‘আজমেরী ও অয়ন ওসমান ত্বকীর খুনি’ - রফিউর রাব্বি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৪৭ পিএম
# ত্বকী হত্যার ১১৪ মাস উপলক্ষে আলোকপ্রজ্জ্বালন অনুষ্ঠান
# বিচারহীনতার ১১৪ মাস
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক ও নিহত ত্বকীর পিতা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেছেন, ‘১১৪ মাস অতিবাহিত হয়েছে, অতিবাহিত হয়েছে সাড়ে ৯ বছর। আজকে আমরা দেখছি যে শামীম ওসমানের ভাড়া খাটা কিছু সাংবাদিক, আইনজীবী তারা জজ মিয়ার নাটক মঞ্চস্থ করার পাঁয়তারা শুরু করেছে।’
আমরা একটা কথা স্পষ্ট বলতে চাই, ‘ত্বকী হত্যার পরে এই তদন্তটি পুলিশ করেছিল। পুলিশের তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ সদরের যে ওসি মঞ্জুর কাদের বলা চলে তার তদন্তে এই রহস্য উদঘাটন হয়েছে। মঞ্জুর কাদের বাংলাদেশে এখনও আছে; সে মারা যায়নি।
সুতরাং ঘটনাটি প্রকৃত ঘটনা কি সেটি না জানার কোনো কারণ নেই। র্যাবের যারা তদন্ত করেছে তারা সেই সময় থেকে, এই সাড়ে নয় বছর থেকে তাদের বিভিন্ন পদোন্নতি হয়েছে সরকার তাদের উচ্চ পর্যায়ে আসীন করেছে। র্যাবের এই জিয়াউল হাসান সেই সময় অতিরিক্ত মহা-পরিচালক ছিলেন। তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রধান আজকে সরকারের।
সুতরাং সেই সময় তারা সংবাদ সম্মেলন করে ঘাতক হিসেবে ওসমান পরিবারকে চিহ্নিত করে তারা যেই অভিযোগ পত্র তৈরি করেছে সেইটিকে ‘ফু’ দিয়ে উড়িয়ে দিবে শামীম ওসমান, আমরা দেখতে চাই তা কীভাবে করে। ত্বকী হত্যা নির্দেশদাতা হিসেবে অবশ্যই শামীম ওসমানকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং তার ছেলে অয়ন ওসমান, তার ভাতিজা আজমিরী ওসমানকে অবশ্যই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি কার্যকর করতে হবে; ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। এবং এটি আজ হোক, কাল হোক অবশ্যই কার্যকর করতে হবে। এবং কোনো ধানাই-পানাই করে নয়-ছয় করে বিচার অন্য খাতে প্রবাহিত করার যেই রেওয়াজ বাংলাদেশে হয়েছে সেটি ত্বকীর ক্ষেত্রে হবে এটি মনে করার বিন্দুমাত্র কারণ নাই ‘
তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার সাড়ে নয় বছর (১১৪ মাস) উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় আলী আহাম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তন প্রঙ্গণে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রফিউর রাব্বি আরো বলেন, আমরা ত্বকী হত্যা পরে সেই ২০১৩ সালের মার্চের ১৪ তারিখ শহিদ মিনারে বলেছি হত্যা নিয়ে সরকার বিভিন্ন খেলা খেলে। ত্বকী হত্যা নিয়ে এই খেলা খেলে লাভ হবে না। সকল হত্যাকান্ডের সমস্ত ঘটনাকে ধামা চাপা দেওয়া সব সরকারের পক্ষে সম্ভব হয় না; কোনো সরকারই পারে না।
তাই আমরা সেখানে বলি, ‘ত্বকী হত্যা সহ সাগর-রুনি, নারায়ণগঞ্জের আশিক, চঞ্চল ,মিঠু সকল হত্যার বিচার করতে হবে। বিচারের আওতায় এনে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এই অপরাধীদের তৈরি করার যে যন্ত্র, যে পৃষ্ঠপোষক, সেই ওসমান পরিবার সবাইকে আইনের কাঠগড়ায় দাড় করাতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের ত্বকী মঞ্চের আন্দোলন; নারায়ণগঞ্জের এই খুনি, সন্ত্রাসী, জল্লাদদের বিরুদ্ধে আন্দোলন। নারায়ণগঞ্জে শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্দোলন; আমরা সকল হত্যার বিচার চাই। আমরা এখনও আশাবাদী সরকার এই বিচার করবে। এবং তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।
আগামী নির্বাচন সামনে ভালো ভালো কথা বলবেন, তার প্রতিফলন সরকারের কাছ থেকে আমরা দেখতে পারবো, বলে আশা করি । নয়তো সরকার যেই ভয়াবহ পথে অগ্রসর হচ্ছে জল্লাদদের নিয়ে, এর পরিনাম ভয়াবহ হবে।
এরআগে রফিউর রাব্বি বলেন, দেশে আজকে বিচারহীনতা, কর্তৃত্ববাদী শাসন ভয়াবহ এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আজকে গণতন্ত্র,বিচার ব্যবস্থা, মানুষের মৌলিক অধিকার, ভোট দেওয়ার নূন্যতম অধিকার সমস্ত কিছুকে হরণ করা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী দেশের মানুষের সকল মৌলিক অধিকার জানমাল রক্ষার অধিকার সংরক্ষণে যারা শপথ গ্রহণ করেছিল; তারা প্রতি পদে পদে সেই শপথ ভঙ্গ করছে, সংবিধান লঙ্ঘন করে চলেছে এবং এই অবস্থার পরিপেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় দুর্বৃত্ত শক্তি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে; নারায়ণগঞ্জে ঠিক এই অবস্থারই প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শংকর রায়ের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, নিহত ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি, শিশু সংগঠক রথীন চক্রবর্তী, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ, দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক এড. মাহাবুবুর রহমান মাসুম।
এছাড়াও আরো বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি এড. প্রদীপ ঘোষ বাবু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনি সুপান্থ, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, বাসদ জেলা সদস্য সচিব আবু নাইম খান বিপ্লব, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. আওলাদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলন জেলার নির্বাহী সমন্বয়ক অঞ্জন দাস, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি মাহমুদ হোসেন ও সামাজিক সংগঠন সমমনার সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ সাহা। এন.এইচ/জেসি


