সিমেন্ট শীটের শেডে ডিমের উৎপাদন বেড়েছে ৬ গুণ, স্বপ্নপূরণ রাকিবের
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:১১ পিএম
অত্যাধুনিক লেয়ার মুরগির খামার করে সফল হয়েছেন নরসিংদী এর শিবপুর এলাকার খামারি সাবেক মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী রাকিব খান। জীবনের নানা চড়াই উতড়াই পেরিয়ে অবশেষে নিজের স্বপ্নপূরণে হয়েছেন সফল। লিবিয়া থেকে দেশে ফিরে সফল খামারিদের পরামর্শে সিমেন্ট শীট দিয়ে খামার গড়ে তোলার পর থেকে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে খামারের আয়তন। দিন দিন লাভবান হতে শুরু করেন।
বর্তমানে তিনি নরসিংদি এলাকায় একজন সফল খামারি হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন। আলাপকালে খামারি রাকিব খান বলেন, পড়াশোনা শেষে জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমাই মধ্যপ্রাচ্যে কিন্তু ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিলো খামারি হবার, মাটির টানে মাটির কাছে থাকার। তাই লিবিয়ার বেনগাজি শহরে একটি জার্মান কোম্পানিতে কর্মরত অবস্থায় কাজ শেষে ছুটে যেতাম বাসার পাশের একটি পোলট্রি খামারে। আলাপচারিতা হতো লিবিয়ান খামারিদের সাথে। আমার সাথে কর্মরত অন্য বাঙ্গালী ভাইয়েরা যখন কর্মব্যস্ত দিনশেষে বিশ্রাম নিতো, আমি থাকতাম মুরগির খামারে। আলাপচারিতায় জানতে পারি বেনগাজির বেশিরভাগ মুরগির শেড সিমেন্ট শীট দিয়ে তৈরি।
রাকিব খান বলেন,আমি ওই সব খামারিদের জিজ্ঞেস করলাম ভাই, সিমেন্ট শীট দিয়ে শেড করেছেন কেন? উত্তরে তারা বলেন, লিবিয়ায় প্রচন্ড তাপে টিনের তৈরি শেডে মুরগির মৃত্যুর হার অনেক বেশি। তাই হীটস্ট্রোকে মুরগির মৃত্যুহার কমাতেই শেডে ব্যবহৃত হয় সিমেন্ট শীট। সিমেন্ট শীট ব্যবহারে গরমে মুরগির ঘর ঠান্ডা আর শীতে গরম থাকে। তাছাড়া মুরগির ঘরে লিটারের একটা গ্যাস বের হয়। এই গ্যাসের কারণে সাধারণ টিনগুলোয় দ্রুত মরিচা ধরে। কিন্তু সিমেন্ট শীটে যুগ যুগ চলে যায়, মরিচা ধরে না। এছাড়াও আরও অনেক সুবিধা আছে। তিনি বলেন, আমিও সিদ্ধান্ত নেই যে, দেশে ফিরে তাদের মতো করে সিমেন্ট শীট দিয়ে নিজের স্বপ্নের খামার তৈরি করবো।
তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে দীর্ঘ বারো বছরের প্রবাস জীবন শেষে আমি দেশে ফিরি নিজের খামার শুরুর স্বপ্ন নিয়ে। দেশে এসে টিভি বিজ্ঞাপন দেখে আনোয়ার শীট এর খোঁজ পাই। ২০১৮ সালে আমি আনোয়ার শীট দিয়ে মুরগির শেড তৈরি করি। আনোয়ার শীটে শেড করায় গরমে শেডটা অনেক ঠান্ডা থাকে। আর শেড যদি ঠান্ডা থাকে, মুরগি খাবার খায় ঠিক মতো। এর ফলে মুরগির ডিমের উৎপাদনও বেড়ে যায়। হীটস্ট্রোকে মৃত্যুহার অনেক কমে যায়।
২০১৮ সালে আমি শুরু করেছিলাম ২ হাজার লেয়ার মুরগি দিয়ে। এখন আমার ১০ হাজার লেয়ার মুরগি আছে। প্রডাকশনে আছে ৯ হাজারে’র বেশি। এতে আমার প্রতিদিন ডিম আসে ৮ হাজারের মতো। সাধারণ সি আই শীটের শেডে একটি লেয়ার মুরগি পঁচাত্তর সপ্তাহ ডিম দিলেও আনোয়ার শীটের শেডে একটি মুরগি থেকে ডিম পাই পঁচানব্বই থেকে একশ সপ্তাহ পর্যন্ত।
রাকিব খান জানান, মাঝে অতিরিক্ত যে গরমটা গেলো আনোয়ার শীট লাগানোর কারণে আমার একটা মুরগিও মারা যায় নি, কোনো সমস্যা হয় নি। এছাড়াও আনোয়ার শীটের শেডে রাখলে মুরগির অসুখ বিসুখ অনেকখানি কমে যায়, ফলে ঔষধ ও ভ্যাকসিন খরচ কমে যায় ৩০% পর্যন্ত এবং লাভের পরিমাণ বেড়ে যায়। এ খামারি নতুন ও তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি নতুন ও তরুণদের উদ্দেশ্যে এ কথাটাই বলতে চাই, আপনারা আনোয়ার শীট দিয়ে খামার করেন। যেহেতু আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, আমার খামারে মুরগি ভালো আছে আপনাদের মুরগিও ইনশা’আল্লাহ ভালো থাকবে। মুরগি যদি ভালো থাকে তাহলে ব্যবসাও সফল হবে।


