# যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা : শিক্ষিকা মুক্তি রায়
# প্রায় ১০ বছর ধরে মামলা চলছে : মাহবুবুল আলম।
# আমরা চেষ্টা করছি : শিক্ষা অফিসার
ক্লাস রুমের ছাদ বাঁশ দিয়ে ঠেক দেওয়া। দেয়াল ও সিঁড়ি ভিমের বিভিন্ন অংশে ফাটল। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুঁইয়ে ক্লাস রুমে পড়ছে পানি। অনেক সময় পলেস্তারা খসে দেখা যাচ্ছে রড, যা খসে পড়ছে বাচ্চাদের উপরে। এতে পাঠদান চলাকালে তারা আতঙ্কে থাকে। বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে চিন্তিত থাকেন তাদের মা-বাবারাও। যে কোন সময় ঘটতে পারে একটি দুর্ঘটনা।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করর্পোরেশন এর ১৪ নং ওয়ার্ড দেওভোগ আখড়ায় ২৬ ও ২৭ নং লক্ষীনারায়ণ বালিকা সরকারী বিদ্যালয়ের দুইতলার ছাদ ভুমিকম্পে ফাটল দেখা দিলে সেখানে বার্শ দিয়ে ঠেক দিয়ে রেখেছে তার মধ্যে জীবন ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে ছোট বাচ্চারা।
জানা যায়, ভুর্মিকম্পে ক্লাস রুমের দেয়ালে ফাটল দেখা দিলে সেখান থেকে বাচ্চাদের সরিয়ে পাশের রুমে নিয়ে ক্লাস করানো হচ্ছে তাদের। কয়েকবার ছোট বাচ্চাদের সামনে উপর থেকে পলেস্তারা খসে টেবিলের উপরে পরে।
২৬ ও ২৭ নং লক্ষী নারায়ন বালিকা সরকারী বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা বলেন, আমরা অনেক দিন ধরে এমনি স্কুলে ক্লাস করছি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। যে কোন সময় হঠাৎ ঘটতে পারে একটি দুর্ঘটনা।
বিদ্যালয়ের জায়গা নিয়ে মামলা চলছে অনেক দিন ধরে তাই নতুন ভবন নির্মাণ করতে পারছে না। আমাদের বিদ্যালয়ে অনেক ধরনের সমস্যায় পরতে হচ্ছে। আর বৃষ্টির দিনের তো আরো বেশি কারণ সব দিক দিয়ে পানি এসে নাজেহাল অবস্থা হয়ে যা আমাদের ও স্কুলে সকল বাচ্চাদের।
লক্ষী নারায়ন বালিকা সরকারী বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম চঞ্চল বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার জাহানারা ম্যাডামের কাছে লিখিত ভাবে জানিয়েছি তারা বলছে আমাদের কিছু করার নাই আমরা কি করবো। যত দিন মামলা চলবে ততদিন আমাদের কিছু করা নাই। প্রায় ১০ বছর ধরে বিদ্যালয়ের জায়গা নিয়ে মামলা চলছে।
আমি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ এর সাথে দেখা করেছি। তিনি বলছেন আমি বিষয়টা দেখছি তার পরেও এখনো কিছু করে নাই। মামলাটি নারায়ণগঞ্জ দায়রা জজ কোর্টে এখনো চলমান রয়েছে। সরকারি ভাবে বিদ্যালয় করার জন্য ৩ শতাংশ জায়গার প্রয়োজন হয় কিন্তু আমাদের দুই পাশের জায়গা দখল করে ফেলায় আমরা কিছু করতে পারছিনা। যদি কোন রকমের দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে আমার কিছু করার থাকবেনা।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার জাহানারা বলেন, আমি তাদের কাছ থেকে বিদ্যালয়ের বিষয়ে জানতে পেরেছি। সেটার জন্য মন্ত্রণালয়ে এ চিঠি দিয়েছি তার পরেও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল স্যার এর সাথে কথা হয়েছে সে বলছে আমরা বিষয়টি দেখছি। যাতে তাড়াতাড়ি কিছু করা যায়। এর আগে স্কুল নতুন করে করার জন্য বিল পাশ হলেও জায়গা নিয়ে মামলা চলায় সেটা আবার ফিরত চলে যায়। তাই এখনো এটার কাজ করা যাচ্ছেনা।


