Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে দুই ভাইয়ের মাদক ব্যবসা জমজমাট

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৫০ পিএম

পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে দুই ভাইয়ের মাদক ব্যবসা জমজমাট
Swapno



ফতুল্লা শিবু মার্কেট ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পেছনে হাত বাড়ালেই মেলে নানা ধরনের মাদক। এসব কারনে দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলাধীন শিবুমার্কেট ও আজমেরীবাগসহ বেশ কিছু এলাকা। মাদকের জালে জড়াছে শিশুরাও। তারপরও নির্বিকার প্রশাসন। যেনো মাদক কেনা-বেচার মুক্তমঞ্চ।

 

 

আড়ালে নয়, প্রকাশ্যেই চলে ক্রয় থেকে সেবন। শিবুমার্কেট ও এসপি কার্যালয়ের পেছনের এলাকার এমন দৃশ্য একদিনের নয় বরং নিত্যদিনের। অভিযোগ উঠেছে, শিবু মার্কেট এলাকায় আড়াল থেকে এসব কিছুর নিয়ন্ত্রণ করছে মুন্না ওরফে গাঞ্জা মুন্না আর এসপি কার্যালয়ের পেছনে এলাকায় ইয়াবা বেচাবিক্রির নিয়ন্ত্রণ ইয়াকুব ও হোসেন নামের দুই মাদক ব্যবসায়ীর হাতে। সম্পর্কে তারা দু’জন আপন ভাই বলেও জানা গেছে।

 


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড শিবু মার্কেটের অদূরে পাঁচতলার সামনে বসবাস করে মাদক সম্ম্রট মুন্না। যার নামে ফতুল্লা মডেল থানায় রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। মুন্নার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন যুবক। যারা প্রত্যেকেই খুচরা মাদক বিক্রেতা আর মুন্না তাদের পাইকার।

 


এদিকে, এসপি কার্যালয়ের পেছনে বেশ ক’টি এলাকায় ইয়াবার সরবরাহকারী ইয়াকুব ও হোসেনের হাতে। তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বেশ ক’জন যুবক। যাদের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমান ইয়াবা সরবরাহ করে তারা দুই ভাই। এমনটাই অভিযোগ ওই এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের।

 


অন্যদিকে সূত্রের খবর অনুযায়ী, সরাসরি কুমিল্লা জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ও ফেন্সিডিল নিয়ে আসে মুন্না। এরপর তা ছড়িয়ে দেয় খুচরা মাদক বিক্রেতাদের হাতে। মাদক বিক্রি শেষে নির্ধারিত সময়ে টাকা পৌঁছে দেয়া হয় মুন্নার কাছে। আর এভাবেই প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালিক বনে গেছে শিবু মার্কেট এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মুন্না ওরফে গাঞ্জা মুন্না।

 


প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, মুন্নার কারনে বড়দের পাশাপাশি মাদকের আগ্রসন গ্রাস করেছে শিশুদেরকেও। শিবুমার্কেট ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন জেলার মানুষের আনাগোনা থাকায় মাদকের বিস্তার দিন দিন বাড়ছেই। আবার মাদক নিয়ে মুন্না ও তার বাহিনী রাতভর গোপন আস্তানায় জলসা চালায়।

 


এসপি কার্যালয়ের পেছনে বসবাসরত নাম প্রকাশে অনিছুক বেশ ক’জন জানান, দিনে-দুপুরে মাদকের চালান আনা নেয়া করে ইয়াকুব ও হোসেন। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তার বাহিনীকে সব কাজের হুকুম দেয়। বিভিন্ন পরিবহন করে আসে তাদের মাদকের চালান। নতুন কোর্ট এলাকা থেকে তা রিসিভ করে তারা দুই ভাই। আর তাদের লালিত মাদক বিক্রেতারা।

 


প্রকাশ্যেই বিক্রি করে থাকে ইয়াবা।অপর দিকে তল্লা চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় পইননার পুত সুমন ও ডলার এ দুই ভাই গরে তুলেছেন বিশাল মাদকের সাম্রাজ্য। সূত্রটি জানায়,এদের অপরাধ চক্রের সহযোগী হিসেবে রয়েছে গুলি জনি, ও এরসাদ। এ সকল অপরাধীরা একাধিক মাদক ও হত্যা মামলায় এজাহার ভূক্ত আসামি।

 


সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, অনতিবিলম্বে মুন্না, ইয়াবুক ও হোসেনসহ যারা মাদক বেচাবিক্রির সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করা দরকার। অন্যথায় খুব শীঘ্রই ধ্বংসের দিকে পুরোপুরি ধাবিত হবে শিবু মার্কেট, লামাপাড়া, স্টেডিয়াম, নতুন কোর্ট, আজমেরীবাগ, সবুজবাগসহ আশপাশের এলাকার যুবকরা।

 


এ বিষয়ে অবর্গত করা হলে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ রিজাউল হক দিপু বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। মাদক নিয়ে কোন আপোষ নেই। এই জঘন্য প্রেক্ষাপটে আমার বরাবরের মতোই জিরো টলারেন্স। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন