থানায় জিডি করতেও ২০০ থেকে হাজার টাকা লাগে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:৩৫ পিএম
# পুলিশেরও কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : এডি.এসপি নাজমুল হাসান
সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও প্রত্যেকটি থানায় প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে মূল ফটকের সামনেই বড় বড় করে ব্যানারে লেখা চোখে পড়ে থানায় জিডি অভিযোগ করতে কোন ধরনের টাকার প্রয়োজন হয়না। এমনকি থানায় কোন রকম সুবিধা নিতে কোন ধরনের টাকার প্রয়োজন হয় না।
বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের প্রত্যেকটি থানার ভিতরেই জিডি ,অভিযোগ বিনা টাকায় করার সুবিধা থাকলেও বিভিন্ন সময় দেখা যায় থানার বাহিরে যে সকল কম্পিউটারের দোকান রয়েছে তাদের কাছেই সাধারন মানুষেরা বেশি ঝুকছে। আর জিডি অভিযোগ করার জন্য সেবা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে দেখা যায় ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।
অনেক সময় দেখা যায় অনেক অসহায় মানুষকে এইটা নিয়ে অনেকটা সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। থানার পাশে থাকা কম্পিউটারের দোকানগুলো বিভিন্ন সময় থানার আশেপাশে ঘোরাফেরা করতে থাকে এবং থানায় প্রবেশ করার আগেই তারা তাদের কাজ থেকে জিডি ও অভিযোগ লেখানোর জন্য ডাকতে থাকে এবং তাদের কাছে এই সকল কাজের জন্য আসলেই মানুষকে বোকা বানিয়ে টাকা নিয়ে থাকে।
আবার থানার ভিতর তারা পুলিশকে ম্যানেজ করে থাকে যার জন্য কেউ থানার ভিতরে জিডি কিংবা অভিযোগ করতে গেলে তারা বাহিরে কম্পিউটারের কাছ থেকে করে আনতে বলে।আর এর সত্যতা জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানায় গেলে দেখা গেটের সামনেই বড় করে লেখা থানায় কোন সুবিধা নিতে কোন রকম টাকা লাগেনা তবে বাস্তবে তার কোন মিল নেই।
যারাই জিডি অভিযোগ করতে আসে তারা বাহিরের কম্পিউটারের দোকান থেকে টাকার বিনিময়ে করে আনে। আর এতে করে দেখা যাচ্ছে সাধারন মানুষের জন্য প্রশাসনের যে সুযোগ সুবিধা আছে সেটা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘থানায় অভিযোগ করতে আসলে ভুক্তভোগীদের আগে থেকেই কিছু দালালরা থানার আশেপাশে অবস্থান করে এবং কেই আসলেই তারা তাদের দোকনে নিয়ে যায় এবং অভিযোগ লেখা শেষ হলে তারা বেশি টাকা দাবি করে থাকে পড়ে তাদের দাবিকৃত টাকা দিয়েই সেখান থেকে বের হওয়া লাগে।’
এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) নাজমুল হাসান জানান, ‘পুলিশের কাছ থেকে কোন ধরণের সুবিধা নিতে টাকা লাগে না। আগে হয়তো এই সমস্যাটা ছিলো জিডি কিংবা অভিযোগ করতে টাকা নিতো এমন অভিযোগ থাকলেও আমি যতটা জানি এখন কোন ধরনের টাকা নেওয়া হয় না।
আর আমরা যদি কোন ধরনের এমন অভিযোগ পাই কারো কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে; তাহলে সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে যদি আমাদের পুলিশের কর্মকর্তাও হয় তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তবে এ বিষয়ে সুশীল সমাজের মানুষেরা মনে করছেন প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকলে থানার আশেপাশে থানা যে সকল দালালেরা ঘোরাফেরা করে মানুষকে বিভ্রান্তি করে তারা এই সাহস পাবে না এবং পুলিশের যে সকল সুবিধা রয়েছে সেটা তারা টাকা ছাড়াই নিতে পারবে।আর এতে করে প্রশাসনের সুনাম আরও বৃদ্ধি পাবে। পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বেগবান হবে। এন.এইচ/জেসি


