নেতার নির্দেশের অপেক্ষায় জেলা পরিষদের সদস্য প্রার্থীরা
আরিফ হোসেন
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৩৫ পিএম
আসন্ন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে তফসিল ঘোষনার পর থেকেই প্রার্থীরা তাদের নিজেদের অবস্থান থেকে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে সারা বাংলাদেশে ৬১ টি জেলা পরিষদের মধ্যে ১৯ জন বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলাতেও দলীয় নৌকা প্রতিক পেয়ে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ২০০১ সালে ১৬ জুন চাষাঢ়ায় বোমা হামলায় দুই পা হারানো মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি চন্দনশীল।
প্রথমে চেয়ারম্যান পদে জাতীয় পার্টির নেতা আল জয়নাল মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও মনোনয়ন জমার শেষ দিনে জমা প্রদান করেননি।আর তাতেই বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন চন্দনশীল। এবার পুরো জেলায় ৫ জন সাধারন সদস্য ও ২ জন সংরক্ষিত আসনের জন্য লড়বেন।এরই মধ্যে চেয়ারম্যানের পর ৫ টি ওয়ার্ডের দুইটিতে ৪ নং আড়াইহাজার,৫নং রুপগঞ্জ ওয়ার্ডে আনসার আলী ও মিয়া আলাউদ্দিন একক প্রার্থী হওয়ায় তারা সদস্য পদে নির্বাচিত হন।তবে এখনো ১,২ ও ৩ এবং সংরক্ষিত ১,২ সদস্য প্রর্থীরা নির্বাচনে লড়বেন।আর এতে করে সদস্য পদের জন্য কঠিন লড়াই হতে যাচ্ছে।
কিন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের ২ নং ওয়ার্ড নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর নিয়ে ১২ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। আর এই জেলা পরিষদের ২নং ওয়ার্ডে সদস্য পদে ৯জন প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন এবং ৯জন প্রার্থীই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এই ওয়ার্ডে সদস্য পদে তুমুল লড়াই হতে যাচ্ছে।এর কারন হচ্ছে এই নয়জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনই সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন এরা হলেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা হোসেন চৌধুরী,
এবং বন্দর মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালামের ভাই আলিনূর এ কারনে এই তিন জনই এগিয়ে রয়েছেন।শুধু তাই নয় এগিয়ে রয়েছেন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদলের আপন ছোট ভাই আমির উল্লাহ রতন যিনি বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েনশনের পরিচালক ও কাশীপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ পদে রয়েছেন।অন্যদিকে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সদস্য মোবারক হোসেন এবং বন্দরের ধামগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুম সহ নয়জন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।
তবে এদের মধ্যে সবাই নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সাংসদ এ কে এম সেলিম ওসমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।তাই এই ওয়ার্ডে যদি নির্বাচন হয় তাহলে কঠিন লড়াই হবে এমনটাই মনে করছেন অনেক নেতাকর্মীরা।কিন্ত একটি সূত্রে জানা যায়,যারাই প্রার্থী হয়েছেন তারা সবাই মনোনয়ন জমা দিলেও এখনো ক্লিয়ার ভাবে যাচ্ছে না তারা সবাই নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত থাকবেন কিনা।আবার অনেক প্রার্থী নেতার নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকবেন আর যদি না চান তাহলে ওনারা যাকে সমর্থন দিবে তার পাশে থেকে সহযোগীতা করবো।তাই বলা চলে এখনো ২ নং ওযার্ডের সাধারন সদস্য পদের জন্য প্রার্থীরা এখনো অনেকটা ধোয়াষার মধ্যে পার করছেন।
তবে এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও ফতুল্লা থানা স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক মনোনয়ন জমা দাখিল শেষে তিনি জানান,আমি বিগত দিনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য ছিলাম এবং আমি আমার পরিকল্পনা দিয়ে নির্বাচনি এলাকা সহ পার্শবর্তী এলাকাতে উন্নয়নের ছোয়া পরিকল্পনা ও কাজের ধরন পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছি। বিগত দিনে আমি অনেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার করে দিয়েছি,মসজিদ মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য আর্থিক সহযোগীতা সহ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করেছি।
বিশেষ করে সদরের সাতটি ইউনিয়ন ও ৫ টি ইউনিয়নে ২ নং ওয়ার্ডের আওতায় অতএত এই বিশাল বড় একটি এলাকার নির্বাচন করতে হলে সবার সহযোগীতা এবং সুস্থতা দরকার।আল্লাহর কাছে আমি শুকরিয়া জানাচ্ছি এখনো সুস্থ আছি আগামী দিনগুলোতে সুস্থ থেকে নির্বাচন করে বিজয় লাভ করতে পারি। আপনারা হয়তো জানেন বিগত দিনে করোনা দূর্যোগ কালীন সময়ে নিজের জীবনের বাজি রেখেও করোনায় নিহত ব্যক্তিদের গোসল ও দাফন সম্পন্ন করেছি।আমি সব সময়ই চেষ্টা করেছি কিভাবে আমার ওয়ার্ডের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ করা যায়।তাই আমার সকল ভোটারদের কাছে একটাই অনুরোধ থাকবে আপনারা আমাকে পূনরায় নির্বাচিত করে এই ওয়ার্ডের উন্নয়নমূলক কাজ করার সুযোগ দিন।তবে নির্বাচনের মাঠে নেমেছি শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যেতে চাই।


