# রাজনীতিতে তার ক্লীন ইমেজ
# বিরোধীদেরও চন্দন শীলে অসম্মতি নেই
বড় ধরণের কোন অঘটন না ঘটলে এবারের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি বাবু চন্দন শীল। কেননা মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন তিনি ছাড়া আর কেউ-ই মনোননয়নপত্র জমা দেননি। তাই বলা যায়, এখন বাবু চন্দন শীলকে শুধু জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা বাকি আছে।
সদা হাস্যোজ্জল এই রাজনীতিবিদ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথেও জড়িত। মাঝে মাঝেই তাকে দেখা যায় বিভিন্ন গানের আড্ডায় উপস্থিত হতে। কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার গাওয়া একটি গান সংস্কৃতির প্রতি তার গভীর অনুভূতির প্রমাণ বহন করে। তবে তার রাজনৈতিক জীবন এতটা সহজ ছিল না। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি তৎকালীণ ছাত্র লীগ নেতা বর্তমান আওয়ামী লীগ সমর্থিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের সাথে রাজনীতি শুরু করেন তিনি।
২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাঢ়ায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক বর্বরোচিত বোমা হামলায় তিনি তার দুটো পা-ই হারান। সেই ঘটনার আগে তিনি পেশাগতভাবে ব্যবসায়ী হলেও পা হারানোর পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন বলে জানান তিনি। এরপরই নতুন করে জীবন যুদ্ধে নামতে থাকে। একই সাথে এবারের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের পথটিও খুব একটা সহজ ছিল না। জেলার বাঘা বাঘা নেতারাও এই পদের জন্য দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন। নানা নাটকীয়তার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর সেসব নেতাদের হটিয়ে আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন বাবু চন্দন শীলকে।
এই বিষয়ে বাবু চন্দন শীল যুগের চিন্তাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এই মনোনয়ন দেওয়ার মাধ্যমে নেত্রী দলের তৃণমূলের কাছে একটি ম্যাসেজ পাঠিয়েছেন যে, নেত্রীর কাছে তৃণমূলের চাহিদা এখনও আছে। তিনি আরও বলেন, নেত্রী বলেছেন, ‘তৃণমূলের নেতা কর্মীরা অভিমানী হয় কিন্তু বেঈমান হয় না।’ আর তাইতো নেত্রী আমার মতো সাধারণ একজন মানুষকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন। যার ফলে সারা দেশের তৃণমূলের দলীয় নেতাকর্মীরা উৎসাহিত হবে। বুঝতে পারবে, নেত্রীর কাছে সকল ত্যাগী নেতাকর্মীরই মূল্যায়ন আছে।
অন্যদিকে জেলা পরিষদের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে দলের প্রায় সব ধরণের বলয় বা সমর্থকদের পক্ষ থেকেই তিনি অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা পেয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের মধ্যে একাধিক পক্ষ থাকলেও চন্দন শীলের বিষয়ে সবাইকে সমর্থন দিতে দেখা গেছে। এমনকি আওয়ামী লীগ বিরোধীদের এই বিষয়ে কোন প্রকার সমালোচনা করতে দেখো যায়নি। যারা আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে এই পদের জন্য দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তারাও চন্দন শীলের মনোনয়ন প্রাপ্তিতে খুশি।
সর্বোপরি গত ১৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে সদস্য পদের জন্য মোট ২৭জন প্রার্থী জমা দিলেও চেয়ারম্যান পদে চন্দন শীলের কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেও শেষ পর্যন্ত তা জমা দেননি জাপা নেতা আল জয়নাল। ১৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী বাবু চন্দন শীল মনোনয়ন পত্র দাখিল করার আগে
চন্দন শীলের পক্ষে বেলা ১১টার সময় নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাব চত্বরে একটি দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের (আড়াইহাজার) এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের (সোনারগাঁ) এমপি ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, সাবেক এমপি ও সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কায়সার, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সিনিয়র সহসভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল,
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকগণ। সেখান থেকেই তার সমর্থকেরা চন্দন শীলের সাথে জেলা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। সব কিছু মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ক্লীনম্যান হিসেবে পরিচিত বাবু চন্দন শীলের এই প্রাপ্তিতে নাখোশ হওয়ার মতো কাউকে পাওয়া যায়নি। চন্দন শীলও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদে বসতে পারলে তিনি ক্ষমতার রাজ্যে হারিয়ে যাবে না বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন।
যুগের চিন্তাকে তিনি বলেন, সবার দোয়ায় আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত হলে, এমন যেন না হয় যে, চন্দন শীল চেয়ারম্যান, তাই সব কিছু চন্দন শীল কেন্দ্রীক কিংবা চন্দন শীলময়ই হয়ে যাবে। আমি যেমন চন্দন শীল আছি তেমনি থাকতে চাই। আমার লাইফ স্টাইল সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জবাসী জানে। আমি যেন অহংকারী কিংবা লোভী না হয়ে উঠি, বিপথে না যাই। আমার নিজস্বতা, আমার সৎ পথে চলার অহংকারটা যেন হারিয়ে না যায়। নারায়ণগঞ্জের যত্রতত্র চায়ের দোকানে বসতে পারি। আমি এসবই ধরে রাখতে চাই।


