন লড়াই সংগ্রামে মাঠে ছিলেন এবং নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন তাদেরকে আমরা কমিটিতে চাই। যারা ঢাকা বসে রাজনীতি করেন, এলাকার সাথে সম্পর্ক নাই, লড়াই সংগ্রামে নাই, মিছিল স্লোগানে নাই, কর্মীদের বিপদ-আপদে নাই, এলাকায় মাসে একবার যান এধরণের কোন নেতাকে আমরা কমিটিতে চাই না।

 

তিনি বলেন, আমাদের সোনারগাঁয়ের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বুক ফুলিয়ে চলেন এখানে আমরা দুর্বল না। তবে আমাদের এখানে দলীয় সংসদ সদস্য না থাকায় আমরা কিছুটা অসন্তুষ্ট আছি। তবে আমরা লড়াই সংগ্রামের মধ্যেই আছি, আমরা আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। আমাদের প্রত্যাশা এবং তৃণমূল নেতাদের দাবি আমরা আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চাই। সে গরীব হোক, কিন্তু দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ, মাঠ পর্যায়ে আছেন, লড়াই সংগ্রামে থাকবেন তাদেরকে কমিটিতে নেওয়া হবে। মাদক সেবী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ঢাকায় রাজনীতি করেন তাদেরকে নেওয়া হবে না।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন