# পাঁচ বছর আগে থেকে নৌকার দাবি নেতৃবৃন্দের
# তার বক্তব্যে নেতাকর্মী কিছুটা কষ্ট পেয়েছে: কায়সার হাসনাত
ক্ষমতাসীন দল নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি বলতে মেয়র আইভী এর এমপি শামীম ওসমানকে বুঝে সকলে। রাজনৈতিক মাঠও তাই বলে। এই দুই বলয় যখন কথা বলে তখন এই শহরের রাজনীতি গরম হয়ে যায়। সেটা হোক কোন সভা বা কোন অনুষ্ঠানে। গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের ঢাকা বিভাগীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আযম গরম বক্তব্য রাখেন।
কিন্তু তার বক্তব্যের আগে জেলা উপজেলার স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে। স্থানীয় নেতাদের মুখে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নিকট একটাই দাবী উঠে তারা সোনারগাঁ ৩ আসনে আগামী নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী চান। তবে তাদের এই দাবীতে মির্জা আযমের বক্তব্যে স্থানীয় নেতা কর্মীরা আশার আলোর জায়গায় নিরাশা পান। সেই সাথে তারা হতাশ হয়ে পড়েন।
সম্মেলন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আযম বলেন, আগামী নির্বাচনে যদি ক্ষমতায় না যায় তাহলে কে প্রধানমন্ত্রী হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবে খুনি জিয়ার পুত্র তারেক। খালি এতটুকু ভাবেন সে প্রধানমন্ত্রী হলে আমাদের অবস্থা কি হবে। আগামীতে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না আসলে ২০০১ সালের চেয়ে খারাপ হবে। ২০০১ সনে শামীম ওসমানের মত নেতাকেও দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। সোনারগাঁয়ের স্থানীয় নেতাদের নৌকার দাবী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনাদের দাবীর কথা আমরা নেত্রীকে জানাবো। এখানে যেন নৌকা দেয়া হয়। তবে সোনারগাঁয়ে কিন্তু এর আগে নৌকা প্রার্থী দেয়া হয়েছে তখন নিজেরা গ্রুপিং এবং ভেদাভেদ সৃষ্টি করে নৌকাকে ডুবিয়ে দেয়ার নজির আপনাদের আছে।
আবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেয়া হবে আর আপনারা নিজেদের মাঝে গ্রুপিং করে নৌকাকে ডুবাবেন তার চেয়ে জাতীয় পার্টিকে দেয়া অনেক ভালো। কমিটি প্রসঙ্গে বলেন, সোনারগাঁয়ে এখন নতুন ট্রেডিশন শুরু হয়েছে। তা হলো মনোনয়ন বানিজ্য। কমিটিতে পদ বানিজ্য শুরু হয়েছে। পদ বানিজ্য করে কোন হাইব্রীড, চাদাঁবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসীকে কমিটিতে পদ দেয়া হয় তাহলে শেখ হাসিনার যা অর্জন আছে সকল বিসর্জন হয়ে যাবে।
এদিকে আওয়ামী লীগ নেতার এই বক্তব্য নিয়ে জাতীয় পার্টি এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা তৈরী হয়েছে। তার রাজনৈতিক বোদ্ধমহলের মতে তার এই বক্তব্যে সোনারগাঁয়ের জাতীয় পার্টির নেতা কর্মীরা ফুরফুরা মেজাজে আছেন। কেননা আগামী নির্বাচনেও এখানে জাতীয় পার্টি থাকতে পারেন তার বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত পায় জাপা। অন্যদিকে সোনারগাঁ থেকে যারা আওয়ামী লীগ থেকে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানান তারা অনেকটা হতাশা হয়ে পড়েন। অনেকটা সাপ আর রশির গল্পের মত। সারা রাত সাপ মারলো সকালে দেখে তা রশি বিষয়টা অনেকটা ওই রকম হয়ে গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ জেলার ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানিয়ে আসছেন।
বৃহস্পতিবার সম্মেলনে সোনারগাঁ-৩ আসন প্রসঙ্গে বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী তার বক্তব্যে জানান, সোনারগাঁয়ে কি ঘাটতি পরেছে যার জন্য এই আসনটি বার বার জাতীয় পার্টির হাতে তুলে দিতে হবে। নারায়ণগঞ্জের পাচঁ আসন নিয়ে দীর্ঘ দিন যাবৎ ষড়যন্ত্র চলছে। সেখানে না হয় জোহা কাকার ছেলে আছে জাতীয় পার্টি থেকে তাকে দিতে হবে। কিন্তু সোনারগাঁয়ে কেন জাতীয় পার্টি দিতে হবে। আর এমন একজন ব্যক্তি দিয়েছে যার নাম নিশানা কোন কিছু ছিলনা। তাকে ডেকে এনে এখানে জাতীয় পার্টির সাংসদ বানানো হলো। এই খানে কি আওয়ামী লীগের লোকজন নেই। আমি নেতৃবৃন্দের কাছে দাবী জানাবো এখানে নৌকা দিতে হবে নৌকা। কিন্তু জাতীয় পার্টি এখানে মেনে নেওয়া যায়না।
শহরের এক নেতার এখানে হস্তক্ষেপ করতে হবে কেন। এই মুহুর্তে নারায়ণগঞ্জ যেন এক নেতার এক দেশ হয়ে গেছে। তার হস্তক্ষেপের কারনে এখানকার নেতৃবৃন্দ নৌকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টির এমপি থাকায় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা এখানে মামলা খায় নির্যাতিত হয়। এটা মেনে নেয়া যায়না। এখানে নৌকার এমপি না থাকায় দশ বছরে তারা আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করেছে।
সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিনও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের বক্তব্যে সেই পুরনো দাবী তুলে ধরেন।তিনিও নৌকার দাবী জানান। সেই দাবী সব শেষে কেন্দ্রীয় নেতা আশার বালিতে পানি ঢেলে সব যেন এক মুহুর্তে সব কিছু তছনছ করে দিলেন। তবে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দাবী নেতা কর্মীরা হতাশ হন নাই। সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জনান কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম বলেন, সোনারগাঁয়ের যে কমিটি হয়েছে পুরোটাই একটা সাজানো ও নাটকীয়। মূলত আওয়ামী লীগকে দূর্বল করার জন্য এই কমিটি। আগে থেকেই বুঝতে পেরেছি যে কমিটি দিবে জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করার কমিটি। তিনি এক আওয়ামী লীগ নেতার বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলেন, নির্বাচন আসলে যার ৫টা কর্মী নাই তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে নৌকা ফেইল করবে এটা স্বাভাবিক।
যোগ্য ব্যক্তিকে নৌকা দেয়া হলে ফেল করে না। নতুবা সোনারগাঁ নৌকা ফেইল করার প্রশ্ন আসে না। তিনি মির্জা আযমের বক্তব্যে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তিনি বলেছেন নিজেদের আভ্যন্তরীণ দন্ধ থাকলে জাতীয় পার্টিই ভালো, আর দলীয় আভ্যন্তরীণ দন্ধ মিটিয়ে এখানে নৌকা দিলে নৌকা ডুবার কোন প্রশ্ন আসে না।
সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের নবাগত সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত বলেন, মির্জা আযম তার বক্তব্যে বুঝাতে চেয়েছেন সোনারগাঁয়ের নেতৃবৃন্দ যেন ঐক্য বদ্ধ থাকি। এখানে যেন কোন গ্রুপিং না থাকে। সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলকে সুগঠিত করে নৌকার প্রার্থী দেয়া হলে তার পক্ষে মিলে মিশে কাজ করি। তবে তার বক্তব্যে তৃণমূল নেতা কর্মী কিছুটা কষ্টতো পেয়েছে। সব কিছু দেখা যাবে আগামী নির্বাচন আসলে এখানে নৌকার প্রার্থী পায় নাকি আবার এই আসনটি ঘুরে ফিরে জাতীয় পার্টির থাকে।


