আইজিপি বেনজির আহমেদকে অবসর প্রদানে প্রজ্ঞাপন
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৩৯ পিএম
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজির আহমেদকে অবসর প্রদানের চিঠি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ড. বেনজির আহমেদ বিপিএম (বার) পুলিশ মহাপরিদর্শক , পুলিশ অধিদপ্তর ঢাকাকে ৩০/০৯/২০২২তারিখে ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৭নং আইন) এর ধারা ৪২ (১) (ক) অনুযায়ী সরকারি চাকরি হতে অবসর প্রদান করা হল। তার অনুকূলে ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ ল্যাম্পগ্রান্টসহ চলতি বছরের ১ অক্টোবর হতে ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ বছরের অবসর ও অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) মঞ্জুর করা হল। তিনি বিধি অনযায়ী অবসর ও অবসরোত্তর ছুটিকালীন সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন।
পুলিশকে জনগণের প্রথম ভরসাস্থল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে ‘চেঞ্জ মেকার’ হিসেবে ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড. বেনজীর আহমেদ। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের ৩৭তম আইজিপি। আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরই ড. বেনজীর স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক পুলিশি ব্যবস্থা গড়ার লক্ষ্যে পাঁচ মূলনীতি ঘোষণা করেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, মাদক নির্মূল, অমানবিক ও অপেশাদার আচরণ বন্ধ করা ও পুলিশের সার্বিক কল্যাণ- এই পাঁচ বিষয় যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য তিনি সকল পুলিশ কর্মকর্তা ও ফোর্সকে নির্দেশনা প্রদান করেন। ড. বেনজীর আহমেদ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিটি শাখার জন্য সুনির্দিষ্ট এওআর প্রণয়ন এবং কর্মবণ্টন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সকল সদস্যদের জন্য একই সিরিয়ালের (০১৩২) মোবাইল ফোন নম্বর চালু করেছেন।
পুলিশের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সারাদেশকে ৬ হাজার ৯১২টি বিটে ভাগ করে প্রতি বিটে একজন কর্মকর্তা পদায়নের মাধ্যমে বিট পুলিশিং কার্যক্রম চালু করেন ড. বেনজীর।
আইজিপির নির্দেশে পুলিশের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতা দূর করতে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা হয়। পুলিশের পদোন্নতি পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে গ্রহণের যুগান্তকারী সিদ্ধান্তও নেন তিনি।
বেনজীর আহমেদ প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন, যুগোপযোগী সিলেবাস প্রণয়ন, মডিউল তৈরি ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ করেন। কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজি পর্যন্ত সব পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের জন্য বছরে অন্তত একবারের জন্য হলেও বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন।
তিনি জনগণকে উন্নত পুলিশি সেবা প্রদানের জন্য হ্যান্ডস ফ্রি পুলিশিং চালু করতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের জন্য টেকটিক্যাল বেল্ট চালু করেন। এর ফলে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যরা হ্যান্ডস ফ্রি রেখে জনগণকে উন্নত সেবা দিতে সক্ষম হচ্ছে।
নারীরা যাতে সাইবার বুলিংয়ের শিকার না হন, এ লক্ষ্যে নারীদের জন্য নিরাপদ সাইবার স্পেস নিশ্চিত করতে ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ ফেসবুক পেজ চালু করা হয়েছে। কোনো নারী সইবার বুলিংয়ের শিকার হলে তিনি সহজেই এ পেইজের মাধ্যমে প্রতিকার পাচ্ছেন। প্রতিটি থানায় চালু করা হয়েছে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক।


